‘We Are Not Afraid’: Women Defy Threat from Banned Chhatra League Leader
নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নেতা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ক্ষমতায় আসুক বা না আসুক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে অংশগ্রহণকারী নারীদের জীবন “সারাজীবনের জন্য হেল” করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মো. আবু সাঈদ কনক মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ হুমকি দেন। ছাত্রলীগের এই নেতা তার পোস্টে লিখেছেন, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই তিনি এটি করবেন।
পোস্টে তিনি লিখেন, “ক্ষমতায় আসি বা না আসি দীপ্তি চৌধুরী, মনিরা শারমিন, দিলশানারা, তাজনুভা জেবিন, তাসনিম জারা, রাফিয়া, নোভা, পাবনার একটা নারী সমন্বয়ক এইরকম যত নারী রয়েছে তাদের লাইফ সারাজীবনের জন্য হেল করা হবে। এইখানে কোন ইফ অ্যান্ড বাট নেই। এতে আমার ইমেজের বারোটা বাজলে বাজবে। নেক্সট যেই ইলেকশানে পার্টিসিপেট তার আগে এইটা করব প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে এরপর জনগণের কাছে ম্যান্ডেট চাইবো।এই ঘোষণার পরেও জনগন ম্যান্ডেট দিলে দিবে না দিলে নাই। মিথ্যা সুশীল সেজে এরপর ক্ষমতায় এসে কিছু করব না। আগেই বলে কয়ে ম্যান্ডেট চাইবো। কাদের মাফ করতে হবে আমরা জানি। নারী হিসবে কতটুকু করতে হবে এবং কাদের প্রতি উদারতা দেখাইতে তা আওয়ামী লীগের চেয়ে ভাল আর কেউ জানে না। পিরিয়ড।”
হুমকির বিষয়ে কী বলছেন এসব নারীরা
ইতালির ভেনিসে নিষিদ্ধ ছাত্র লীগ ও আওয়ামী লীগের আক্রমণের শিকার হওয়ার পর ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেছেন তাকে দমানো সহজ হবে না।
দ্য ডিসেন্টের সাথে আলাপ কালে একই সুর উচ্চারিত হলো ছাত্রলীগ নেতার হুমকি পাওয়া অন্য নারীদের মুখেও। প্রত্যেকেই বলেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এসব হুমকিতে তারা ভীত নন।
হুমকির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন দ্য ডিসেন্টকে বলেন, সত্যি কথা বলতে, শুরুতে, মানে একদম জুলাইয়ের পরপর হয়তো এটা মানসিকভাবে একটু কাবু করার চেষ্টা করত। কিন্তু এখন যখন দুই বছর পর ফিরে তাকাই, আমার কাছে মনে হয়, এই হুমকিগুলো, এই গালিগালাজ, এই সাইবার বুলিং, এই আক্রমণ—এগুলো আমাদের আসলে অনেক বেশি শক্তিশালী করে। যেমন, গতকাল বাঁধনের পক্ষে আমি পোস্ট দেওয়ার পর থেকে রাত সাড়ে তিনটার পর থেকে আমি কন্টিনিউয়াস বট আক্রমণের মধ্যে আছি। এখন তো আওয়ামী লীগের একদম পোস্টেড সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যরা প্রকাশ্যে অনেকটা দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, লাইফ হেল করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তো এগুলো বলে আমাদের দমানো যাবে না। যাবে না মানে যাবেই না। আসলে আমরা যখন এখানে চলে এসেছি, বা এখানে আমরা যে প্রবেশ করছি রাজনীতিতে, বা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা যে কয়েকজন চলে এসেছি, আমার মনে হয় না এখান থেকে কেউ আর কোনোদিন—আমি নারীদের কথাই বলছি—পিছপা হবে।”
তাজনূভা আরও বলেন, “এই ধরনের আক্রমণ আমাদের আসলে আরও বেশি সংগঠিত করে, আমাদের মনোবল দৃঢ় করে, আমাদের ফোকাসড করে যে লক্ষ্যে আমরা এসেছি, সেই লক্ষ্যে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, এদের আক্রোশটা কিন্তু নতুনদের ওপর। আমি জুলাইয়ে কারও অবদান খাটো করে দেখতে চাই না, কোনো এক্সিস্টিং বা আগের রাজনৈতিক দলের। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনে করে, তাদের পতন এই নতুনদের কারণেই হয়েছে। ১৭ বছর ধরে তারা টিকে থাকতে পেরেছে, কারণ তাদেরকে পুরোনো কোনো শক্তি এককভাবে ফেলতে পারেনি। একটা নতুন শক্তির আবির্ভাব হয়েছে এবং তাদের কাছেই তারা সব ধরনের হিসাব-নিকাশে পরাস্ত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং তাদের আজীবন শত্রু বা তারা আমাদেরকেই অপজিশন মনে করে।”
আওয়ামী লীগ কখনো গণতান্ত্রিক দল ছিলো না দাবি করে তিনি বলেন, “তারা কখনো গণতান্ত্রিক দল ছিল না। কিসের গণতান্ত্রিক দল ছিল? এগুলো সবই ছিল শো-অফ তাদের। মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ব্যবসা করা, তারা সেক্যুলার, তারা নারীদের পক্ষে কথা বলা—এগুলো ছিল তাদের খোলস টিকিয়ে রাখার, স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার উইপেন। এরকম যদি হতো, তারা যদি নারীশক্তিতে বিশ্বাস করত, তারা যদি উইমেন এমপাওয়ারমেন্টে বিশ্বাস করত, তারা একজন নারী নেত্রী—এই এক হাসিনার পতনের পর পুরো দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ওরা কখনো গণতান্ত্রিক দল না। এটা একটা উগ্রবাদী, একটা ফ্যাসিস্ট দল। এদের আর কোনো পরিচয় এখন এই মুহূর্তে হতে পারে না।”
জুলাই অভ্যুত্থানের আরেকজন সম্মুখসারির নারী সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) । তাকে এসব হুমকির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এই বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই বলে জানান। তবে তিনি বলেন, “এসব হুমকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে আমার একমাত্র ভাবনা হলো—তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ।”
সাংবাদিক ও উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী বলেন, “এটা তো একটা দীর্ঘদিনের বিষয়। আমার পেইজে, কমেন্ট বক্সে হাজার হাজার হুমকি। প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। আমাকে হত্যার হুমকি, ধর্ষণের হুমকি, এআই দিয়ে আমার ন্যুড ছবি বানিয়ে পোস্ট, ফ্যামিলি নিয়ে গালিগালাজ, আমার চেহারা, বয়স, স্বামীকে নিয়ে। আমার প্রাইভেট নাম্বারটা পর্যন্ত ওরা ফাঁস করেছে। নিউইয়র্ক ছাত্রলীগের স্বপ্নীল নামের একজন আমার নাম্বার ভাইরাল করে বলেছে যার ইচ্ছা যেন খায়েশমত আমাকে বলে।”
ভীত নন জানিয়ে এই সাংবাদিক বলেন, “হেন কোন চেষ্টা নাই ওরা করেনি আমাকে ভেঙে দেয়ার জন্য। কিন্তু এসবে ভেঙে পড়ার কোন কারণ নাই। শুধু খারাপ লাগে ওদের এত অধঃপতন দেখে, সমাজের এত অধঃপতন দেখে। ওরা তো মানুষের পর্যায়ে নাই আর। আমি কী করেছি? আমি শুধু আমার কাজটা করেছি আর জুলাইয়ে একটা নৈতিক অবস্থান নিয়েছি।”
অবশ্য আক্রমণের শিকার নারীদের পাশে খুব বেশি মানুষকে দেখা যায় না বলে হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি। দীপ্তি বলেন, “বাঁধন আপুর সাথে যা হয়েছে সেটা তো তারা হুমকি দিয়ে আসছিলো। এখন তারা সেটা করে দেখাচ্ছে। কেউ ভিক্টিম হওয়ার আগে তো কারো কোন মাথাব্যথা নাই। আমি যে এত আক্রমণের শিকার হচ্ছি, না ইন্টেরিম সরকার, না এই সরকার, না আমার প্রতিষ্ঠান আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আর ইউ ওকে? পলিটিকাল ওমেনরা আক্রমণের শিকার হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের দল আছে। কিন্তু আমরা যারা প্রফেশনাল আমাদের পাশে তো কেউ নেই। ওসমান হাদিকে ওরা মেরে ফেললো। কিছু একটা করার পর সরব হলে তো লাভ নাই।”
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া বলেন, “জুলাইতে আমরা যখন রাস্তায় নেমেছি তখন তো আমরা জানতাম না আওয়ামী লীগ পড়ে যাবে, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে৷ তবুও তো আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। তখন আমরা ভয় পাইনি। আর এখন যখন ওরা পলাতক তখন তো ওদের গা করার কারণ নাই। আমরা ওদের এসব হম্বিতম্বিতে মোটেই ভীত নই।”
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এরকম হুমকি তো রেগুলার পাই। ইনবক্সে, হোয়াটসঅ্যাপে, কমেন্টে। যারা জুলাই আন্দোলন দেখেছে, আওয়ামী লীগের চরিত্র সম্পর্কে জানে তাদের তো ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই। আমরা ভয় পাইও না। শুধু আমি না, যাদের নাম উল্লেখ করা হইছে এদের কেউই ভয় পায় না, এখানে একজনও এমন চিকেন হার্টেড না। তবে আমাদের পরিবার এসব দেখলে শকড হয়।”
কে এই ছাত্রলীগ নেতা কনক
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মো. আবু সাঈদ কনক ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আলোচিত একটি নাম। কনক ইতিপূর্বে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ফেসবুক মন্তব্য করেন বুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। এর জের ধরে কনকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষককে তার অফিসে মারধর করে ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আবু সাঈদ কনক ও বুয়েট ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে।