Fertiliser Shortages in BNP-Held Seats Contradict Mir Shahe Alam’s Claim
বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এমন এলাকায় সারের সংকট কিংবা এ নিয়ে আন্দোলন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, “দেশে সারের কোনো সংকট নেই। যেসব জেলা থেকে বেহেশতিরা (জামায়াতে ইসলামী অর্থে) টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছে, সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, কুমিল্লা, সিলেট ও বরিশাল জেলায় সারের সংকট হয়নি। তার ভাষায়, “মাত্র এই ১০ থেকে ১১টি জেলায় সারের সংকট।”
পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে একটি মানচিত্র প্রদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এতে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাকে লাল রঙে চিহ্নিত করে সারের সংকট হয়েছে—এমন এলাকা বোঝানো হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, “এসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে দেশের যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে সারের সংকট হয়নি।”
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য রয়েছেন, এমন অন্তত ১৪টি আসনে সার না পাওয়া, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ কিংবা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির খবর সংবাদমাধ্যমে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের খবরও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী যেসব বিভাগ ও জেলায় সারের সংকট হয়নি বলে দাবি করেছেন, সেখানেও কৃষকদের ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বললেও কৃষকেরা জানিয়েছেন, তারা প্রয়োজনমতো সার পাচ্ছেন না।
এই দাবি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজেছে দ্য ডিসেন্ট। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি, রাজশাহী বিভাগের ছয়টি, ময়মনসিংহ বিভাগের একটি এবং রংপুর বিভাগের দুটি—মোট অন্তত ১৪টি বিএনপি প্রতিনিধিত্বকারী আসনে সার নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাবনা, জামালপুর, গাজীপুর ও রাজবাড়ীতেও সার সংকটের সংবাদ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে সার সংকট
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলায় সারের সংকট হয়নি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে চট্টগ্রাম বিভাগের দুইটি জেলা— কক্সবাজার এবং কুমিল্লাতে সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যেখানে ৫টি আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির।
গত ১ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক যুগান্তরে “রামুতে কাগজে সারের মজুত মাঠে কৃষকের হাহাকার” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “রামুতে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তাদের ভাষ্য, উপজেলায় পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চাহিদামতো সার না পেয়ে এক ডিলারের দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন কৃষকরা। কোথাও সার পাওয়া গেলেও তা সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কৃষি বিভাগের হিসাবে সংকট না থাকলেও বাস্তবে সার না পেয়ে রামুর শত শত প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে দেখা দিয়েছে হাহাকার। কৃষকরা জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য এক হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি সারের মূল্য এক হাজার টাকা। কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে এসব সার প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো সার না পাওয়ায় ফলন নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।”
কক্সবাজারের এই আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য।
এছাড়াও গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দৈনিক সময়ের আলোতে “দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সার” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “কক্সবাজারের উখিয়ায় চলতি আমন মৌসুমে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৯ হাজার ৪০৫ হেক্টর। বিপুল পরিমাণ জমিতে আমন চাষ হলেও কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় দেখা দিয়েছে সংকট। সার নিতে গিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজেও সার সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।”
উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য।
এছাড়াও ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দৈনিক দেশ রূপান্তরে “সংকট দেখিয়ে কুমিল্লায় বেশি দামে সার বিক্রি” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ১৩ থেকে ৩৩ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। বিশেষ করে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন বাজারে ইউরিয়া ৩৩ থেকে ৪০ টাকা, টিএসপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ডিএপি ৩৫ টাকা এবং এমওপি ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা ও বুড়িচংসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।”
লালমাই উপজেলাটি কুমিল্লা-১০ আসনের অন্তর্গত এবং এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এই দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসন। এই আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আবুল কালাম। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৫ আসন, যার বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. জসীম উদ্দিন।
রাজশাহী বিভাগে সার সংকট
রাজশাহী বিভাগের অন্তত ৬ জন বিএনপির এমপির আসনে সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, বগুড়ায় সারের সংকট হয়নি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে।
২৬ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক আগামীর সময়ে “বগুড়ায় সারের দামে দিশাহারা কৃষক” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বগুড়ায় সার নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কারবার। কাগজ-কলমে সারের
পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেখা গেলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকরা চাহিদা মোতাবেক পাচ্ছেন না। আবার বিভিন্ন এলাকায় কৃষককে সার নিতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এমন অভিযোগ বগুড়ার একাধিক উপজেলায়। জেলার শেরপুর, শাজাহানপুর, কাহালু, দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে সারের বাজারের এমন পরিস্থিতি জানা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারনির্ধারিত প্রতি বস্তা ইউরিয়ার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু বস্তা হিসাবে নিতে গেলে ১ হাজার ৪০০ টাকা দিতে হয়। খুচরা বাজারে আরও বেশি। টিএসপি সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকার বদলে নেওয়া হচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার কিনতে ব্যয় হচ্ছে অন্তত ১ হাজার ৬০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন; কিন্তু এসব সার কেনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোনো রসিদ দেন না।”
বগুড়া জেলার শেরপুর, শাজাহানপুর, কাহালু ও দুপচাঁচিয়া—এই চারটি উপজেলাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসন থেকে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন থেকে মোরশেদ মিলটন, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে মো. মোশারফ হোসেন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসন থেকে মো. আব্দুল মহিত তালুকদার বিএনপি-এর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।
প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী জেলায়ও সার সংকট হয়নি বলে দাবি করেছেন। কিন্তু যাচাই করে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ “পুঠিয়ায় সার কম দেওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ” শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সার কম দেওয়ার অভিযোগে চাষিরা সড়ক অবরোধ করেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা উপজেলার বানেশ্বরে রাজশাহী-নাটোর সড়ক অবরোধ করেন।
কয়েকজন চাষি বলেন, এক মাস পর তাঁরা আজ সকালে সার নিতে আসেন। তাঁদের মাত্র ১০ কেজি করে ডিএপি সার দেওয়া হচ্ছে। এ সারে তাঁদের কিছুই হবে না। এ কারণে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।”
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পাবনা এবং নাটোর জেলায়ও সার সংকট হয়নি বলে দাবি করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে এসব জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ চ্যানেল ২৪-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “পাবনায় দেখা দিয়েছে সার সংকট। চাহিদা মতো পাচ্ছে না কৃষকরা। এ নিয়ে এই সুযোগে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।”
এছাড়াও গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চ্যানেল ২৪-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয় “পাবনায় আগাম জাতের সিম চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ফলন নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। তার উপর সার সংকট যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।”
এছাড়াও নাটোরেও সার সংকটের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নাটোরের শস্যভাণ্ডারখ্যাত সিংড়ায় সারের তীব্র সংকট। বিভিন্ন স্থানে সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও লুটের ঘটনার পর ডিলার পয়েন্টগুলোতে পুলিশের কড়া পাহাড়ায় শুরু হয়েছে সার বিতরণ।”
গত ২৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক করতোয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “নাটোরের সিংড়ায় প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে হতাশ কৃষকরা। খোলা বাজারেও পর্যাপ্ত সার মিলছে না। এতে করে আমন ধান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুত সার সংকট নিরসন হবে। এজন্য ডিলারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে তারা।”
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত মো. আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
ময়মনসিংহ বিভাগে সার সংকট
প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহ বিভাগে সার সংকট হয়নি বলে দাবি করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে এই বিভাগের জামালপুর এবং নেত্রকোনা জেলায় সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে যেখানে অন্তত ১ টি আসনের এমপি বিএনপির। বাকি আসনগুলোর নাম সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় সেগুলোর এমপি কোন দলের সেটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জামালপুরে রোপা-আমন মৌসুমে চাষাবাদের শুরুতেই দেখা দিয়েছে সারের সংকট। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের।”
এছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চ্যানেল ওয়ান-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জামালপুরে সারের সংকট ও চড়া দাম নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন খরচ এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।”
ময়মনসিংহ বিভাগের আরেক জেলা নেত্রকোনতেও সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ২১ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক যুগান্তরে “বারহাট্টায় আমনের শুরুতেই কৃত্রিম সার সংকটে দিশেহারা কৃষক, কিনতে হচ্ছে বেশি দামে” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১১টি বিসিআইসি ও ২৪টি বিএডিসি ডিলারের নামে সার বরাদ্দ থাকলেও ২০ আগস্ট পর্যন্ত কোনো ডিলারই বরাদ্দকৃত সার এনে গুদামজাত করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
বারহাট্টা উপজেলাটি নেত্রকোনা-২ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
ঢাকা বিভাগে সার সংকট
ঢাকা বিভাগেও সারের সংকট হয়নি বলে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে বিভাগের গাজীপুর এবং রাজবাড়ীতে সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এলাকার নাম উল্লেখ না থাকায় এসব আসনে কোন দলের এমপি রয়েছেন সেটি জানা সম্ভব হয়নি।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “গাজীপুরে সারের দাম এবং সরবরাহ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে।”
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চ্যানেল এস নিউজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সরকারিভাবে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর সংকট কাটছে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজবাড়ীতেও প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন আগাম সবজি চাষীরা। কোথাও সার মিলছে না, আবার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা।”
রংপুর বিভাগে সার সংকট
রংপুর বিভাগে বিএনপির এমপি রয়েছেন এরকম অন্তত ২টি আসনে সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে।
গত ১০ আগস্ট ২০২৬ দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “আমন মৌসুমে সার সংকটের প্রতিবাদে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবিতে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে তারা উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা তিন শতাধিক কৃষক অংশ নেন। এ সময় তারা স্লোগান দেন ‘সার দে কৃষি বাঁচাও’, ‘বাঁচলে কৃষি বাঁচবে দেশ, মরলে কৃষক মরবে দেশ’।”
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা) সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থী রোকন উদ্দীন বাবুল।
এছাড়া গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিডিনিউজ২৪ ডট কমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “লালমনিরহাট সদর উপজেলায় সার না পেয়ে ও ডিলারদের অনিয়ম বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা। রোববার সকালে উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদামের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান।”
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আসাদুল হাবিব দুলু।