False Statement About Ziaur Rahman Attributed to Justice Sayem
নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে, “আ্যট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ বইয়ে রাস্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়েম লিখেছেন - “.. জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় তাঁর বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন, সাইন ইট। তাঁর একহাতে ছিল স্টিক, অন্য হাতে রিভলভার। আমি কাগজটা পড়লাম। আমার পদত্যাগপত্র। যাতে লেখা- ‘অসুস্থতার কারণে আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি জিয়াউর রহমানের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আট দশজন অস্ত্রধারী আমার বিছানার চারপাশে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিয়া আবার আমার বিছানায় পা তুলে আমার বুকের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে বললেন, ‘সাইন ইট’। আমি কোনোমতে সই করে বাঁচলাম।"
এরকম আরো কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নামে প্রচারিত উদ্ধৃতিটি ভুয়া।
“At Bangabhaban: Last Phase” নামের মূল বইটি ১৯৮৮ সালে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। বইটিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আলোচনা থাকলেও, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নামে ফেসবুকে প্রচারিত উদ্ধৃতিটি সেখানে পাওয়া যায়নি।
বইটির ৩৯ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, “১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বেসামরিক সদস্য বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে আমার কাছে এসে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, তারা তৎকালীন সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (CMLA) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে কাজ করতে চান। এতে কি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় না যে, এমনকি ক্ষমতাসীন থেকেও বেসামরিক ব্যক্তিগণ সেনাবাহিনীর অধীনে কাজ করতে চান? আমি তখনই সেখানে, যদিও দ্বিধান্বিত অবস্থায়, পদত্যাগে সম্মত হই।"
সেখান আরো বলা হয়েছে, “এরপর আমি বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের ডেকে পাঠাই। বিশেষ সহকারীকে এ দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত আগ্রহী বলেই মনে হয়েছিল। তারা এলে আমার পদত্যাগের বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাই। আমার ধারণা ছিল, সামরিক বাহিনীর মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের জন্য বিপর্যয়কর হতো। তাদের মতামত ও সম্মতি পাওয়ার পর আমি বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে জিয়াকে ডেকে পাঠাই।”
অর্থাৎ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের আত্মজীবনী গ্রন্থের বরাতে ফেসবুকে প্রচারিত উদ্ধৃতিটি ভুয়া।
উল্লেখ্য, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ২০২২ সালের ২৫ মে উদ্ধৃতিটি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন। এরপর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, চ্যানেল আই, বাংলা ট্রিবিউনসহ বাংলাদেশের অনেক সংবাদমাধ্যমে তার পোস্টটি প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৬ জুন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিতে প্রচারিত উদ্ধৃতিটির সত্যতা যাচাই করে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এএফপির উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “হাক্কানী পাবলিশার্স কর্তৃক ১৯৮৮ সালের প্রকাশিত মূল ইংরেজি সংস্করণ এবং মাওলা ব্রাদার্স কর্তৃক ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত অনুদিত সংস্করণ- উভয়টিই এএফপি দেখেছে এবং সেগুলোতে ফেসবুকে ছড়ানো কথিত উদ্ধৃতিটি পাওয়া যায়নি।”
এছাড়াও ১৯৯৮ সালে বইটির বাংলায় অনুবাদ করেন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক মশিউল আলম। তিনি এএফপিকে বলেন, "উদ্ধৃতিটি মনগড়া। আমি ইংরেজি থেকে বইটি অনুবাদ করেছি এবং মূল বইয়ে এমন কোন উদ্ধৃতি পাইনি যেমনটি ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।"