Fake Complainant, Fake Bank Account: Newspaper Reports ‘Tk 10 Billion’ Corruption
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ‘আগামীর সময়’ এর অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে ‘এনবিআরের কর কমিশনারের শতকোটির দুর্নীতি!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-৮ এর কর কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অডিট-সংক্রান্ত নথি আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা দাবি, ঘুষ না পেয়ে প্রশাসনিক হয়রানি, ৩২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করার অভিযোগ তোলা হয়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, দুর্নীতির অর্থে তিনি দেশে-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি-ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের এফডিআর করেছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষ পদে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ ও তদবির-বাণিজ্যের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এসব অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষে ব্যারিস্টার রুকন উদ্দিন আহমেদের করা একটি লিখিত আবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়।
পরে একই অভিযোগ নিয়ে ‘সিটিপোস্টবিডি’, ‘দ্য ডেইলি স্বাধীন সংবাদ’, ‘সমতল মাতৃভূমি’, ‘দুর্নীতির ডায়েরি’, ‘মুক্তির ডাক ২৪’ এবং ‘ইকোনোমিপোস্ট’ ‘ডেইলি জেনারেশন টাইম’সহ আরও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ব্যারিস্টার মো. রুকন উদ্দিন আহমেদের নামে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইটে কোনো আইনজীবীর তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও অভিযোগকারী ব্যক্তির নয়; নম্বরটি আইনজীবী আলী আজগর ফকিরের।
এছাড়া, অভিযোগপত্রে কর কমিশনারের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের যে নাম দেওয়া হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র, সরকারি ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে সেগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৩৭ কোটি টাকার এফডিআর থাকার দাবির পক্ষে দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরগুলোও ব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচলিত কোনো ব্যাংক হিসাব নম্বরের সঙ্গে মেলে না।
অন্যদিকে, ‘আগামীর সময়’-এর বিজনেস এডিটর দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, সরকারি চিঠির মাধ্যমে অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল বলেই তাঁরা অভিযোগটির “কিছুটা অথেনটিসিটি” ধরে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ; অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা পরে যাচাই-বাছাই করা হয়।
কেবল একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই মিডিয়ার প্রতিবেদন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) ‘ব্যারিস্টার মো: রুকন উদ্দিন আহমেদ’ নাম ও পদবি ব্যবহার করে গত ৩০ আগস্ট জমা দেওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) চিঠি পাঠানো হয়।
অভিযোগপত্রে যোগাযোগের জন্য ০১৭১১-৩****৭ মোবাইল নম্বরটি যুক্ত করা হয়েছিল।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই চিঠিতে এনবিআর-এর কর কমিশনার (কর অঞ্চল-৮) মোহাম্মদ আবদুর রকিবের বিরুদ্ধে "কোটি টাকার ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের" অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এই একটিমাত্র অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়; এসব প্রতিবেদনে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান বা ন্যূনতম সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে ওই অভিযোগপত্রের বরাতে দাবি করা হয়, আবদুর রকিব আকিজ, স্কয়ার, হা-মীম, এস আলম ও ইউনাইটেড গ্রুপের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমে আরও প্রচার করা হয়, দুর্নীতির টাকায় তিনি ঢাকায় (কলাবাগান, গুলশান, বনানী, শ্যামলী ও সাভার) বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও প্লট কিনেছেন এবং স্ত্রী ‘সাবিনা ইয়াসমিন’ ও পাঁচ সন্তানের (‘আফজাল’, ‘সোহেল রানা’, ‘লুবনা খাতুন’, ‘আয়েশা আক্তার ঝুমু’ এবং ‘তানভির আহম্মেদ’) নামে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।
অভিযোগপত্রে দুদকে পোস্টিং পেতে জনপ্রশাসন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ছেলেকে কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার দাবিও করা হয়।
অভিযোগকারীর পরিচয় মিলছে না
অভিযোগপত্রে সূত্র হিসেবে ‘ব্যারিস্টার মো. রুকন উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইটে সার্চ করে এই নামে কোনো আইনজীবীর তথ্য পাওয়া যায়নি।
কাছাকাছি নামে সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার মো. রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
তার এক সহকর্মী দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত ‘রুকন উদ্দিন আহমেদ’ নামে কোনো আইনজীবীর পরিচয় তিনি জানেন না।
ব্যারিস্টার মো. রোকন উদ্দিন মাহমুদ অসুস্থতা জনিত কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে আছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগপত্রে যোগাযোগের জন্য যে মোবাইল নম্বরটি (০১৭১১-****২৭) ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ব্যক্তির নয়।
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, নম্বরটি মূলত সুপ্রিম কোর্টের আরেকজন আইনজীবী আলী আজগর ফকিরের।
এই বিষয়ে জানতে দ্য ডিসেন্টের পক্ষ থেকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে আলী আজগর ফকির পুরো অভিযোগটিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে জানান।
তিনি বলেন, আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার মতো একজন জ্যেষ্ঠ মানুষের পক্ষে এমন ‘নোংরা কাজে’ জড়ানো অসম্ভব।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত পদের বড় ধরনের অসংগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “রোকন উদ্দিন স্যার তো জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেউ ছিলেন না, বরং তিনি আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত।”
তিনি বলেন, “আবেদনকারী কে, তা না জেনেই তদন্ত শুরু করবে কীভাবে? তাকে অন্তত ফোন করে যাচাই করা উচিত ছিল না? কেউ যদি এখন প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কারও নাম দিয়ে একটি ভুয়া অভিযোগ জমা দিয়ে দেয়, তাহলে কি এভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে? একটু কাণ্ডজ্ঞান থাকলেই বোঝা যায় যে এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট।”
স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয়েও মিল নেই অভিযোগপত্রের তথ্যের সঙ্গে
অভিযোগপত্রে আবদুর রকিবের স্ত্রী হিসেবে ‘সাবিনা ইয়াছমিন’ নামের একজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে মোট ৩০ কোটি টাকার এফডিআর, শ্যামলী ও বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং সাভারে প্লট থাকার দাবি করা হয়েছে।
একই অভিযোগপত্রে আবদুর রকিবের সন্তান হিসেবে ‘সোহেল রানা’, ‘লুবনা খাতুন’, ‘আফজাল’, ‘আয়েশা আক্তার ঝুমু’ ও ‘তানভির আহম্মেদ’এই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের নামেও ব্যাংকে এফডিআর, ঢাকায় ফ্ল্যাট এবং কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি ও ব্যবসার মালিকানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমনকি ‘আয়েশা আক্তার ঝুমু’কে আবদুর রকিবের ছোট মেয়ে উল্লেখ করে তার বিয়েতে হোটেল মেরিডিয়ান ভাড়া করে এক রাতে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবিও করা হয়েছে।
তবে দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে আবদুর রকিবের সরকারি ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণীতে ‘লুবনা খাতুন’ ও ‘আয়েশা আক্তার ঝুমু’ নামে কোনো সন্তানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নথিতে তার দুই সন্তানের নাম আবদুল্লাহ মোহাম্মদ মুহতাদি রাফিদ ও আবদুল্লাহ আহম্মদ মাহদি রাসিফ উল্লেখ রয়েছে।
দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম মোহাম্মদ আবদুর রকিব এবং মাতার নাম উম্মে হাজেরা খাতুন।
এ ছাড়া পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, আবদুর রকিবের স্ত্রীর নামও উম্মে হাজেরা খাতুন। অর্থাৎ, অভিযোগপত্রে যার নামে (‘সাবিনা ইয়াছমিন’) কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে, বাস্তবে আবদুর রকিবের স্ত্রীর নাম (উম্মে হাজেরা খাতুন) এর সঙ্গে নামটি মেলে না।
অভিযোগপত্রের তথ্যের মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে। সেখানে ‘তানভির আহম্মেদ’কে এক জায়গায় ‘একমাত্র ছেলে’ বলা হয়েছে। অথচ এর আগেই ‘সোহেল রানা’ ও ‘আফজাল’কে ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে স্ত্রী ও সন্তানদের নাম, পরিচয় এবং সন্তানদের সংখ্যা তিন ক্ষেত্রেই অভিযোগপত্রের তথ্যের সঙ্গে দ্য ডিসেন্টের যাচাই করা নথির অমিল রয়েছে; একই সঙ্গে অভিযোগপত্রের মধ্যেও সন্তানদের পরিচয় নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগপত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আবদুর রকিবের পরিবারের কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ রয়েছে।
অন্যদিকে, আবদুর রকিবের দাবি, তিনি তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, পাকিস্তান, ব্রুনাই, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেছেন এবং এসব দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে যাননি। তার এই দাবি দ্য ডিসেন্ট স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
অভিযোগের ব্যাংক হিসাব নম্বরেও মিলছে না
অভিযোগপত্রে আবদুর রকিবের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৩৭ কোটি টাকার এফডিআর থাকার দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ‘স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন’-এর নামে ১০ কোটি (হিসাব নম্বর: ০০-০০০-০০০০-০১৩৮০০৭), যমুনা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ‘পুত্র সোহেল রানা’-এর নামে ৫ কোটি (হিসাব নম্বর: ০০০০০-০০০০-৩৬৯.০৩০), প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখায় ‘ছোট মেয়ে আয়শা আক্তর ঝুমু’-এর নামে ২ কোটি এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে স্ত্রীর নামে আরও ২০ কোটি টাকার এফডিআর থাকার কথা বলা হয়েছে।
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে উল্লিখিত এসব ব্যাংক হিসাব নম্বর কোনো ব্যাংকের প্রচলিত হিসাব নম্বরের সঙ্গে মেলে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ব্যাংক হিসাব নম্বরে শাখা বা কোড, খাত বা সেক্টর কোড এবং গ্রাহকের নিজস্ব হিসাব নম্বর থাকে। অভিযোগপত্রে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ ধরনের কিছু নেই।
প্রতিবাদ ছাপলেও সরানো হয়নি মূল প্রতিবেদন
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ‘আগামীর সময়’-এর প্রিন্ট ভার্সনের প্রথম পাতায় সংবাদটি ছাপানো হয়। তবে পরদিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওই পত্রিকাতেই কর কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিবের একটি প্রতিবাদলিপি ছাপা হয়।
‘আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবাদলিপিতে কর কমিশনার অভিযোগকারীর ভুয়া পরিচয়, অন্যের ফোন নম্বর ব্যবহার এবং তথ্যের অসংগতির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এখন পর্যন্ত ‘আগামীর সময়’-এর ই-পেপার, অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজ থেকে ওই রিপোর্টটি সরানো হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, আমরা প্রতিবাদলিপি ছাপিয়েছি। প্রতিবেদনটি তাদের বিজনেস এডিটর করেছেন বলে জানান তিনি।
পরে পত্রিকাটির বিজনেস এডিটর নিজাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমাদের কাছে আসা ডকুমেন্টটি শুধু একটি সাদা কাগজের অভিযোগ ছিল না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অফিশিয়াল একটি চিঠি দিয়ে এটি যাচাই-বাছাই করার জন্য ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যখন চিঠিটি ফরোয়ার্ড করেছে, তখন আমরা এই অভিযোগের কিছুটা অথেনটিসিটি (সত্যতা) ধরে নিয়েছি। ওই অফিশিয়াল চিঠির চালাচালির ভিত্তিতেই আমরা রিপোর্টটি করেছি।”
স্ত্রী-সন্তানদের বানোয়াট তথ্য, ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়া আইনজীবীর বিষয়টি নজরে আনা হলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এগুলো আমরা শুনেছি। রিপোর্ট প্রকাশের পর যার বিরুদ্ধে সংবাদটি করা হয়েছে, তিনি বক্তব্য পাঠিয়েছেন এবং আমরা পরদিনই সেটি প্রকাশ করেছি।”
অভিযোগ জমা নেওয়া হয়, পরে যাচাই-বাছাই করা হয় বলছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর
পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাদের সংবাদ প্রকাশের ভিত্তি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো চিঠির কথা উল্লেখ করেছে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখার উপসচিব তানিয়া আফরোজ।
অভিযোগপত্রটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা পড়েছিল কি না, বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্য ডিসেন্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখার উপসচিব তানিয়া আফরোজের সাথে।
অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত নাম, পরিচয়, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্যের অসংগতির বিষয়গুলো তার নজরে এনে জানতে চাওয়া হয়, ৩০ আগস্টের অভিযোগটি সত্যিই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েছিল কি না।
ওই কর্মকর্তা জানান, তার শাখায় প্রতিদিন এ ধরনের ২০ থেকে ৫০টি অভিযোগ আসে এবং প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগ গ্রহণ করা এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তাদের নিয়মিত কাজ। অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাইয়ের জন্য রাখা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়।
অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েছিল বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
দুদকের তদন্তের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি
শুধু স্ত্রী-সন্তানদের নাম বা ব্যাংক হিসাবই নয়, অভিযোগপত্রের একেবারে শেষ অংশে দাবি করা হয়, "কর কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে দ্য ডিসেন্টের পক্ষ থেকে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তথ্য পাওয়া যায়নি।