আবারও টকশোতে ভুয়া খবর ছড়ালেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল
গত ৮ জুলাই কালের কণ্ঠের ইউটিউবে প্রচারিত ‘কালের সংলাপ’ শীর্ষক এক টকশোতে সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল দাবি করেন, ৬ জুলাই সাভারে এনসিপির সমাবেশে হামলার প্রেক্ষিতে আটক দুই ব্যক্তি এনসিপির লোক।
তিনি ওই টকশোতে এনসিপির সমাবেশে হামলার প্রেক্ষাপট আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘সর্বশেষ আজকে সকালে দেখলাম যে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুইজনকে নাকি আটক করা হয়েছে। এবং দুইজনই নাকি এনসিপির লোক। এটা ওখানকার ওসি বলছে।’’
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, এনসিপির সমাবেশে হামলার প্রেক্ষিতে আটক দুই ব্যক্তি এনসিপির নয়; দুই জনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের সাথে যুক্ত।
ওই দুই ব্যক্তিকে আটকের পর একাধিক সংবাদমাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচয়সহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই ব্যক্তির নাম মো. নূরুল ইসলাম ও মো. সজিব এবং দুজনই যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। যুগান্তরে প্রকশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘গ্রেফতার দুইজন হলেন- মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও একই ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অপরজন যুবলীগ কর্মী।’’
উল্লেখ্য, ৭ জুলাই আওয়ামীপন্থী প্রোপাগান্ডা পেইজ একটি ফটোকার্ড প্রচার করে। যেখানে আকবর আলী খান নামক সাভার থানার ওসির বরাতে বলা হয়, ‘‘সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলার দুইজন আটক, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে দুইজনই এনসিপির কর্মী’’। সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনিও এই ফটোকার্ড শেয়ার দিয়ে লিখেছিলেন, ‘‘তারেক রহমান জবাব দাও! সাভারে হামলা কেন?’’
তখন এই তথ্যের ফ্যাক্ট চেক করে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছিল এটি ভুয়া। তখনও কেউ এই ঘটনায় গ্রেফতার হননি। তাছাড়া সাভার থানার ওসি আকবর আলী খান নন। তিনি ২০২৪ সালের মার্চে সাভার থানা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় বদলি হয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এরপরও এই ফটোকার্ড এখনও সরাননি গোলাম মাওলা রনি। মাসুদ কামাল যখন এই ভুয়া তথ্য টকশোতে বলছেন তখন গোলাম মাওলা রনিও সহ আলোচক হিসেবেই পাশে বসা ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সাংবাদিক মাসুদ কামাল তার আলোচনায় এই হামলাকে একটা পূর্ব পরিকল্পিত ও সাজানো হামলা হিসেবে বুঝানোর জন্য বিভিন্ন যুক্তি তুলে করেন।
মাসুদ কালাম এর আগেও টকশোতে ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছেন। যা ফ্যাক্ট চেক করেছিল দ্য ডিসেন্ট।