বিএনপির কার্যালয়ে নয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরের ছবিটি অভিনেত্রী পরীমনির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোলা
অভিনেত্রী পরীমনির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি ছড়িয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীর বিএনপির কার্যালয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ছবিটি ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত ‘সানসেট বিনস’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় তোলা।
গত ২৪ অক্টোবর ওই রেস্তোরাঁয় পরীমনির জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবিতে পরীমনির সঙ্গে দেখা যায় আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর এবং গত নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করা মডেল মেঘনা আলমকে।
এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রবাসী ইউটিউবার ইলিয়াস হোসাইন সম্পাদিত অনলাইন পোর্টাল বাংলা এডিশন ২৬ অক্টোবর একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। ফটোকার্ডে লেখা ছিলো, “‘খালেদা জিয়া মদ খেয়ে ঘুমান’ মন্তব্য করা হেলেনা বিএনপির কার্যালয়ে!”
বাংলা এডিশনের ওয়েবসাইটেও ‘বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে বিতর্কিত হেলেনা জাহাঙ্গীর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
একই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিএনপিপন্থী একটিভিস্ট আসিফ সৈকত দাবি করেছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মেঘনা আলমকে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে’ দেখা গেছে।
আসিফ লেখেন, “হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেছিল " বেগম খালেদা জিয়া মদ খেয়ে মাতাল হয়ে থাকে সবসময" বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে হাজারও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিছিলো, আজকে সেই হেলেনা জাহাঙ্গীর, এবং মেঘনা আলম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে। মাঝে মধ্যে নিজের একরোখামী, জেদ আর আদর্শের উপর নিজেরই মুতে দিতে ইচ্ছে হয়। আমি কল্পনাও করতে পারিনা- এসব মাতারিরা গুলশান কার্যালয়ে ঢুকতে পারবে! নারীর প্রতি কামের তাড়না যখন দলীয় আদর্শকেও ছাপিয়ে যায়- সেই দলের পতনের জন্য আওয়ামীলীগের প্রয়েজন দেখিনা।”
পরে আসিফ পোস্টটি সম্পাদনা করে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে’ অংশটি বাদ দেন।
জামায়াতপন্থী অনলাইন একটিভিস্ট মীর জাহান এক ফেসবুক পোস্টে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিএনপির কার্যালয়ে যাওয়ার একই দাবি করেন। তিনি লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার পরও হেলেনা জাহাঙ্গীরের মতো একজন বিপথগামী নারীর জায়গা হয় বিএনপি অফিসে! বিএনপির কর্মীরা তোমরা কি এইদিন দেখতে চেয়েছিলে? তোমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছেনা? পারবে এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে? তোমাদের সেই ক্ষমতা আছে?
“এটাই একমাত্র ঘটনা নয়। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে চুড়ান্ত পর্যায়ের নোংরামি করার পরও সেই লোক বিএনপিতে ভাল পজিশনে আছে, তারেক রহমানকে সকল প্রমাণ দেওয়ার পর ঐ লোককে আরও বড় পদ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ছবি কভার ফটোতে রেখে কেন বিএনপি এবং তারেক রহমানের পিণ্ডি চটকাই? আশা করছি তারা তাদের প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া আমার নেত্রী, তারেক রহমান আর বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি এক নয়।”