Z. I. Mamun Promotes Dhaka’s Lost Rickshaw Exhibition as the Launch of Women-Driven Rickshaws
ফেসবুকে কাপড়ে ঘেরা রিকশার কিছু ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মহিলাদের জন্য মহিলা রিকশা চালু করা হয়েছে এবং দেশ আফগানিস্তান হতে বেশি দেরি নেই।
সিনিয়র সাংবাদিক জ.ই. মামুন-এর ফেসবুক আইডি থেকে এসব রিকশার ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “দেশ আফগানিস্তান হতে কত দেরি, পাঞ্জেরী? একই রাস্তায় একই সময়ে একসাথে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডের এত “মহিলা রিকশা” নামানোর উদ্দেশ্য তো সুবিধার মনে হচ্ছে না। আর কেবলমাত্র নারী যাত্রীবাহী এসব হিজাবী রিকশার জন্য পুরুষ চালকের বদলে গোলাপী বাসের মতো নারী রিকশা চালক দিলে ভালো হতো না!”
গশওকত হোসাইন খান নামে একজন রিকশাগুলোর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “ঢাকা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে চালু হলো পর্দায় ঘেরা মহিলা রিক্সা সার্ভিস। ধর্মের নামে যারা রাজনীতি করে, তাদের প্রতিটা কর্মসূচিতে নারীসমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে, তুমি এখনো বেগম রোকেয়া আমলের অবরোধ বাসিনী।”
এস. আয়েশা আক্তার ডালিয়া নামে একজন ছবিগুলো পোস্ট করে লিখেছেন, “পর্দা টেনে নিরাপত্তা আসে না রে ভাই, নিরাপত্তা আসে নিরাপদ সমাজ গড়ে। বাংলাদেশে নারীদের জন্য কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঘেরা রিকশা চালুর উদ্যোগ আমাকে ভাবিয়েছে। একজন নারীকে সমাজের দৃষ্টির আড়ালে রেখে নিরাপদ রাখার ধারণা আসলে সমস্যার সমাধান না বরং এটি নারীর চলাচল ও স্বাধীনতাকে আরও একটি অদৃশ্য দেয়ালের মধ্যে বন্দী করার সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে।”
এরকম দাবি সম্বলিত আরো পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। এটি ঢাকায় মহিলা রিকশা চালুর কোনো দৃশ্য নয় বরং গত ২৮ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’য় ঢাকার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পর্দাঘেরা রিকশার প্রদর্শনী।
বিভ্রান্তির শুরু মিডিয়ার মাধ্যমে
গত ২৮ আগস্ট দৈনিক কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেইজে রিকশা প্রদর্শনীর একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ দেখা গেল রাজধানীতে।” ভিডিওতে কিংবা ক্যাপশনে আর কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া দৈনিক আজকের পত্রিকার ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত মহিলার রিকশার ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ দেখা গেল রাজধানীর সড়কে।” এই ভিডিও এবং পোস্টের ক্যাপশনেও আর কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়াও জাগো নিউজের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা এরকম একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “রাজধানীতে দেখা মিলল পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’।” এই প্রতিবেদনেও বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থাৎ, তিনটি প্রতিবেদনেই প্রায় একইধরনের অস্পষ্ট শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং রিকশাগুলো সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ঢাকার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রদর্শনী
সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে জানা যায়, এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’য় ঢাকার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পর্দাঘেরা রিকশার প্রদর্শনী।
গত ২৯ আগস্ট দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রিকশাগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, “পর্দাঘেরা একটি রিকশা। দেখলে মনে হবে পুরোনো ঢাকার কোনো সড়ক থেকে উঠে এসেছে অতীতের সেই বাহন। ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে বের হওয়া বর্ণিল শোভাযাত্রায় এমনই এক ‘মহিলা রিকশা’ বিশেষ নজর কেড়েছে। একসময়ের এই ঐতিহ্যবাহী বাহনের পাশাপাশি শোভাযাত্রায় ছিল স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকি। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ নিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে বের হওয়া এ শোভাযাত্রায় যেন একসঙ্গে ধরা দেয় পুরোনো ও বর্তমান ঢাকা।”
এছাড়াও ২৯ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলোতে উক্ত রিকশাগুলোর ছবি সম্বলিত একটি প্রতিবেদনের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “পুরান ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য তুলে ধরতে শোভাযাত্রায় দেখা যায় পর্দাঘেরা রিকশায় নারীর চলাচলের পুরোনো সেই চিত্র।”
উক্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, “পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে বর্ণিল এক শোভাযাত্রা। কারও হাতে ঢাকার ঐতিহ্যের প্রতীক, কেউ সেজেছেন ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের আদলে। বড় ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ঢাকার নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। কোথাও বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি, আবার কোথাও স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকি। শত শত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এমন নানা অনুষঙ্গ নিয়ে শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার সড়কে বের হয় ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’। ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পুরো আয়োজনে যেন অতীতের ঢাকা এসে মিশে যায় বর্তমানের নগরজীবনে।”