সাজেক দখলে বলে ছড়ানো ছবিগুলো মিয়ানমারের

২৭ অক্টোবর, ২০২৬

‘Hello Jummo People’s' নামক একটি পেজ থেকে গত ২৫ অক্টোবর করা একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। উক্ত পোস্টে চারটি ছবি যুক্ত করে ক্যাপশনে লেখা, “সাজেক এখন ঘন্ডুস মুক্ত। সাজেকের পুরো এলাকা এখন মুক্তিকামী জুম্ম জনতার একমাত্র ভরসাস্থল JLA বাহিনীর। প্রিয় পর্যটক ভাইয়েরা পাগল হয়ে আর আন্দাজে সাজেকে প্রবেশ করবেন না। যে কোন মুহুর্তে যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে।  বাহিনীর। প্রিয় পর্যটক ভাইয়েরা পাগল হয়ে আর আন্দাজে সাজেকে প্রবেশ করবেন না। যে কোন মুহুর্তে যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে।”

পোস্টটি শেয়ার করেছেন  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী , ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ইশরাকসহ আরো অনেকেই।

কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, ছবিগুলো সাজেকের জেএলএ-এর নয় বরং, মিয়ানমারের পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বাহিনীর। 

পোস্টের ছবিগুলো রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে Kyaw Zayar নামে একটি আইডিতে পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওর দৃশ্যের সাথে উক্ত ছবিগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। 

এই আইডিতে পোস্ট করা ছবি ও ভিডিও দেখুন এখানে (২০ আগস্ট, ২০২৫), এখানে  (১২ জুলাই, ২০২৬) এবং এখানে (২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)। 

ফেসবুক আইডিটির প্রোফাইল তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যবহারকারী নিজেকে মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর নিজ এলাকা হিসেবে মাগওয়ে অঞ্চলের মিয়াইংয়ের নাম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, প্রোফাইলের কর্মস্থল অংশে ‘পাকোক্কু জেলা ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন’ উল্লেখ করে ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে সেখানে কর্মরত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। 

এছাড়াও উক্ত প্রোফাইলে পোস্ট করা ছবিতে বাহিনীর ইউনিফর্মে ‘PDF’ লেখা দৃশ্যমান। পিডিএফ বা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স হলো মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন দমনে ২০২১ সালে চালানো সহিংস অভিযানের পর গঠিত একটি সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির জান্তাবিরোধী রাজনীতিকদের গঠিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাহিনীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে এতে যোগ দেন। পিডিএফ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করে।