'ইসলামী আইনে প্রতিবাদের সুযোগ নেই' বলে আফগানিস্তানে সব ধরনের প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করলো তালিবান

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আফগানিস্তানে সব ধরনের জনসমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তালেবান সরকার।

বুধবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইসলামি ব্যবস্থায় বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই। দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

সম্প্রতি অনুমোদিত আফগানিস্তানের নতুন পুলিশ আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে এসব কথা বলেন তালেবান মুখপাত্র। আইনটির একটি ধারায় আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, খবর আফগানিস্থান ইন্টারন্যাশনাল। 

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগান সমাজের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই আইন তৈরি করা হয়েছে এবং এতে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষ্য, যেসব সমাজে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের মতো ভিন্ন ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে, মূলত সেসব ব্যবস্থার সঙ্গেই বিক্ষোভের ধারণা যুক্ত।

তিনি বলেন, “ইসলামি ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কোনো বিষয় থাকলে মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে জনগণের সময় নষ্ট করা, মানুষের সম্পদের ক্ষতি করা, বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতা সৃষ্টি করা অবশ্যই ঠেকাতে হবে।”

২০২১ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে তালেবান। সরকারবিরোধী মত ও প্রতিবাদও বিভিন্ন সময় কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে।

এবার বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

তাদের বক্তব্য, নতুন এই বিধান আফগানিস্তানে অবশিষ্ট নাগরিক পরিসর আরও সংকুচিত করবে এবং মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মতো মৌলিক স্বাধীনতার সুযোগ আরও সীমিত করে দেবে।