Adv Kamal’s Initiative Draws Attention as ‘Non-Fugitives’ Grow Angry at Fugitive AL Members

10 October 2026

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাঠে নামিয়ে ৫ আগস্ট কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দেশ থেকে পালিয়ে যান তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং হাসিনার ঘনিষ্ট একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরো অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ ছেড়ে পালান বিভিন্ন দেশে। 

হাসিনা যখন হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়ে পালান তখনো দেশের ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও পুলিশ ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতি সহিংসতা জারি রেখেছিলো। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন তাদের দলীয় প্রধান তাদের অরক্ষিত রেখে পালিয়ে গিয়েছেন। এ সময় অনেকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং রণে ভঙ্গ দেন। 

৫ আগস্টের পর থেকেই তৃণমূল আওয়ামী লীগের অনেকে নিজেকে প্রতারিত বোধ করেছেন। এদেরই একজন সাবেক যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন। কামালের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় দুর্নীতিবাজ ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

কামাল নিজেকে আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী মনে করেন। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের সমালোচনায় মুখর হোন এবং নিয়মিত সেগুলো নিজের ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করতে শুরু করেন। এমনকি তিনি সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের কঠোর ভাষায় সমালোচনাও করেছেন।

এডভোকেট কামাল নিজেকে ‘বাস্তববাদী’ এবং ‘গণমুখী’ রাজনীতিক হিসেবে দেখেন এবং একই সাথে তিনি মনে করেন ৫ আগস্টের আগে ও পরে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ‘সুবিধাভোগী’ আওয়ামী লীগা নেতারা আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক নন।

তাই তিনি আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: পলাতক আওয়ামী লীগ এবং নন-পলাতক আওয়ামী লীগ হিসেবে। তার ভাষায়, বর্তমানে দলের দু:সময়ে দেশে থাকা আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে গণমুখী রাজনীতি করতে চান।

বিগত মাসগুলোতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যেসব কর্মসূচি দিয়ে মাঠে কর্মীদের নামার আহ্বান জানানো হয়েছে সেগুলোর নিয়মিত সমালোচক ছিলেন এডভোকেট কামাল। তার মতে, বিদেশে বসে সুবিধাবাদী নেতারা দেশে থাকা মাঠের কর্মীদের এসব কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিপদে ফেলছেন কিন্তু সেই বিপদ থেকে উদ্ধারে তারা এগিয়ে আসেন না। ফলে, এই ধরনের কর্মসূচির বিপক্ষে তিনি। জনাব কামাল চান, মাঠে থাকা কর্মীদের নেতৃত্ব দিতে হলে পলাতক আওয়ামী লীগাররা নন, বরং দলটির নন-পলাতক নেতারা সেই নেতৃত্ব দেয়া উচিত।

তারই অংশ হিসেবে তিনি নিজে ‘বাংলাদেশ নন-পলাতক আওয়ামী লীগ’ নামে একটি প্লাটফর্ম গঠন করে নিজেকে সভাপতি ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সারাদেশে প্লাটফর্মটির কমিটি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সাড়া ফেলেছে ‘বাংলাদেশ নন-পলাতক আওয়ামী লীগ’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট কামাল নিজেকে নন পলাতক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দেওয়ার পর অন্য আরেকটি পোস্টে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় নন-পলাতক আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এই কমিটিতে যারা অংশ নিতে চান তাদের হোয়াটসঅ্যাপে সিভি পাঠানোর আহ্বান জানান এই আইনজীবী।

এরপরেই বিভিন্ন আগ্রহী ব্যক্তিরা কামাল উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করেছেন।  ইতোমধ্যে তিনি অনেককেই কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে পদায়ন করে ফেসবুকে পোস্ট করছেন।

এমন কয়েকটি পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।

অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন দ্য ডিসেন্টকে জানান, “৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলাতক। ৩০০ এমপির মধ্যে প্রায় ২৫০ এমপিই পলাতক। এভাবে তো একটা দল চলতে পারেনা। সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। উনারা (পলাতকরা) বিদেশে থেকে কিছু কিছু ছেলেদের উসকানি দিচ্ছে যে তোমরা মিছিল মিটিং করো। এখন তাদের উস্কানিতে অনেকে জেলে আছে। তাদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেনা। এভাবে তো দল চলতে পারেনা।”

তিনি বলেন, “আমি চিন্তা করলাম যেহেতু আমি একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, এভাবে দলকে অবহেলিত করে রাখা যায়না। তাই আমি দলের হাল ধরার চিন্তা করি। আমরা যারা পালিয়ে যাইনাই তারা আমরা ৬৪ জেলায় নন পলাতক আওয়ামী লীগের কমিটি দিবো। প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নে কমিটি দিবো। দলকে সাজাবো। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ নামক সংগঠনকে ধরে রাখতে আমার এ প্রচেষ্ঠা। যত যাই হোক এই দলকে শেষ করা যাবেনা। পলাতকদের দল নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই, উনারা আসতেছেনা। দলেরও হাল ধরতেছেনা, সেজন্য আমরা নন পলাতকরা হাল ধরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এটিই আমার উদ্দেশ্য। আমার ব্যক্তিগত অন্য কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। আমি দলকে ভালোবাসি জন্যই দলের জন্য কাজ করতে চাচ্ছি।” 

তবে বিষয়টিকে ‘ফান’ হিসেবে নিয়ে অ্যাডভোকেট কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন অনেকেই। এমন কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দ্য ডিসেন্ট। নন পলাতক আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাইফুল ইসলামকে। 

সাইফুল দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আমরা মজা করেই তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করছি। এর বাইরে কিছু না। এমনকি তিনি (কামাল) নিজেও হয়তো মজা করছেন। তিনি (কামাল) কখনো গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি করছেন বলে আমার মনে হয় না।”

তবে দ্য ডিসেন্টকে কামাল উদ্দীন বলেছেন, তিনি কোন মজার করছেন না। সত্যিকার্থেই দলকে তিনি মাঠ পর্যায়ে সংগঠিত করতে চান। তবে পলাতক নেতাদেরকে তিনি এই প্রক্রিয়ায় রাখতে চান না।

‘পলাতক’দের বিরুদ্ধে ‘নন পলাতক’দের ক্ষোভ বাড়ছে

অ্যাডভোকেট কামাল একা নন, আওয়ামী লীগের বিদেশে পলাতক নেতাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে সরব হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক অনেকে। তারা ফেসবুকে পলাতকদেরকে গালিগালাজ করে ভিডিও বানাচ্ছেন নিয়মিত।

এমন একজন আকিব। তিনি ফেসবুকে নিয়মিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় আ.লীগে নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিডিও প্রকাশ করেন এবং সুবিধাভোগী ও পলাতক নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আকিবের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন এমন আওয়ামী লীগ কর্মী।

গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) একটি ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘‘পলাতক সাবেক মন্ত্রী লন্ডন থেকে বলেন কর্মীরা, মিছিল করো, মিটিং করো! মনে হয় কর্মীদের জন্মই দিয়েছেন তিনি, কিন্তু দেশে ফেরার দায়িত্বটা কার?’’

আরেকটি পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছেন, “নেতার পরিবার খাই বার্গার। আর কর্মীর পরিবার খাই শুঁটকি দিলে আলু।”

অপর এক পোস্টে ক্যাপশনে লিখেন, ‘‘পলাতক নেতাদের টাকা আছে, কিন্তু কর্মীদের জন্য নয় নারী আর মদের পেছনে খরচ! এটাই কি রাজনীতি?’’

এমন কয়েকটি পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে ও এখানে।

এ বিষয়ে জানতে আকিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট। তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পছন্দ করি না। জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আমাদের কোনো পদপদবি লাগে না। কে কি থ্রেট দেয় এসব দেখার সময় নেই। আমি একজন দেশ প্রেমিক মানুষ। সবসময় দূর্নীতিবাজের বিপক্ষে থাকি।”

সুলতান আহমেদ নামে একজন নিয়মিত আওয়ামীলীগের পক্ষে পোস্ট করেন। তিনিও পলাতক ও সুবিধাভোগী আওয়ামীলীগ নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “নিক্সন চৌধুরী ডাক দেয় আন্দোলনে নামো, আন্দোলনে নামে। আন্দোলন তোর.... (প্রকাশ অনুপযোগী শব্দ)। একটু আগেও ৫৩ জন এরেস্টে হয়েছে কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে। তোর নিক্সন চৌধুরীর এমপির... (প্রকাশ অনুপোযোগী শব্দ)।”

এমন আরও ভিডিও দেখুন এখানে ও এখানে।

এছাড়াও গালিগালাজ না করে হলেও পলাতক নেতাদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন Mahia Maria Nijhum নামে একজন। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করেন। 

একটি ভিডিও পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রাজনীতি জিনিসটা আসলেই অনেক খারাপ। সবসময় না কর্মীদেরকেই স্যাক্রিফাইস করতে হয়। কর্মীদেরকেই জেলে পচে থাকতে হয়। কর্মীদেরকেই বাবার দাফনে হাতে হাতকড়া পরানো থাকে। কিন্তু দেখেন, যারা এমপি-মন্ত্রী ছিলেন বা এমপি-মন্ত্রী আছেন, তারা কিন্তু কর্মী কর্মীদের খোঁজখবর নেয় না।”

তিনি আরও বলেন, “মিশু নামের একটা ছেলে, আমাদের মোহাম্মদপুরের, ওর বাবা ICU-তে ভর্তি। আমি সকাল থেকে দেখলাম কয়েকজন ভাইয়া আমাকে নক করছে, তার B+ (বি পজিটিভ) রক্ত লাগবে ৪ ব্যাগ। আমি দেখলাম না কোনো এমপি আমাদের এলাকার, তাকে নিয়ে একটা পোস্ট করতে। কোনো বড় বড় নেতারা অনেকেই আছেন পলায় (পালিয়ে) বিভিন্ন দেশে, তারা কখনো একটা পোস্ট করতে। তার বাবা ICU-তে ভর্তি আর ছেলে আছে এখন জেলে। তার বাবার পাশে আমাদের কিছু ভাই-ব্রাদার আছে। আসলে ভাই-ব্রাদার ভাই-ব্রাদারের পাশেই থাকে, কোনো এমপি-মন্ত্রী বা বড় বড় নেতারা আসে না।”

“আমাদের মাগুরা-২ আসনের এমপি-তো দেখেছেন, তিনি তো অনলাইন ইউজ করেন। অ্যাটলিস্ট এ ছেলেটাকে নিয়ে একটা পোস্ট করতে। শুধুমাত্র এ ছেলে না, অনেকজন জেলে গিয়েছে, তাদেরকে নিয়েও কোনো পোস্ট করেন না তারা। তারা কাদেরকে নিয়ে পোস্ট করেন জানেন? তার আপন ভাই গেলে, তার পরিবারের কেউ গেলে তাদেরকে হাইলাইট করে। বাট কর্মীদেরকে কখনো তারা হাইলাইট করবে না। কর্মীদেরকে কখনোই তারা হাইলাইট করবে না, কারণ কর্মীদেরকে হাইলাইট করলে... কর্মীরা তো দুঃসময়ের, তারা তো সুসময়ের না।”-- যোগ করেন নিঝুম।

এই পোস্টে মাগুরা জেলার ছাত্রলীগ নেতা Ashikuzzaman Akash কমেন্টে লিখেছেন, “একটা জিনিসই খারাপ লাগে। এই ছোট বয়সে এই রাজনীতির জন্য আমরা করি নাই কে। বাট আমরাই সব থেকে বেশি অবহেলিত। ভাই হয়ে আমরাই পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। নেতাদের যদি নূন্যতম লজ্জায় ঘৃণা থাকতো। তাহলে তৃণমূল পর্যায়ে যে কর্মী গুলা আছে এদের খোঁজ খবর অন্তত নিতো।”

‘নন-পলাতকদের’ ক্ষোভের খবর সংবাদমাধ্যমেও

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের প্রতি ‘নন-পলাতক’ নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও হতাশার খবর এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও।

এ বছরের ১৩ এপ্রিল ‘‘আ.লীগের তৃণমূলে হতাশা, ক্ষোভ আরও বাড়ছে’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে সময়ের আলো। খবরে মোটাদাগে যে বিষটি তুলে ধরা হয়েছে তার একটি অংশ হলো– “মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সংকটের কঠিন সময়ে তারা যখন মামলা, গ্রেফতার, আত্মগোপন ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি বড় অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় সংগঠনের ভেতরে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।”

ঢাকা মেইলের একটি খবরের শিরোনাম ছিল, “এবারের ঈদেও ছন্নছাড়া আওয়ামী লীগ, তৃণমূলে হতাশা” এই খবরেও উঠে এসেছে, ‘‘বড় নেতাদের আয়োশি জীবনের’’ কারণে তৃণমূলে ক্ষোভ দেখা গেছে।

গত ৬ আগস্ট ‘‘শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা’’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। সেই খবরটি প্রথম আলোর ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা হয়। সেখানে অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল “বাড়িতে ঘুমাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা’, ক্ষোভ ঝাড়লেন পলাতক ছাত্রলীগ নেতা” শিরোনামে খবর প্রকাশ করে সময়ের আলো। 

খবরে বলা হয়েছে, “৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের লাইভে তিনি বলেন, ‘বড় বড় আওয়ামী লীগ নেতা, যারা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তারা শহরে ঘুরছেন, বাড়িতে ঘুমাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর নেই। যত হামলা-ভাঙচুর ও মামলার আসামি ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।”

“মেহেদী হাসান বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় আমি ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীরা কোনো টাকাপয়সা ইনকাম করতে পারিনি, উল্টো খরচ হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে কেউ তাদের খোঁজখবর রাখছেন না।”

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিদেশ পলাতক নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়েছে। আরও দেখুন, এখানে, এখানে ও এখানে।

‘নন পলাতক আ.লীগ’ এর সভাপতি কামাল উদ্দীন কে? 

কামাল উদ্দীনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। নিয়মিত আইন চর্চা করেন চট্টগ্রাম জেলার আদালতে। তিনি আওয়ামী আমলে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২২ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ তাকে একবার বহিষ্কার করা হয়েছিল। যদিও তার ফেসবুক প্রোফাইলে উল্লেখিত তথ্যমতে,  ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে ছিলেন।

আঞ্চলিক ভাষায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের গালিগালাজ করে ভাইরাল হওয়া এই আইনজীবীর ফলোয়ার সংখ্যা বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। তিনি দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন নন-পলাতক আওয়ামী লীগারদের কাছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝেও জনপ্রিয় এই ব্যক্তির ভিডিও মজা করে অনেকে শেয়ার করছেন।

কামালের আদলে আঞ্চলিক ভাষায় পলাতক আওয়ামী লীগারদের গালাগালির ট্রেন্ড জনপ্রিয় হচ্ছে ফেসবুকে। এমনকি কামাল উদ্দীনের আদলে ফেসবুকে কেউ কেউ ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করছেন।

ফেসবুকে ভাইরাল এই আইনজীবী আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে ভাগ করেন। একটি পলাতক আওয়ামীলীগ, অন্যটি নন-পলাতক আওয়ামীলীগ।

যে কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষোভ কামালের

২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন কামাল উদ্দিন। সে সময় তিনি চট্টগ্রাম জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। 

সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন কবিরের মাধ্যমে তার কাছ থেকে এই টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই অভিযোগ তুলে কামাল ফেসবুকে একটি স্টাটাস দেন সে সময়ে। ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি চেকের ছবিও যুক্ত করেন। এই নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আসন্ন ১৭ নং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দিবে বলে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন কবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এমপির নাম দিয়ে আমার কাছ থেকে পনের লাখ টাকার চেক নিয়েছে।’’

তিনি আরও লিখেছিলেন, “দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাকে মনোনয়ন দেয়া তো দূরে থাক, কেন্দ্রে আমার নামটি পর্যন্ত পাঠায়নি। এখন আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূলের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।”

এ ঘটনার পর যদিও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং অ্যাডভোকেট কামালকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আবারও টাকা ফেরত চেয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে সরব হন। বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও বানানোর সময়েও এই প্রসঙ্গ তোলেন। 

মূলত, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেই ভাইরাল হন এই আইনজীবী। মাঝে মাঝেই তিনি ফেসবুকে টাকা লেনদেন সম্পর্কিত পুরোনো সংবাদের ভিডিও পোস্ট করে লিখেন, ‘‘আমি এখনও টাকা ফেরত পাই নাই।’’

এছাড়া যার মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি কররেছেন কামাল (হোসেন কবির, যুগ্ম সম্পাদক সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগ) তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ফেসবুকে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছেন।

হত্যার হুমকির অভিযোগ কামাল হোসেনের

পলাতক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে হত্যার হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন “নন-পলাতক আওয়ামী লীগের সভাপতি” অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন। ফেসবুক পোস্টে তিনি হুমকিদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি ফেসবুকে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর হুমকির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফেসবুক পোস্টে হুমকিদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে স্ক্রিনশট যুক্ত করে কামাল লিখেছেন, ‘‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। টু স্কিন সট  পেইজ বুক আইডির  ব্যক্তি সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন প্রচার  ও  প্রকাশনা  সম্পাদক  বাংলাদেশ আওয়ামী কেন্দীয় কমিটি , ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগ এর যুগ্ম সম্পাদক হোসেন কবির ও জসিম প্রকাশ রাশিয়ার জসিম আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমাকে কেউ মেরে ফেল্লেই তারা দায়ী থাকবে।’’

আবারো চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা

পদ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলার পর সে বছর আর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সুযোগ হয়নি অ্যাডভোকেট কামালের। তবে তিনি সম্প্রতি আবারো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপ্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণারও চালাচ্ছেন তিনি।

তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, “সম্মানিত গাইচ ও সোনাকানিয়া ইউনিয়ন বাসি আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আগামী আসন্ন সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রত্যাশী। ইহাতে আপনাদের সহযোগিতা ও ভালবাসা একান্ত আবশ্যক।”

সোনাকানিয়া হলো চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন।