Actor Swadhin Khasru Spreads False Claim About Khalilur Rahman
গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগপন্থী অভিনেতা স্বাধীন খসরুর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ‘মিথ্যুক’ বলেছেন।
প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে এবং এখানে।
তবে যাচাই এ দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। খলিলুর রহমানকে নয়, বরং মার্কিন রাষ্ট্রদূতকেই ‘মিথ্যুক’ বলেছিলেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেস পাররিইয়া।
প্রচারিত ভিডিওটির বিভিন্ন দৃশ্য বা কিফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউটিউব চ্যানেল কিউবামিনরেক্সে (Cubaminrex) ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত একই ঘটনার একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
‘জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য খণ্ডন করল কিউবা’ শিরোনামের ওই ভিডিওর বিবরণে বলা হয়, কিউবার প্রতিনিধিদল মার্কিন প্রতিনিধির মিথ্যাচারের নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ২৭ অক্টোবর কিউবাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবারকিউবা (CiberCuba) একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। সিবারকিউবা ভিডিওটির সূত্র হিসেবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেসের এক্স পোস্টের উল্লেখ করে।
প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলছিল। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেস ও তাঁর প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য নিজেদের আসন ছেড়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। তাঁরা ওয়াল্টজের বক্তব্যে বাধা দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ তোলেন।
ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান, যিনি গত ৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি রদ্রিগেসকে নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধিবেশন সাময়িক স্থগিত করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এই ব্যক্তিকে মঞ্চ থেকে সরে যেতে হবে।’
এ সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজকে ‘মিথ্যুক’ বলে চিৎকার করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সেখানে রদ্রিগেসকে ‘আপনি একজন মিথ্যুক’ বলতে শোনা যায়। এর জবাবে ওয়াল্টজ তাঁকে মঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন।
২৮ অক্টোবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজের বক্তব্যে উচ্চকণ্ঠে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার একজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।
অর্থাৎ, ভিডিওতে ‘মিথ্যুক’ শব্দটি উচ্চারণ করা হলেও সেটি খলিলুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলা হয়নি। বরং তাঁকে অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দুই পক্ষের উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।