Family Says Man Was Killed by Thieves; Indian Media Portray It as Minority Persecution
কক্সবাজারের মহেশখালীতে হিন্দু নারী শিল্পী রানী সুশীলকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনাকে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রচার করেছে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম।
৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Mid-day লিখেছে, “Amid escalating attacks on minorities across Bangladesh, two Hindus, including a woman, were killed in separate incidents”।
ভারতের দৈনিক জাগরণও প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে,*“बांग्लादेश में अल्पसंख्यकों के खिलाफ फिर भड़की हिंसा, अलग-अलग घटनाओं में दो हिंदुओं की मौत” (বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ফের সহিংসতা, পৃথক ঘটনায় দুই হিন্দুর মৃত্যু)
এছাড়াও The Printlines, Vividh Bharathi, hi INDiA এবং Orissa Post এই সংবাদমাধ্যমগুলো মহেশখালীতে শিল্পী রানী সুশীলের হত্যার খবর প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়তে থাকা হামলার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দ্য ডিসেন্ট গতকাল একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে নিহতের পরিবার, স্থানীয় হিন্দু নেতা, এলাকাবাসী এবং পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করা এক ব্যক্তিকে বাধা দেওয়ার সময় শিল্পী রানীকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, ঘটনার সময় শিল্পী রানী বাড়িতে রান্না করছিলেন। এ সময় অচেনা এক ব্যক্তি চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাকে দেখে শিল্পী রানী ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করলে ওই ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরেন এবং পরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরির উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ওই গৃহবধূর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।”
তিনি বলেন, ওই নারী চিৎকার করলে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ছাবেকুন্নাহার মেরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট।
তিনি বলেন, শিল্পী রানীর পরিবার শান্তিপ্রিয় এবং ঘটনাটির সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত নয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢোকার পর শিল্পী রানী বিষয়টি টের পেয়ে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন এবং তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহত নারীর ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ছাবেকুন্নাহার দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। ওই পরিবারটি খুবই শান্তিপ্রিয়। তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জড়িত নয়। তাই ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।”
নিহত শিল্পী রানীর স্বামী রবীন্দ্র লাল সুশীলও দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে হত্যাকাণ্ডের যে দাবি প্রচার করা হয়েছে, তা সত্য নয়।
এছাড়া নিহত নারীর ভাইপো নিকাশ শর্মা আমার দেশকে বলেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। তার প্রাথমিক ধারণা, সংঘবদ্ধ চোর চক্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।