Three Chhatra Dal Activists Identified in Attack on RU Journalists
গতকাল রোববার (৪ আগস্ট) রাত ৮ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সংবাদ সংগ্রহ করতে দিয়ে হামলার শিকার হন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাজশাহী ইউনিভার্সিটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ২৪ ডটকমের আরিফুজ্জামান কোরবান এবং সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু।
এই হামলার বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সরাসরি জড়িতদের মধ্যে তিনজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট।
জড়িত নেতাকর্মীরা হলেন– শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব (আইন বিভাগ, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম (ইতিহাস বিভাগ, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) ও ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী (অর্থনীতি বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ)।
তবে এই হামলায় আরও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। তবে দ্য ডিসেন্টের হাতে আসা ও ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও থেকে তিন জনকে মারধরকারী হিসেবে শনাক্ত করতে পেরেছে।



যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সংবাদমাধ্যমের খবর ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে হলের দিকে যান। তাদের অভিযোগ, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে খুঁজতেই ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাট দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন। পরে আবার অস্ত্রগুলো দেখতে পেয়ে সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে সমকালের প্রতিবেদককে লাঠি দিয়ে পেটানো হয় এবং আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরিচয় প্রকাশের পরেও ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলা
ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে পেটানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চেহারা বোঝা গেলেও ‘অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মনির হোসেন মতিহার থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, “ফেসবুকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।”
“উক্ত ঘটনার জের ধরে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে কতিপয় শিক্ষার্থী, যারা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক বা অনাবাসিক শিক্ষার্থী নন, হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অনধিকারভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা হলের ২১৪ নম্বর কক্ষ তল্লাশি করেন।”
‘‘এরপর ওই শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে মতিহার থানাধীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের গেটের সামনে কয়েকজন সাংবাদিক তাদের সামনে এসে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।’’
‘‘একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের হাতে থাকা লাঠিসোঁটা দিয়ে সাংবাদিকদের এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করেন। পরবর্তীতে আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘অজ্ঞাতনামাদের নামে মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মতিহার থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে উল্লেখ করে তিনি মামলাটি করেছেন। এর সঙ্গে যারা জড়িত, যদি প্রাথমিকভাবে এগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’