২ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে পাওয়া গেল ব্যাটারি-চালিত রিকশার ১৪ রকম ডিজাইন
ব্যাটারি-চালিত রিকশা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ এটির পক্ষে, কেউ আবার বিপক্ষে। তবে এসব বিতর্কের মধ্যে রাজধানীতে বেড়েই চলেছে এই ধরনের যানবাহন। রাস্তায় বের হলেই দেখা মিলে হরেক রকম ডিজাইনের ব্যাটারি চালিত রিকশার। একটু খেয়াল করে দেখলেই চোখে পড়ে এই বাহনগুলোর ‘ডিজাইনের নৈরাজ্য’। ঢাকার দুটি ছোট রাস্তার মোড়ে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিবেদক ক্যামেরাবন্দী করেছেন অন্তত ১৪ রকমের ডিজাইনের ব্যাটারি চালিত রিকশা। এলাকা ভেদে এই রাজধানীতে ডিজাইনের আরও নানান রকমফের রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটর চালিত কোন যানবাহন যে যার মতো ডিজাইন করে রাস্তায় ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ। এই ধরনের বাহনে ইঞ্জিনের সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন নিয়মকানুন মেনে ডিজাইন না করা হলে তা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘অটোরিকশা হচ্ছে রিকশাকে কনভার্ট করা। রিকশার একটা নির্দিষ্ট সাইজ আছে। যখন এটাকে নিজের খেয়ালখুশি মতো বানায় তখন এটাকে তারা চওড়া বা লম্বা করে ফেলে। তো দুই পাশের যে বর্ধিত অংশ—এই ব্যাপারটা কিন্তু চালকের মাথায় আর থাকে না। ফলে সাইড দিয়ে যাওয়ার সময় দেখবেন বাড়ি মেরে দিচ্ছে আরেকজনকে, মোড় ঘুরতে গেলে বা সোজা যাইতে গেলে আরেকজনকে লাগায় দেয়। তো এই ধরনের মডিফিকেশনের ঝুঁকি আছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ওই যে নিজের মতো করে বানায়, ব্যালেন্সটা ঠিক রাখতে পারে না। এমনিতে অবৈধ, তারপর মডিফিকেশন করার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এই বাহন।’’
এ ক্ষেত্রে কাজী সাইফুন নেওয়াজের পরামর্শ, এটাকে বানাতে হবে রিকশার শেপে, গতি থাকতে হবে কম এবং বিদ্যুৎ নির্ভর করা যাবে না। অর্থাৎ, ব্যাটারি নির্ভরতা থাকবে না, সোলার বা ফ্লাইহুইল এই ধরনের কিছু থাকবে; তবেই এই ঝুঁকি এবং সঙ্কট এড়ানো সম্ভব।

মোটর আর ব্যাটারির দাপটে আজ প্যাডেল রিকশার কদর হয়তো কমেছে, তবে ঢাকার রাস্তার চিরায়ত রূপ এটিই। বর্তমানে অটোরিকশার বডিতে আমরা যত রকমফের বা ভেরিয়েশন দেখছি, তার সবকিছুরই মূল ভিত্তি এই পুরোনো আর ছিমছাম নকশা।

১। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি দেখতে কিছুটা প্যাডেল রিকশার মতোই। তবে এর কাঠামোটি সাধারণ রিকশার চেয়ে বেশ খানিকটা বড়।
২। অটোরিকশাটি ঠিক আগের নকশাটিরই সামান্য বড় সংস্করণ। সামনের আসনটি বেশ প্রশস্ত করে তৈরি করা হয়েছে। চালকের পাশে অনায়াসে আরেকজন যাত্রীকে বসিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে।
৩ ও ৪। ছবি দুটির অটোরিকশা একই রকম মনে হলেও, পার্থক্য লুকিয়ে আছে ভেতরের কাঠামোতে। একটিতে চালক ও পেছনের আসনের মাঝে বেশ খানিকটা ফাঁকা জায়গা বা লেগরুম রাখা হয়েছে, অন্যটিতে সেই দূরত্ব কিছুটা কম। একই ধাঁচের বডি হওয়ার পরও কেবল যাত্রীদের পা রাখার এই পরিসরটুকু কমিয়ে বা বাড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে আলাদা দুটি ভেরিয়েশন।

৫। অটোরিকশাটিতে দেখা যায় রোদ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার এক অভিনব কৌশল। পেছনের আসনের মূল সামিয়ানার সাথে অতিরিক্ত পলিথিন জুড়ে দিয়ে তা টেনে দেওয়া হয়েছে চালকের মাথার ওপরের ছাউনি পর্যন্ত। রোদ বা বৃষ্টির ভোগান্তি যেন পোহাতে না হয়, মূলত সেই ভাবনা থেকেই কাঠামোর এই বাড়তি সংযোজন।
৬ ও ৭। সাইকেলের চিকন স্পোকের বদলে রিকশা দুটিতে দেখা যায় তুলনামূলক ছোট ও নিরেট চাকা। ব্যাটারির গতি এবং বডির বাড়তি ভার সামলাতেই চাকার এই কাঠামোগত পরিবর্তন। চাকা আর বডির মূল নকশা একই হলেও এই দুই ভেরিয়েশনের মাঝেও রয়েছে একটি স্পষ্ট পার্থক্য। একটিতে চালকের সুরক্ষায় সামনের অংশে শক্ত উইন্ডশিল্ড বা কাচ ব্যবহার করা হয়েছে, আর অন্যটিতে উইন্ডশিল্ডের নেই; সামনের দিকটা পুরোপুরি খোলামেলা রাখা হয়েছে।
৮। অটোরিকশাটিতে চোখ রাখলেই চাকার এক অদ্ভুত মিশেল ধরা পড়ে। এর সামনের চাকাটি একেবারে সাধারণ সাইকেলের মতো চিকন, অথচ পেছনের চাকা দুটি তুলনামূলক বেশ বড় ও চওড়া। মূলত ব্যাটারি, মোটর এবং যাত্রীদের মূল ভর পেছনের দিকে থাকে বলেই ভারসাম্য ও গতি সামলাতে গ্যারেজ কারিগররা চাকায় এই হাইব্রিড নকশার আশ্রয় নিয়েছেন।
৯। আকারে তুলনামূলক ছোটখাটো হলেও অটোরিকশাটিতে রয়েছে এক উদ্ভাবনী ছোঁয়া। পথে ধুলোবালি, বাতাস কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে চালকের সামনে কোনো দামি কাচের উইন্ডশিল্ড নেই; বরং সেই জায়গাটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে পরিষ্কার পলিথিন দিয়ে।

১০। এ বাহনটি আগের ভেরিয়েশনগুলোর মতো প্যাডেল রিকশার কাঠামো কেটেকুটে বানানো নয়। বরং এটি দেখতে ‘ইজিবাইক’ এর মতো। রোদ-বৃষ্টির সুরক্ষা দিতে সামনে পলিথিনের বদলে রয়েছে মজবুত কাচের উইন্ডশিল্ড। ছাদের ছিমছাম কাঠামো, সামনে বিল্ট-ইন হেডলাইট এবং ছোট অথচ শক্ত নিরেট চাকাগুলো সাধারণ রিকশার চেয়ে একে বেশ আলাদা করে তুলেছে।
১১। এই অটোরিকশার মূল কাঠামোটি ঠিক আগেরটার মতোই। তবে একটু খেয়াল করলেই চালকের সামনের উইন্ডশিল্ড বা কাচের ফ্রেমে কিছুটা কাঠামোগত পার্থক্য চোখে পড়ে। মূলত চালকের সুবিধা বা গ্যারেজ কারিগরের নিজস্ব স্টাইল থেকেই একই ধাঁচের বাহনে এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো আনা হয়।
১২। আগেরটির নকশার মতো হলেও এটি আকারে কিছুটা বড়। এটিতে যাত্রীদের মুখোমুখি বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
১৩। আগের মুখোমুখি আসনের রিকশাগুলোর চেয়ে এর গড়ন আলাদা। এই অটোতে চালকের পেছনে দুই সারিতে যাত্রী বসার সিট রয়েছে।