এআই দিয়ে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক যেসব পেইজ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ক্যাম্পেইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা কন্টেন্টে এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম নিজেদের মতো করে এআই দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। ফেসবুকে রাজনৈতিক কনটেন্ট তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিচালিত বেশ কিছু পেইজের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করেছে দ্য ডিসেন্ট। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিএনপি সমর্থক ও জামায়াত সমর্থক —উভয় পক্ষই এআই-নির্ভর ভিডিও ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে দুটি পক্ষের কার্যক্রমের ধরনে বেশ কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
দ্য ডিসেন্ট-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপিকে সমর্থন করে এআই কন্টেন্ট তৈরি করা পেইজগুলো একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মতো কাজ করছে। বিপরীতে জামায়াতকে সমর্থন করে এমন এআই কন্টেন্ট তৈরি করা পেইজগুলো তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বিএনপি সমর্থক এআই পেইজের একটি নেটওয়ার্ক
ফেসবুকে ভাইরাল কিছু এআই জেনারেডেট ভিডিওর সূত্র ধরে এই বিশ্লেষণ শুরু করে দ্য ডিসেন্ট। ভিডিওগুলো যেসব পেইজ থেকে পোস্ট করা হয়েছিলো সেসব পেইজ পর্যবেক্ষণ করে একই ধরনের এআই জেনারেটেড ভিডিও তৈরি করে এরকম আরো বেশকিছু পেইজের সন্ধান পাওয়া যায়।
পর্যবেক্ষণে চিহ্নিত বিএনপি সমর্থক পেইজগুলোর মধ্যে রয়েছে— Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক, Next Bangladesh Network, BNP Info Network, মগবাজার - Moghbazar, মগবাজার ২.০, মৌদুদীতন্ত্র, ল্যাংটা সোলেমান, বাংলাদেশ জান্নাতি পার্টি -BJP, Bangladesh Unity Network, বঙ্গ ভাইরাল এবং জাতিস্বর।
এসব পেইজ থেকে নিয়মিত বিএনপির পক্ষে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। শুধু চলতি বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত সময়ে পেইজগুলোর শেয়ার করা এআই জেনারেটেড ভিডিওগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক পেইজটির শেয়ার করা ৪০টি এআই জেনারেটেড ভিডিও, Next Bangladesh Network নামক পেইজটির শেয়ার করা ১৪টি ভিডিও, মৌদুদীতন্ত্র পেইজের ১১টি ভিডিও, BNP Info Network এর ৩টি ভিডিও, মগবাজার - Moghbazar এর ৮টি ভিডিও, মগবাজার ২.০-এর ৫টি ভিডিও, Bangladesh Unity Network-এর ৬টি ভিডিও এবং জাতিস্বর-এর ১০টি ভিডিওতে জামায়াতের বিপক্ষে এবং বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব পেইজের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ রয়েছে এবং তারা একে অপরের কনটেন্ট নিয়মিত শেয়ার ও ট্যাগ করছে।
উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, মগবাজার - Moghbazar পেইজটি Next Bangladesh Network পেইজকে মেনশন করে লিখেছে, “ফলো করুন Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক মওদুদীবাদ ও ভারত বিরোধী পেইজ।”
একই ধরনের বার্তা Next Bangladesh Network পেইজ থেকেও Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক পেইজকে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।
মগবাজার - Moghbazar তাদের একটি পোস্টে Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক, মগবাজার ২.০, ল্যাংটা সোলেমান, বাংলাদেশ জান্নাতি পার্টি -BJP এবং Next Bangladesh Network–কে একসঙ্গে ট্যাগ করেছে।
এছাড়া Bangladesh Unity Network-এর একটি এআই ভিডিও Next Bangladesh Network শেয়ার করেছে। Next Insight Network আবার BNP Info Network-এর ভিডিও শেয়ার করেছে। জাতিস্বর পেইজের ভিডিওতেও Next Bangladesh Network-এর রিঅ্যাকশন দেখা গেছে।
একই এআই চরিত্রের ব্যবহার
দ্য ডিসেন্ট-এর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব পেইজে ব্যবহৃত এআই চরিত্রগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মিল রয়েছে। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট ওয়াজ বক্তার এআই চরিত্র বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। একই চরিত্র ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করেছে Next Bangladesh Network, Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক, মগবাজার - Moghbazar, মগবাজার ২.০, জাতিস্বর, মৌদুদীতন্ত্র, Bangladesh Unity Network এবং BNP Info Network।
এছাড়াও পেইজগুলোর আরেকটি বহুল ব্যবহৃত চরিত্র সংবাদ উপস্থাপিকা। এই চরিত্রটি ব্যবহার করে সংবাদ আকারে ভিডিও প্রকাশ করেছে Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক, Next Bangladesh Network, মগবাজার - Moghbazar, মগবাজার ২.০, জাতিস্বর, মৌদুদীতন্ত্র এবং BNP Info Network।
একই ধরনের চরিত্র, কণ্ঠ এবং উপস্থাপনা ইঙ্গিত দেয় যে ভিডিওগুলো একই টুল ও প্রায় একই প্রম্পট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, পেইজগুলো আলাদা হলেও কনটেন্ট তৈরির পেছনে একটি সমন্বিত কাঠামো কাজ করছে।
পেইজ খোলার সময়কাল
পেইজগুলোর খোলার সময় মোটামুটি কাছাকাছি। মগবাজার – Moghbazar চালু হয় গত বছরের ২০ এপ্রিল, Next Bangladesh Network ২৩ মে, বাংলাদেশ জান্নাতি পার্টি -BJP ২৬ জুন, ল্যাংটা সোলেমান ৫ জুলাই, মগবাজার ২.০ ৩ আগস্ট, Next Insight Network – নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক ১৭ অক্টোবর, BNP Info Network ২২ অক্টোবর এবং জাতিস্বর পেইজ খোলা হয় ৫ নভেম্বর। সবগুলো পেইজই প্রায় একই বছরে কয়েক মাসের ব্যবধানে তৈরি। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সাত মাসের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে আটটি পেইজ তৈরি হয়েছে
এডমিন লোকেশনে মিল আছে
এই নেটওয়ার্কের পেইজগুলোর এডমিন লোকেশন বিশ্লেষণেও মিল পাওয়া গেছে। মূলত বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং ফ্রান্সে অবস্থান করা কয়েকজন এডমিন এই নেটওয়ার্কের পেইজগুলো পরিচালনা করেন।
Next Bangladesh Network-এর দুইজন এডমিন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। Next Insight Network – নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক পেইজটির একমাত্র এডমিন সৌদি আরবে। মগবাজার – Moghbazar পেইজের একজন এডমিন, মগবাজার ২.০ পেইজের একজন এডমিন এবং ল্যাংটা সোলেমান পেইজের একজন এডমিনও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মৌদুদীতন্ত্র পেইজটির পাঁচজন এডমিনের লোকেশন বাংলাদেশ এবং একজনের লোকেশন সৌদি আরব। জাতিস্বর পেইজের দুইজন এডমিনই সৌদি আরবভিত্তিক।
এছাড়া ফ্রান্স থেকেও একাধিক পেইজ পরিচালিত হচ্ছে। মগবাজার – Moghbazar পেইজের একজন এডমিন এবং বঙ্গ ভাইরাল পেইজের একজন এডমিন ফ্রান্সে অবস্থান করছেন।
ছড়ানো হচ্ছে ভুয়া খবর
মগবাজার - Moghbazar পেজ থেকে ডিবিসি নিউজের লগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “চট্রগ্রাম-১ মিরসরাই " জামায়াতের অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ অ*স্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনী”। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, ফটোকার্ডটি ভুয়া। ডিবিসি নিউজে প্রকাশিত “মুন্সিগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান” শিরোনামের একটি ফটোকার্ডকে এডিট করে এটি বানানো হয়েছে।
Next Insight Network - নেক্সট ইনসাইট নেটওয়ার্ক-এর একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, “দিনাজপুরের একটি ইউনিয়নের জনগন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলো। জনগন বলেন, জামায়াত মওদুদীর ইসলাম মানে মদিনার ইসলাম মানে না। মুনাফেক মওদুদীবাদকে আমাদের এলাকায় জায়গা দিবেোনা।”
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, ঘটনাটি সত্য নয়।
বাংলাদেশ জান্নাতি পার্টি -BJP পেজ থেকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামে ছড়ানো একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, “আমরা এই নির্বাচনী রোডম্যাপে বিশ্বাস করিনা, আমরা গুগলম্যাপে বিশ্বাসী। আর গুগলম্যাপ যেহেতু অনলাইনে তাই নির্বাচন ও অনলাইনে হতে হবে।”
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি এধরনের কোনো বক্তব্য দেননি।
এছাড়াও, বঙ্গ ভাইরাল পেজে পোস্ট করা একটি ফটোকার্ডে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ব্যাপারে দাবি করা হয়েছে, “গোলাম পরওয়ার পরকীয়ায় আসক্ত—স্ত্রীর দাবি”।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি অসত্য।
জাতিস্বর পেজে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানকে বলতে দেখা যাচ্ছে, “জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কওমি মাদ্রাসার সবাইকে মসজিদ এবং মেহরাব থেকে বের করে দেয়া হবে। এরা মিথ্যাবাদী।”
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি এডিটেড ও বিভ্রান্তিকর।
বিএনপির কনটেন্ট জেনারেশন টিমের প্রধান ড. সাইমুম পারভেজের কাছে এসব পেজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমাদের কন্টেন্ট জেনারেশন টিম থেকে এআই জেনারেটেড কোনো কন্টেন্ট তৈরি করা হয় না।”
জামায়াত সমর্থিত পেইজ থেকেও ছড়ানো হচ্ছে ভুয়া খবর
দ্য ডিসেন্ট জামায়াত সমর্থক ঘরানার এআই কনটেন্ট তৈরি করা পেইজগুলোকেও পর্যবেক্ষণ করেছে। এই পেইজগুলোও ফেসবুকে ভাইরাল কিছু এআই ভিডিওর সূত্র ধরে খুঁজে পাওয়া গেছে। এসব পেইজের মধ্যে রয়েছে Jamaat Shibir Supporters, উত্তরবঙ্গ টিভি, দাঁড়িপাল্লা নিউজ, Islamic News 24, Akhi's story, শহিদ আল্লামা সাইদি প্রেমকি এবং Jakiya tv।
এই পেইজগুলোর অধিকাংশের মধ্যে তেমন কোনো পারস্পরিক সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে উত্তরবঙ্গ টেলিভিশন, দাঁড়িপাল্লা নিউজ এবং Islamic News 24—এই তিনটি পেইজের মধ্যে পারস্পরিক শেয়ার ও ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ লক্ষ্য করা গেছে।
এদের ভিডিওতেও একই ধরনের এআই চরিত্র লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন কোট-টাই-চশমা পরিহিত প্রফেশনাল ব্যক্তিকে দাঁড়িপাল্লা নিউজ এবং Islamic News 24 উভয়ের ভিডিওতে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে উত্তরবঙ্গ টেলিভিশনে ব্যবহৃত চরিত্রগুলোর সাথে বাকি দুটি পেইজে ব্যবহৃত পেইজে ব্যবহৃত চরিত্রের মধ্যে হুবহু কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের পোস্ট করার টাইমেও কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া এই তিনটি পেইজের এডমিনদের অবস্থান বাংলাদেশে বলে দেখা গেছে। তবে বাকি জামায়াত সমর্থক পেইজগুলোর মধ্যে এমন কোনো সুস্পষ্ট সমন্বিত নেটওয়ার্কের প্রমাণ মেলেনি।
সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিএনপি সমর্থক পেইজগুলো একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মতো কাজ করছে। একই ধরনের কনটেন্ট, একই এআই চরিত্র, একে অন্যের কন্টেন্ট শেয়ার এবং কাছাকাছি সময়ে পেইজ খোলার প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থক ৩টি পেইজ ছাড়া বাকিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের প্রমাণ কম।
ফ্যাক্টচেকিং ও মিডিয়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের একটি প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, Jamaat Shibir Supporters পেইজের নির্মাতারা জানিয়েছেন, এআই-ভিত্তিক এই প্রচারণা কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ নয়।
Jamaat Shibir Supporters পেজে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামে ছড়ানো একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, “খেয়াল করে দেখবেন, আপনার এলাকার সবচেয়ে শিক্ষিত আর ভদ্র-নম্র ছেলেটিই আসলে বিএনপির বা ছাত্রদলের কর্মী..!”
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ফটোকার্ডটিও ভুয়া।
উত্তরবঙ্গ টেলিভিশনের একটি ভিডিওতে একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুককে বলতে দেখা যাচ্ছে, তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবেন তাহলে তাকে আর ভিক্ষা করতে হবেনা। কারণ তিনি যাকাতের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই জেনারেটেড।
Akhi's story পেজের একটি ভিডিওতে একজন পুলিশ অফিসারকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ইউনূস সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিলাম, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১০০০টাকার নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, কোনো পুলিশ অফিসার এমন কোনো বক্তব্য দেননি। এছাড়া ভিডিওটিও এআই জেনারেটেড।
দাঁড়িপাল্লা নিউজ পেজের একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ৯৫% কুয়েত প্রবাসী দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। ভোটের ফল প্রকাশের আগে এই ধরণের তথ্যের সত্যতা নেই।
দাঁড়িপাল্লা নিউজ পেজের আরেকটি ভিডিওতে একজন হিন্দু লোককে বলতে দেখা যাচ্ছে, আমরা হিন্দুরা দাড়িপাল্লাতে ভোট দিব, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের লোভে বিএনপির ফাঁদে পরবো না।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, বাস্তবে কোনো হিন্দু লোক এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ভিডিওটি এআই জেনারেটেড।
এসব এআই জেনারেটেড কন্টেন্টের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ডিসমিসল্যাবকে বলেছিলেন, “আমরা ভিডিওগুলো দেখেছি। তবে এগুলো কোনো সংগঠিত প্রচারণার অংশ নয়। আমাদের ধারণা, স্থানীয় মিডিয়া সেল ও সমর্থকরাই নিজ উদ্যোগে এসব তৈরি করছেন।”