Awami League’s Official FB Group Awash With Fake Quotes Over Tongi Madrasa Incident

The Dissent Desk
By
The Dissent Desk
24 October 2026

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর করা হয়।

এই ঘটনার জেরে গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে অন্তত ৮ জন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে ভুয়া উক্তি ছড়ানো হয়েছে Gupto Tv নামে একটি ফেসবুক পেইজ থেকে। 

পেইজটিতে স্যাটায়ার প্লাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আসল মনে করে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেগুলো শেয়ার করছেন। 

এদিকে একই পোস্ট গুপ্ত টিভির ফেসবুকে পেইজ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অফিশিয়াল পেইজের পরিচালিত Supporters of Bangladesh Awami League নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে এই ভুয়া উক্তি সম্বলিত পোস্ট প্রচার করা হয়।

যেসব ব্যক্তির নামে ছড়িয়েছে এসব উক্তি

জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহর নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “তিনি বলেছেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রীকে চু'মো দেওয়া অপরাধ হয় কিভাবে? ছাত্রী তো নিজের মেয়ের মত।”

জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক ভুল করতে পারে না। যদি কেউ করেও থাকে ধরে নিবেন সেটা শয়তানের প্ররোচনায় করেছে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর  মামুনুল হকের নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “জিম গুলোর কারণে আমাদের আলেমসমাজ আজ অনিরাপদ। অবিলম্বে বাংলাদেশে সকল জিম ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।”

ইসলামী বক্তা মুফতি এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “ইসলামে জিম করা ধর্ম পরিপন্থী। আল্লাহর দেওয়া শরীরকে শক্তিশালী করতে পরিবর্তন করা শিরক।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “ওই শিক্ষক কোনো অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু এভাবে মব করা মোটেও ঠিক হয় নাই।”

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) রে সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “বাংলাদেশের সমস্ত জীম সেন্টার পরিচালিত হয় ভারতের তত্ত্বাবধানে। নিরীহ হুজুরদের থাপ্পড় দিতে ‘র’-এর স্পেশাল এজেন্টগন সেখানে ট্রেনিং দেয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরিন আমিন মোনামির নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “শিক্ষক যতই অন্যায় করুক তার গায়ে এভাবে হাত দেওয়া জায়েজ না। ছোটবেলায় আমাকে কত শিক্ষক চুমু দিতো, আমি তো এইগুলো এনজয় করতাম।”

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের নামে একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, “যারা বডি বিল্ডার তারা কিন্তু সবাই খারাপ না। আমাকে সবাই বডি বিল্ডিং এর গুরু মানলেও কখনো আমি খারাপ কাজ করি নাই।”

আসল মনে করে শেয়ার-কমেন্টের ছড়াছড়ি

গুপ্ত টিভি ও আওয়ামীলীগের গ্রুপে প্রচারিত এসব উক্তি আসল ভেবে অনেকেই শেয়ার ও কমেন্ট করছেন।

M R Polash নামে একটন আহমাদুল্লাহর ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, “আরেক ফতোয়াবাজ।”

Emranul Islam Emon নামে একজন লিখেছেন, “তুমি একজন ধর্ষকের সাপোর্ট নিচ্ছ। তার মানে তুমি একই দলভুক্ত। তোমার থেকে কি তোমার মেয়ে, মা,বোন আদৌও সেইভ আছে??”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোনামির নামে ছড়ানো কার্ডে Abu Taib Rimon কমেন্টে লিখেছেন, “আমরা আসব নাকি ম্যাডাম।”

Md Moin Uddin লিখেছেন, “আগের অভ্যাসটা এখনো ছাড়তে পারেন নাই।”

Jahed Ahmed লিখেছেন, “আসুন সবাই মোনামি ম্যাম কে চুমা দেয়।”

Md. Abdul Baten নামে একজন লিখেছেন, “তোমাকে চুমু দেওয়া ফরজ না দিলে হুজুর দের পাপ হবে কিন্তু অন্য কাউকে চুমু দেওয়া জায়েজ নেই। তোমার ইজ্জত মূল্যহীন হতে পারে অন্যের কাছে তা আমানত।”

এছাড়াও মোনামির নামে প্রচারিত ফকোকার্ডটির নিচে অশালীন অসংখ্য প্রকাশ অযোগ্য কমেন্ট করা হয়েছে।

সার্জিস আলমের নামে প্রচাতির ফটেকার্ডের কমেন্টে মাসুদ রানা নামে একজন লিখেছেন, “তোরা নিজেরাও একটা দেশ কে ধ্বংস করেছিস তোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার। এটাও ঠিক তেমনি।”

Sharif Nishat Hussain নামে একজন লিখেছে, “সব জাশি এনসিপি পরোক্ষ ভাবে এইসকল ঘৃণ্য অপকর্মের সমর্থক।”

বিদ্যেশ্বর বৈদ্য লিখেছেন, “শিক্ষক অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতো,আর আপনারা যে এতগুলো সনাতনী ধর্ম অবমাননার নামে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করলেন? এতগুলো শিক্ষকের গায়ে আওয়ামী বলে হাত দিলেন, তখন কি আইন ছিল না?”

মামুনুল হকের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডে Ziaur Rahman নামে একজন লিখেছেন, “অধপতিত আলেম সমাজ। নিজেরা ঠিক হন, আকাম কুকাম থেকে বিরত থাকুন। জিম নিয়া দুশ্চিন্তা করেন না।”

Rakibul Islam Shaheen লিখেছেন, “প্রত্যেকটা জিম কে মাদ্রাসা বানিয়ে দেয়া হোক। কি রাগ করলা ৫০১?”

সূত্র ছাড়াই মনগড়া উক্তি প্রচার

গুপ্ত টিভির পেইজ থেকে আওয়ামী লীগের পরিচালিত সাপোর্টার্স গ্রুপটিতে নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। যার অধিকাংশই মনগড়া ও ভুয়া উক্তি। একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় এসব উক্তিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে।

গত ২০ অক্টোবর দ্য ডিসেন্ট একটি প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, “স্যাটায়ারের নামে ৯ পেজে ১০ দিনে ১৮৭ ভুয়া ফটোকার্ড” প্রচার করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত নয়টি স্যাটায়ার ফেসবুক পেজের পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে অন্তত ১৮৭টি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর উক্তি ও ফটোকার্ডসংবলিত পোস্ট শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। এসব পোস্টে মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং আলোচিত ব্যক্তিদের নামে বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

এসব উক্তি ফেসবুকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন সময়ে আসল বলে প্রচার করেছে।

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে সবচেয়ে বেশি পোস্ট পাওয়া গেছে ‘NewsTime TV’ পেজে, অন্তত ৬৪টি। এরপর ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’-এ ৪০টি, ‘Gupto Tv’-তে ৩৮টি এবং ‘Gupto Television’-এ ১৭টি পোস্ট পাওয়া গেছে। 

এ ছাড়া ‘Pinaki Elias National Institute of Sources - PENIS’ পেজে নয়টি, ‘Tempo Stand’ নামে চালু নতুন পেজে সাতটি, ‘Daily Mollar Desh’ ও ‘আশার আলো’ পেজে পাঁচটি করে এবং ‘ChandaVision - খাম্বার কাছের টেম্পুস্ট্যান্ডের টেন পারসেন্ট চাঁন্দা’ পেজে দুটি পোস্ট শনাক্ত হয়েছে।