Why do people engage in mob violence?

18 October 2026

সাতক্ষীরার দেবহাটায় চিকিৎসকের চেম্বার থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়েছিল ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও সেখানে ‘তৌহিদি জনতা’ আবার হামলা চালায়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৩ই অক্টোবরের এই ঘটনার আগে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে মানুষকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি। একটি রেকর্ডিং শুনিয়ে তিনি বলেন, শামীমের “বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই”।

পরে চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে থেকে আরেকটি লাইভে শামীমের অবস্থান জানান তিনি। তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে নিজেরাই শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন। চেম্বার ঘেরাও করে রাখার আহ্বানও জানান, যাতে তাকে সরিয়ে নেওয়া না যায়।

যে রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ছড়িয়েছিল, সেটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি দ্য ডিসেন্ট। আমিনীও দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, অভিযোগটি তিনি নিজে সেভাবে যাচাই করেননি। শামীমের পরিবার জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির সমর্থনে পোস্ট দেওয়া হয়। আমিনী নিজেও দ্য ডিসেন্টকে বলেন, তিনি অনুতপ্ত নন, বরং গর্বিত।

একটি অভিযোগ প্রচার থেকে লোক জড়ো করা, চিকিৎসাধীন ব্যক্তির ওপর হামলা এবং মৃত্যুর পর তা উদযাপন—এই ঘটনাপ্রবাহ মব সহিংসতায় মানুষের অংশগ্রহণের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণগুলো সামনে এনেছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই নয় মাসে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ১৭১ জনের। আগের বছরের একই সময়ে এই মৃত্যু সংখ্যা ছিল ১৫২ জন।

মবে মৃত্যুর সংখ্যা

মবে মৃত্যুর সংখ্যা

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, বাংলাদেশে মব সহিংসতা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা বেড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রতিশোধের প্রবণতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতাকে এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

অযাচাইকৃত অভিযোগ কীভাবে জনতার ‘রায়ে’ পরিণত হয়?

শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়ানোর পর ফেসবুক লাইভে তাকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে তার অবস্থান জানিয়ে লোকজনকে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সামনে চলে আসে শাস্তি দেওয়ার দাবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম রেজাউল করিমের বলেছেন, “আবেগঘন তথ্য, গুজব ও ভুল ধারণা মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের আবেগ উসকে পরিকল্পিতভাবেও একটি মব তৈরি করা সম্ভব।”

চুরি, ছেলেধরা কিংবা ধর্ম অবমাননার মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিচিত কারও বক্তব্য, একটি অডিও বা ভিডিও এবং অনেক মানুষের একই দাবি অভিযোগটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করাতে পারে। কিন্তু একই দাবি বহু জায়গায় প্রচারিত হওয়া এবং একাধিক উৎস থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া এক বিষয় নয়। অনেক মানুষ একই অযাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারেন।

শামীমের ঘটনায় আমিনী বলেছেন, তথ্যদাতারা নিহতের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তিনি তাদের বিশ্বাস করেছিলেন। অভিযোগটি নিজে সেভাবে যাচাই করেননি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক সহিংসতা নিয়ে Violence originated from Facebook: A case study in Bangladesh শীর্ষক গবেষণাতেও অনলাইনের তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতির বিষয়টি এসেছে। গবেষণায় ফেসবুক পোস্ট ও সংশ্লিষ্ট গুজব কীভাবে বাস্তব সহিংসতা উসকে দেওয়ার হাতিয়ার হয়েছে, তা আলোচনা করা হয়েছে।

এর একটি উদাহরণ ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা। ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ানোর পর বৌদ্ধবিহার ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।

উত্তেজিত পরিস্থিতিতে অভিযোগের পক্ষে সমর্থন বাড়তে থাকলে প্রমাণ চাওয়া বা ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকেও অভিযুক্তের পক্ষ নেওয়া হিসেবে দেখা হতে পারে। তখন তথ্য যাচাইয়ের চেয়ে কে কোন পক্ষে আছেন, সেটিই প্রধান হয়ে উঠতে পারে।

অনলাইনে পাওয়া সমর্থন পরবর্তী আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, অনলাইনে নৈতিক ক্ষোভ প্রকাশের পর ইতিবাচক সামাজিক প্রতিক্রিয়া পেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশের প্রবণতা বাড়ে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের অনলাইন নেটওয়ার্কে প্রচলিত প্রকাশভঙ্গির সঙ্গেও খাপ খাইয়ে নেন। 

হামলার ভিডিও বা হত্যার সমর্থনে পোস্ট ছড়ালে সেগুলো ঘটনার প্রমাণের পাশাপাশি সহিংসতার পক্ষে সামাজিক সমর্থনের বার্তাও বহন করতে পারে।

দলের মধ্যে ব্যক্তির দায়বোধ

ড. রেজাউল করিম মব সহিংসতার একটি কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা কমে যাওয়ার মানসিকতার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি যখন বড় একটি দলের মধ্যে থাকেন, তখন তার মনে হতে পারে যে কোনো কাজের দায় তার একার ওপর পড়বে না। দলগত অবস্থান তাকে এমন কাজেও সাহসী করে তুলতে পারে, যা একা করতে তিনি দ্বিধা করতেন।”

মনোবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে দায়িত্ব ছড়িয়ে পড়া বা ‘ডিফিউশন অব রেসপনসিবিলিটি’ বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট বান্দুরার গবেষণায় দেখানো হয়েছে, মানুষ কখনো দলের মধ্যে দায়িত্ব ছড়িয়ে দিয়ে অথবা অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে নিজের ক্ষতিকর আচরণ সম্পর্কে অপরাধবোধ এড়িয়ে যেতে পারে। 

মব সহিংসতায় কেউ প্রথম আঘাত করেন, কেউ পরে যোগ দেন, কেউ আক্রান্ত ব্যক্তিকে আটকে রাখেন। আবার কেউ সরাসরি আঘাত না করেও অন্যদের উৎসাহিত করেন।

প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা হলেও দলগত অবস্থায় একজন নিজের অংশগ্রহণকে সামান্য বলে মনে করতে পারেন। অন্যদের কাজের তুলনায় নিজের কাজকে ছোট করে দেখার সুযোগও তৈরি হয়।

তবে পরিচয় গোপন থাকবে—এমন ধারণাই সব ক্ষেত্রে প্রধান কারণ নয়। প্রকাশ্যে সহিংসতায় অংশ নেওয়া এবং পরে তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেখানে গোষ্ঠীর সমর্থন ও সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গোষ্ঠীর পরিচয় যখন প্রাধান্য পায়

ফরাসি চিন্তাবিদ গুস্তাভ লে বঁ তার ১৮৯৫ সালের The Crowd: A Study of the Popular Mind গ্রন্থে জনতার মধ্যে ব্যক্তির আচরণ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তার ব্যাখ্যায়, জনতার অংশ হয়ে একজন ব্যক্তি সম্মিলিত শক্তির অনুভূতি পান এবং অন্যদের আবেগ ও আহ্বানে প্রভাবিত হতে পারেন।

তবে ভিড়ে গেলেই মানুষ বিচারবোধ হারিয়ে ফেলে—জনতার আচরণ নিয়ে গবেষণায় এমন ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট মনে করা হয় না।

শামীমের বিরুদ্ধে লোক জড়ো করার আহ্বানে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। তাকে শাস্তি দেওয়ার দাবিকে ধর্মীয় কর্তব্যের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। তবে এই পরিচয় ধর্মীয়, রাজনৈতিক, জাতিগত কিংবা এলাকাভিত্তিক হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ একটি গোষ্ঠীর বিশ্বাস বা মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। সহিংসতায় যোগ দেওয়াকে তখন কেউ গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের উপায় মনে করতে পারেন।

আবার বিরোধিতা করলে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

দলগত পরিচয় অবশ্য নিজে থেকে সহিংসতা তৈরি করে না। একই পরিচয়ে সংগঠিত মানুষ কাউকে উদ্ধার করতে বা সহিংসতা ঠেকাতেও এগিয়ে আসতে পারেন। নেতৃত্ব ও দলের মধ্যে কোন আচরণ সমর্থন পাচ্ছে, সেটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সহিংসতাকে ‘কর্তব্য’ হিসেবে দেখা

মব সহিংসতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি সব সময় নিজের কাজকে অন্যায় হিসেবে দেখেন না। কেউ মনে করতে পারেন, তিনি সমাজকে রক্ষা করছেন বা একটি অন্যায়ের প্রতিকার করছেন।

শামীমকে হত্যার পর আমিনী দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, তিনি অনুতপ্ত নন। নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও দায়িত্বের কথা তুলে ধরে তিনি ঘটনার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

মনোবিজ্ঞানী বান্দুরা ক্ষতিকর আচরণকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার এই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন ‘মোরাল ডিসএনগেজমেন্ট’ ধারণার মাধ্যমে।

এর মধ্যে রয়েছে সহিংসতাকে মহৎ উদ্দেশ্যের কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা, ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা এবং তার কষ্টের গুরুত্ব কমিয়ে দেখা।

কাউকে মারধরের পরিবর্তে ‘উচিত শিক্ষা’ বা ‘শাস্তি’ দেওয়ার কথা বলা হলে আঘাতের বাস্তবতা ভাষার আড়ালে চলে যেতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগটিই তখন তার প্রতি সহমর্মিতা প্রত্যাহারের যুক্তি হয়ে ওঠে।

এই প্রক্রিয়ায় একজন অংশগ্রহণকারী মনে করতে পারেন, তিনি অপরাধ করছেন না; বরং দায়িত্ব পালন করছেন। সহিংসতার পর অনুতাপের বদলে আত্মপক্ষসমর্থন বা গর্ব প্রকাশের আচরণ বুঝতে এই ধারণা ব্যবহার করা হয়।

বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা

মব সহিংসতার পেছনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার সংকটের কথাও বলেছেন ড. রেজাউল করিম।

তার মতে, মানুষ দীর্ঘদিন মনে করতে থাকলে যে প্রশাসন বা বিচারব্যবস্থার কাছে গিয়ে প্রতিকার পাওয়া যাবে না, তখন নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

“যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর মানুষ যখন দেখে যে, সে ট্রাস্ট করতে পারছে না কোথাও, কাউকে। তখন মব হয়। কারণ তাদের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয় যে বিচার চেয়ে কী হবে? বিচার চেয়ে কিছু হবে না,” বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলামও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যর্থতাকে মব সহিংসতার কারণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রয়োজন।

তবে বিচার পেতে অনাস্থা এবং অভিযুক্তকে নিজেদের নির্ধারিত শাস্তি দেওয়ার দাবি আলাদা বিষয়। কোনো ঘটনায় অভিযোগের তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই প্রত্যাখ্যান করা হলে সেখানে জনতার সিদ্ধান্ত বিচারপ্রক্রিয়ার জায়গা নিয়ে নেয়।

সংগঠিত স্বার্থ ও রাজনৈতিক ব্যবহার

মব সহিংসতার সব ঘটনা তাৎক্ষণিক আবেগ থেকে তৈরি হয় না বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।

তার মতে, সমাজের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত উদ্দেশ্যে মব সহিংসতা তৈরি করা হতে পারে। প্রতিপক্ষকে নির্যাতন, সম্পদ দখল কিংবা চাঁদাবাজির মতো কাজেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।

কোনো ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সঙ্গে সংগঠিত পক্ষের উদ্দেশ্য যুক্ত হতে পারে। ফলে কারা অভিযোগ ছড়িয়েছেন, কারা লোক জড়ো করেছেন এবং কারা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে মব সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখার বিপক্ষে নূর খান লিটন। তার বক্তব্যে জনসমাবেশের দাবি ও সেখানে সংঘটিত সহিংস কার্যক্রম আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ড. রেজাউল করিমও রাজনৈতিক মেরুকরণ ও দীর্ঘদিনের হতাশাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য জানতে তাদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন।

প্রতিরোধের উপায় কী?

মব সহিংসতা কমাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে দেখছেন নূর খান লিটন।

তিনি বলেন, “যখন সমাজে অস্থিরতা থাকে, যখন প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল হয়ে যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিচার বিভাগ যখন দুর্বল হয়, তখন মব সন্ত্রাস বাড়বে।”

রেজাউল করিম সোহাগের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে আইন অনুসরণ করে।

তার ব্যাখ্যায়, মবের মধ্যে কেউ চুরি করতে পারেন, কেউ লুটপাট করতে পারেন, কেউ আঘাত করতে পারেন। প্রত্যেকের অপরাধের ধরন ও ভূমিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ, সংশোধন এবং শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অপরাধ থেকে বিরত রাখার উদ্যোগ একসঙ্গে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম মনে করেন, শুধু তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগ, পুলিশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রয়োজন। তার ভাষায়, “মব একটি গুরুতর রোগের উপসর্গ, একটি রোগ নয়।”