Minhazul Alam Remains UNFICYP Force Commander, Contrary to Indian Media Report
ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজে ৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাইপ্রাসে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নিজের এইড-ডি-ক্যাম্প বা এডিসির সঙ্গে কথিত আচরণ নিয়ে লিখিত অভিযোগ ওঠার পর মিনহাজুল আলমকে মিশন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটি দেখুন: এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্ট এর যাচাই এ দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিনহাজুল আলম এখনো ইউনাইটেড নেশনস পিসকিপিং ফোর্স ইন সাইপ্রাস বা ইউএনএফআইসিওয়াইপির ফোর্স কমান্ডার পদে বহাল রয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করে সাইপ্রাসের ইংরেজি দৈনিক সাইপ্রাস মেইলে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটিতে ইউএনএফআইসিওয়াইপির মুখপাত্র আলিম সিদ্দিকের বরাতে বলা হয়, ফোর্স কমান্ডারের অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত জল্পনামূলক একটি সংবাদ সম্পর্কে মিশন অবগত। মিনহাজুল আলম এখনো ফোর্স কমান্ডার পদে বহাল আছেন এবং মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
একই দিন সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম সিগমালাইভ ইংলিশও জাতিসংঘের বক্তব্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মিনহাজুল আলমের বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ার তথ্যও জাতিসংঘ নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে, নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে অভিযোগকারীর পরিচয়, অভিযোগপত্র কিংবা মিনহাজুল আলমকে প্রত্যাহারের কোনো আদেশ উপস্থাপন করা হয়নি। দাবিটির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো সূত্রের বক্তব্যও সেখানে নেই। তথ্যের উৎস হিসেবে শুধু সংবাদমাধ্যমটির “হাতে থাকা তথ্যের” কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে কোনো প্রতিবেদকের নামও উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে জাতিসংঘ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিংবা মিনহাজুল আলমের বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
শিরোনামে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে লেখা হলেও প্রতিবেদনের ভেতরে প্রায় প্রতিটি দাবির ক্ষেত্রে “বলে জানা গেছে” ধরনের শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি নিজেই স্বীকার করেছে, কথিত অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ তাদের কাছে নেই এবং মিনহাজুল আলমকে প্রত্যাহারের ঘটনাক্রমও তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এমনকি প্রতিবেদনের শেষ অনুচ্ছেদে বলা হয়, অভিযোগ এবং তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দাবিগুলোকে অপ্রমাণিত হিসেবে দেখা উচিত।
নর্থইস্ট নিউজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ঘিরে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ১ জুন সংবাদমাধ্যমটির আরেকটি প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে বিজ্ঞপ্তি দেয় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর।
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশ কক্সবাজার থেকে বান্দরবান পর্যন্ত এলাকাকে “মিলিটারি অপারেশনস জোন” ঘোষণা করতে যাচ্ছে। আইএসপিআর তখন বলেছিল, এ ধরনের সংবাদ ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের পরিকল্পিত অপচেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত ৯ এপ্রিল মিনহাজুল আলমকে ইউএনএফআইসিওয়াইপির ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের তথ্যমতে, তিনি এই মিশনের ২৩তম ফোর্স কমান্ডার।