গণভোটের দ্বিতীয় গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বাড়েনি, বরং কমেছে প্রায় ১০ লাখ
গত ১৬ মে IBTVUSA কর্তৃক ‘‘সংসদ- রাজপথ - আন্দলোন | রাজনীতির এপিঠ-ওপিঠ” শিরোনামে আয়োজিত একটি টকশোতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেছেন, ‘‘৯ লক্ষ হ্যাঁ/না ভোট কম দেখিয়ে প্রথম একটা গেজেট হলো। পরে ৯ লক্ষ হ্যাঁ ভোট যোগ করে আবার একট গেজেট হলো। সেখানে তো বোঝাই যাচ্ছে। একটা ইঞ্জিনিয়ারিং এর আভাস ছিল।’’
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, শামীম হায়টার পাটোয়ারীর দাবিটি সত্য নয়। সংশোধিত গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেড়ে যায়নি; বরং প্রথম গেজেটের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি।
প্রথম গেজেটে ফলাফলে গরমিল থাকার কারণ ব্যাখা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গণভোটের ফলাফল জানিয়ে জারীকৃত প্রথম গেজেটে ভুল থাকায় সংশোধন করে আবারো গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রায় ১১ লাখের মতো ভোট কমে যায়।
ইসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নেত্রকোণা-৩ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৬০ হাজার ৭৮৭টি ভোটের পরিবর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
নেত্রকোণা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ১ লাখ ২ হাজার ১১৩টির পরিবর্তে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
নেত্রকোণা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে শিটের এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৪৪ হাজার ৫৭৩টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে তুলে ধরা হয়
প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।
সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
অর্থাৎ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর গণভোট নিয়ে ‘‘৯ লক্ষ হ্যাঁ/না ভোট কম দেখিয়ে প্রথম একটা গেজেট হলো। পরে ৯ লক্ষ হ্যাঁ ভোট যোগ করে আবার একট গেজেট হলো।’’ দাবিটি সঠিক নয়। বরং সংশোধিত গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রায় ১০ লাখ কমেছে।