Death Threats After Leaving Extremism: Former Air Force Member Reveals His Experiences
ছাব্বির হোসেন নামে বিমান বাহিনীর সাবেক একজন সৈনিক (বিডি ৪৭৬৯৬৫) গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও বক্তব্য পোস্ট করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা গত ২৬ সেপ্টেম্বর সিমপ্লেক্স অ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। ছাব্বির হোসেনের দাবি, বিমান বাহিনীর কয়েকজন সাবেক সদস্যের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে জড়িত থাকার তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানোর কারণে তাকে এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ছাব্বির ভিডিওতে বলেছেন তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিমান বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন এবং গত বছরের অক্টোবরে কোর্ট মার্শালে চাকরি হারান।

ছাব্বির হোসেন নিজেও এক সময় উগ্রবাদী তৎপরতায় আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি ‘জিহাদের জন্য’ দেশ ত্যাগের কথাও ভেবেছিলেন তিনি। বর্তমানে তার দাবি, তিনি এসব চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছে, তারা ছাব্বিরের উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া এবং এরপর তিনি যাদের নামে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন সেগুলো খতিয়ে দেখছেন।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের ভিডিও পোস্ট করার সূত্র ধরে দ্য ডিসেন্ট ছাব্বিরে সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসময় তিনি উগ্রপন্থার সাথে নিজের জড়িয়ে পড়া এবং এরপর তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা বর্ণনার সাথে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। ছাব্বিরের বর্ণিত এসব ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জনের বিষয়ে আরও খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেছে দ্য ডিসেন্ট।
যেভাবে উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকেন ছাব্বির
ছাব্বির জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিমান বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। তার দাবি, যোগ দেয়ার পর স্বল্প বেতনের এই চাকরিতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। চাকরি করা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা অবস্থায় গত বছর কোরাবনির ছুটিতে বাড়ি গিয়ে আর বাহিনীতে ফেরেননি। তবে ছুটি শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পরে আবার যোগদানের আবেদন করে চট্রগ্রামের জহুর বেইজে ফিরেন। তখন বাহিনীর পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে বোর্ড গঠন করে কোর্ট মার্শালের তাকে বরখাস্ত করা হয়।
ছাব্বির জানান, কোর্ট মার্শাল চলাকালীন তিনি যখন কোয়ার্টার গার্ডে ছিলেন তখন বিমান বাহিনীর কয়েকজন সদস্য তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং ধর্মীয় উগ্রবাদে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন।
তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমার ৪৭ দিন ধরে বোর্ড চলেছে। বোর্ড চলাকালীন সময়ে আমি চরম হতাশার মধ্যে ছিলাম। ওই মুহূর্তে ওরা আমার সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন বই দেয়। আমি ধর্মীয় বই মনে করে সেগুলো পড়ি। পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারি তারা জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত।”
দ্য ডিসেন্ট এর সাথে আলাপকালে ছাব্বির তার মোবাইলে থাকা বিভিন্ন ছবি, স্ক্রিনশট ও বার্তা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া একটি টেক্সট ছিল।
সিমপ্লেক্স নামে একটি যোগাযোগের অ্যাপে ছাব্বিরকে সম্প্রতি পাঠানো হুমকির বার্তাটিতে লেখা ছিল, “ছাব্বির তুই এত বড় ক্ষতি করবি কল্পনা করতে পারি নাই। তাগুদী রাষ্ট্রের কাছে নিজের ঈমান বেচে দিলি? তুই পুরা একটা মার্কাজ ধ্বংস করে দিছোস। শরীয়াহ অনুযায়ী তোকে কতল করা ফরয। যাই হোক দেখ তোর রাষ্ট্র তোর dgfi কতদিন তোরে বাচাইতে পারে। Be aware! (আল্লাহর নগন্য বান্দা মুসাফির)”।
তাকে এমন হুমকির দেয়ার কারণ হিসেবে ছাব্বির জানিয়েছেন, তিনি যখন বুঝতে পারেন যে, ভুল করছেন তখন উগ্রবাদী চিন্তা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা শুরু করেন এবং তাকে যারা এই পথে নেয়ার চেষ্টা করেছিল তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে উগ্রপন্থীরা তাকে হুমকি দেয়া শুরু করে বলে দাবি তার।
উগ্রবাদে জড়িয়ে ‘জিহাদের জন্য’ দেশ ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তিনি।
নিজের এক সময়ের উগ্রবাদী ভাবনার কথা জানিয়ে দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “তখন ভাবতাম ওরা যেভাবে পরিকল্পনা করতেছে বা ভাবতেছে যে বৈশ্বিকভাবে যদি একটা ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে তো ভালোই। আমি দেশ ছাড়ার ব্যাপারে মোটিভেটেড হয়েছিলাম। কিন্তু যখনই চলে যাওয়ার কথা ভাবতাম তখন আমার চোখের সামনে বাস্তবতাটা চলে আসতো। আমি যে চলে যাবো আমার তো একটা লাইফ আছে। এজন্য আমি আসলে সময় নিতেছিলাম। আমাকে যখন অফার করা হতো তখন আমার সামনে এই বাস্তবতাগুলা চলে আসতো। ফ্যামিলি, বাবা, মা তারপরে ফ্রেন্ড সার্কেল, এগুলা।"
উগ্রবাদী কোন সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছিলেন জানতে চাইলে ছাব্বির পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। তাকে যারা রিক্রুট করেছেন তারা টিটিপির সাথে যুক্ত।
ছাব্বির বলেন, "মুস্তাফিজ (বিমান বাহিনীর আরেক সদস্য যিনি তাকে রিক্রুট করেছেন) আমাকে ইমরান হায়দারের ব্যাপারে বলেছিল। ইমরানের সাথে আমার সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তবে মুস্তাফিজ আমাকে তার লেকচার শুনতে বলেছিল।"
ইমরান হায়দার বাংলাদেশ বিমানের গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি টিটিপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে অবস্থান করছেন। টিটিপির হয়ে যুদ্ধ করা বাংলাদেশিদের মাঝে তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন এবং বাংলাদেশি যুবকদের রিক্রুট করারও দায়িত্ব পালন করে বলে একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি স্বনামেই টিটিপির পক্ষে প্রচারণা চালান। ইতিপূর্বে একাধিকবার তিনি দ্য ডিসেন্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং টিটিপি সংক্রান্ত দ্য ডিসেন্টের একাধিক রিপোর্টে ইমরান হায়দারের প্রসঙ্গ এসেছে।
উগ্রবাদে যুক্ত বলে বাহিনীর যাদের নাম বলছেন ছাব্বির
বিমান বাহিনীর সাবেক এই সদস্য তার পোস্ট করা ভিডিও বক্তব্যে এবং দ্য ডিসেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৪৮ এন্ট্রির কর্পোরাল মুস্তাফিজ ও কর্পোরাল শোয়েব (বিডি ৪৭৪৫৩৫) এবং ৪৭ এন্ট্রির কর্পোরাল জাবের নামে তিনজন সাবেক বাহিনী সদস্যের নাম বলেছেন যারা টিটিপির পক্ষে তাকে দাওয়াত দিয়েছেন।

ছাব্বির জানান, কোয়ার্টার গার্ডে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় কর্পোরাল মুস্তাফিজ তার সাথে যোগাযোগ শুরু করেন এবং তাকে কয়েকটি বই পড়তে দেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সাঈদ জামান লিখিত ‘কাশ্মিরের শাহজাদী’ নামের একটি উপন্যাস, সায়ীদ উসমানের লেখা ‘দ্য টাইগার অব প্যালেস্টাইন’, ডা. শামসুল আরেফীন শক্তি লিখিত বই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড টু’ ও ‘অবাধ্যতার ইতিহাস’ এবং হেদায়াতুল্লাহ মেহমান্দ রচিত ‘ইতিহাসের আয়নায় বিশ্ব ব্যবস্থা’ (লেখকদের নাম দ্য ডিসেন্ট খুঁজে বের করেছে)।
ছাব্বির দাবি করেন, বই সরবরাহ করার পাশাপাশি ওই সময় মুস্তাফিজ ও তার অন্য সহযোগীরা মেস থেকে তার জন্য ভালো খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে দেন। ফলে তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ছাব্বির
তিনি বলেন, শোয়েব ইতিপূর্বে বাহিনীতে ছাব্বিরের ট্রেইনিং ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। তবে পরবর্তীতে শোয়েব পালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চলে যান। এসময় ছাব্বির কিভাবে বাহিনী থেকে বের হয়ে আসতে পারেন সে ব্যাপারে শোয়েবের সাথে তার যোগাযোগ হয়। এক পর্যায়ে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে ছাব্বির বরখাস্ত হওয়ার পরও তার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন কর্পোরাল শোয়েব আহম্মেদ।
ছাব্বির দ্য ডিসেন্টকে জানান, অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে শোয়েব তাকে উগ্রবাদে দীক্ষিত করার চেষ্টা করতে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে শোয়েব গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের এক যুবক টিটিপির হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন’ বলে ছাব্বিরকে জানান। ছাব্বিরের বাড়িও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে।
ছাব্বির জানান, শোয়েব আহম্মেদ ওই যুবকের নিহত হওয়ার খবর ছাব্বিরকে জানিয়ে বলেন, “সে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। আমরা তো কিছুই করতে পারলাম না।”
গত বছরের নভেম্বরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের যুবক রতন ঢালী পাকিস্তানে টিটিপির হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছিল দ্য ডিসেন্ট।
মুস্তাফিজের আটকের খবরে ভয় পেয়ে যান
ছাব্বির জানান, তিনি বাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মুস্তাফিজও পালিয়ে পাকিস্তান চলে যান। ছাব্বিরের দাবি, সেখানে গিয়ে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।
ছাব্বির দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “শোয়েব এ বছর এপ্রিলের ১৬ বা ১৭ তারিখের দিকে আমাকে জানায় মুস্তাফিজ তো পাকিস্তান গিয়ে আর্মির কাছে কট। এই তথ্য শুনে আমি ভয় পেয়ে যাই এবং এদের ব্যাপারে বিমান বাহিনীকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিই।”
তিনি জানান, তিনি মে মাসের শুরুর দিকে পুরো ব্যাপারটা তার ফিল্ড ইউনিটকে জানান এবং তাদের কাছে নিরাপত্তা চান। তার ভাষ্যে, “আমি ঢাকায় যাইয়া হেডকোয়ার্টারে যাইয়া সবকিছু জানাইছি। আর আমি এর মধ্যে সার্ভিসে আমার যে দুই চারজন বন্ধু-বান্ধব ছিল আনঅফিসিয়ালি তাদের থেকে জানলাম যে সার্ভিসে পুরা গরম হয়ে গেছে, এই তথ্যগুলা সব জানাজানি হইয়া গেছে। সবার ফোন সিজ করে ফেলতেছে। তখন আমার ব্যাপারটা আমি যাইয়া ফিল্ড ইউনিটরে সব জানাইলাম।”
ছাব্বির আরও বলেন, “জানানোর পরে ফিল্ড ইউনিট বললো যে তুমি কী চাও? তো আমি বললাম যে, স্যার আমার কাছে তথ্যগুলা আছে আমি রাষ্ট্রকে দিলাম এখন আপনারা আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন আর আমি যে এত কিছু রাষ্ট্রের জন্য করছি অবশ্যই রাষ্ট্রের একটা দায়বদ্ধতা আছে। আমি ইয়াং পার্সন, আমি ট্রেইনড পার্সন, আমি ভুল করছি আমি চাকরিতে আবার রি-জয়েন করতে চাই। পরে ওনারা বললো যে, এরকম তো কোনো সিস্টেম নাই। তারপরও আমরা কথা বলে তোমার জন্য চেষ্টা করবো, ডাইরেক্টর স্যারের সাথে কথা বলবো, চিফ স্যারের সাথে কথা বলবো। আমি বলছি আমি তো মার্সি পিটিশন দিছি। চিফ স্যার পিটিশন সাইন করলে আমি আবার বেসিক কোর্সে জয়েন করতে পারি। তো তারা আমারে আশ্বস্ত করলো। তো তারা বললো যেহেতু তুমি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা চাচ্ছো আর তুমি তো সিভিল পার্সন আমরা তো তোমারে নিরাপত্তা দিতে পারি না। আমরা ডিজিএফআইকে বলি। তারপরে ডিজিএফআই আসলো, ডিজিএফআই আইসা কথা বললো যে, তুমি রাষ্ট্রকে তথ্য দিচ্ছো, রাষ্ট্র তোমাকে অবশ্যই নিরাপত্তা দিবে।”
তিনি দাবি করেন, হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তিনি তার ফিল্ড ইউনিট ও ডিজিএফআইয়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন। তবে তাদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাননি। ফলে তিনি এখন তার জীবন নিয়ে শংকায় আছেন।
ছাব্বির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে দাবি করেছেন, বিমানবাহিনীর বেশ কিছু সদস্য বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত এবং এদের মূল হোতা কর্পোরাল শোয়েব। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিমান বাহিনীতে জঙ্গি তৎপরতার একটা বিষয় কানাঘুষা কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল। এটা যদিও অথরিটি ওইভাবে আমলে নেয়নি বা উড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু বিষয়টা আসলে সত্য এবং এটা সম্পূর্ণ একটি জ্বলজ্যান্ত ঘটনা। বিমান বাহিনীতে এমন অনেকেই ছিল আমি দেখেছি, আমার তথ্য অনুযায়ী আমি এই তথ্যগুলা বিমান বাহিনীর ফিল্ড ইউনিট এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে গোয়েন্দা সংস্থা, ডিজিএফআইকে আমি দিয়েছি। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে একটা গ্রুপ আছে, সেই গ্রুপের মূল হোতা ছিল কর্পোরাল শোয়েব, সে ৪৮ এন্ট্রির জিসিআই, গ্রাউন্ড কমব্যাট ইন্সট্রাক্টর ছিল।”
ছাব্বির বলেন, “এরকম সার্ভিস থেকে এই শোয়েবের মতো লোকেরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনকে প্ররোচণা দিয়ে তাদেরকে অ্যাবসেন্ট করে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত করার জন্য খুব রকমভাবে ইনফ্লুয়েন্স করতে থাকে। তো সেভাবে তারা আমাকেও করতেছিল।”
একজন অতি প্রভাবশালী সিভিলিয়ান প্রসঙ্গ
ছাব্বির দ্য ডিসেন্টের কাছে দাবি করেছেন, শোয়েব আহম্মেদ তাকে একজন সিভিল ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন যিনি একজন আলেম এবং দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত, যার বহু ভক্ত রয়েছেন।
তিনি জানান, ভক্তরা তাকে ‘শায়খ’ হিসেবে সম্বোধন করে থাকেন।
ছাব্বিরের দাবি, ওই ব্যক্তি গত বছরের নভেম্বরে কাতার ভ্রমণ করলে সেখানে শোয়েবের সাথে তার দেখা হয় এবং সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে শোয়েব ছাব্বিরকেও ওই ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ছাব্বির জানান, তিনি চট্রগ্রামে ওই সিভিলিয়ান ব্যক্তির কার্যালয়ে একাধিকবার বেড়াতে গিয়েছেন।
ছাব্বিরের সাথে ওই ব্যক্তির শখ্যতার প্রমাণ দেখেছে দ্য ডিসেন্ট। তবে নিরাপত্তা সংকটের শংকা জানিয়ে ছাব্বির ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দ্য ডিসেন্টকে। এবং তার ডিভাইসে থাকা ওই ব্যক্তির সাথে তোলা ছবিও প্রকাশের জন্য দেননি।
এ ব্যাপারে ছাব্বির দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “ওই ব্যক্তি অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার কার্যালয়ে অনেক বড় বড় লোকরা যাতায়াত করে। রাষ্ট্র যদি আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাহলেই কেবল আমি তার নাম প্রকাশ করে কথা বলবো।”
ছাব্বির দ্য ডিসেন্টকে আরও বলেন, “শোয়েবের কাজ পাকিস্তান কেন্দ্রিক থাকলেও উক্ত সিভিলিয়ান ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের পর আগ্রহ আরাকান কেন্দ্রিক হয়ে যায়। কারণ উক্ত সিভিলিয়ান ব্যক্তির আগ্রহ আরাকান কেন্দ্রিক। পাকিস্তান কেন্দ্রিক যারা কাজ করে তাদের সাথে উক্ত ব্যক্তির দ্বন্দ্ব রয়েছে।”

পাকিস্তানে টিটিপির হয়ে যুদ্ধরত বাংলাদেশি ইমরান হায়দারকে ফেসবুকে প্রায়ই চট্টগ্রাম ভিত্তিক একজন আলেমকে ইঙ্গিত করে আরাকান কেন্দ্রিক তরুণদেরকে আগ্রহী করে তোলার বিষয়ে তার চেষ্টার সমালোচনা করতে দেখা গেছে।
গত বছরের অক্টোবরের শেষদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক একজন আলেম তার এক বক্তব্যে টিটিপিতে যোগদানের ব্যাপারে বাংলাদেশি তরুণদের সতর্ক করেন এবং আরাকান জিহাদে যোগদানের ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।
ওই বক্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হয় পাকিস্তানে থাকা বাংলাদেশি টিটিপি সদস্যরা। টিটিপির বিরোধিতাকারীদের সতর্ক করে গত বছরের নভেম্বরে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে ভিডিও বার্তাও দেয় বাংলাদেশি টিটিপি সদস্যরা।
বাহিনীর ৩ জনের ব্যাপারে দ্য ডিসেন্ট যা জানতে পেরেছে
কর্পোরাল শোয়েব আহম্মেদ, কর্পোরাল মুস্তাফিজুর রহমান ও কর্পোরাল জাবের নামে বিমানবাহিনীর যে ৩ সদস্যের কথা উল্লেখ করেছেন ছাব্বির তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেছে দ্য ডিসেন্ট।
কর্পোরাল শোয়েবের মা শাহানা ইয়াসমিন লাভলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে জানান, তার ছেলে বর্তমানে কোথায় রয়েছে তিনি জানেন না এবং ছেলে তার সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ করেন না।

শাহানা আরও জানান, শোয়েব গত বছর রোজার ঈদের দিন কাতারে পাড়ি জমান। কাতারে থাকার সময় ছেলের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। তবে এ বছর জানুয়ারিতে শোয়েব দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে এ বছরের কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে তিনি আবারও বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে আর কোন যোগাযোগ রাখেননি।
শোয়েবের মায়ের দাবি, শোয়েব বিদেশে যাওয়ার সময় তিনি চাকরিরত অবস্থায় ছিলেন। বিদেশ গমনের আগের দিনও তিনি ডিউটি করেছেন। শোয়েবের মা বলেন, “ওর যে বন্ধুবান্ধবরা ছিল ওখানে (কাতারে) তারাই ভিসা করে দিছে, তারাই সবকিছু করে দিয়েছে। ও আরও দুই বছর আগেও যেতে চেয়েছিল কিন্তু আমি যাইতে দেইনাই।”
সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুসারে, সদস্যদের সরকারি পাসপোর্ট থাকার কথা এবং বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকারের অনাপত্তিপত্র থাকা লাগে। তবে শাহানা ইয়াসমিন জানান, তার ছেলে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি এবং অনুমোদনও নেননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এই প্রশ্ন তো আমাকে করে লাভ নাই। এর আগে যারা গেছে তারা কি সরকারি পাসপোর্টে গেছে? এরা সবাইতো দুই নম্বরি করে চলে গেছে।”
শোয়েবের মা জানান তার ছেলে ধার্মিক ছিলেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। ছেলে তাকে দু’টি ইসলামী বই পড়তে দিয়েছিলেন। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করা একটি বিশেষায়িত সংস্থাও শোয়েবের বাসা থেকে টেবিলের উপর রাখা দু’টি ইসলামী বইয়ের ছবি তুলে আনে। দ্য ডিসেন্ট সেই ছবিটি সংগ্রহ করেছে৷ ছবিতে থাকা বইগুলো ছিল আল-কায়েদার তাত্ত্বিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে আজ্জামের লেখা ‘তাফসীরে সূরা তাওবা’ ও আসিফ আদনানের লেখা বই ‘মুসলিম বঙ্গ’। আব্দুল্লাহ ইবনে আজ্জাম বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের অন্যতম একজন প্রবর্তক ছিলেন এবং ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আসিফ আদনান ২০১৪ সালে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে তিনি তার বিভিন্ন বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদী কোন সংগঠনে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেছেন।
শোয়েবের মা শাহানা ইয়াসমিনের কাছে টেবিলের উপর রাখা বই দু’টির ছবি পাঠিয়ে দ্য ডিসেন্ট জানতে চায় তার ছেলে শোয়েব তাকে যে দু’টি ইসলামী বই পড়তে দিয়েছিল সেগুলো এই দু’টি কিনা। তিনি দাবি করেন তাকে দেওয়া বইগুলো ভিন্ন বই ছিলো। টেবিলের উপর রাখা বইগুলো সম্পর্কে তিনি জানেন না। তবে টেবিলটি তার বাসার বলে তিনি শনাক্ত করেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “৩জন লোক এসেছিল। তারাই বইগুলো রেখেছিল কিনা সেটা আমি জানি না।”
দ্য ডিসেন্ট শাহানা ইয়াসমিনকে ওই তিন ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। শাহানা ইয়াসমিনের পাঠানো সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তির হাতে একটি পাতলা ফাইল ও নোট খাতা দেখতে পাওয়া যায় এবং বাকি দুইজনের হাত খালি থাকতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে কারো হাতেই কোন বই থাকতে দেখা যায়নি এবং তাদের হাতে কোন ব্যাগও ছিল না।
পুরো কথোপকথনে শাহানা ইয়াসমিন বারবারই কোন একটি সংস্থা থেকে যাওয়া ব্যক্তির উপর ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন।
মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যাপারে খোঁজ নিতে তার বোনের স্বামী আবু বকরের সাথে যোগাযোগ হয় দ্য ডিসেন্টের। আবু বকর নিজেও পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “ মুস্তাফিজ ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। গত এপ্রিলের ১৩ তারিখে তার স্টেশনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। স্টেশনে যোগ দেওয়ার কথা বলে সে ১০ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ নাই।”
মুস্তাফিজের বাবা মফিজুল ইসলাম গত ২ আগস্ট সাভার থানায় তার ছেলে নিখোঁজ মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, “১১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি বিকাল ৩:০০ ঘটিকার সময় সাভার থানাধীন সাভার পৌরসভা ওয়ার্ড নং -০১ এর জামসিং এলাকা থেকে আমার ছেলে নিখোঁজ হয়েছে।” বাসাটির ঠিকানা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, “সি ৮/১০ পূর্ব জামশিং।”
মুস্তাফিজের বাড়ি রংপুরের কোতয়ালী থানাধীন সদ্য পুস্কুরণী এলাকায়। মুস্তাফিজের বাবার করা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা ঠিকানাটি শোয়েব আহম্মেদের বাসার ঠিকানার সাথে মিলে যায়। অবশ্য সাধারণ ডায়েরিতে মুস্তাফিজের বাবা শোয়েব প্রসঙ্গে কোন কিছু উল্লেখ করেননি।
মুস্তাফিজের বাবা মফিজুল ইসলাম দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “সে একমাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। তারপর এপ্রিলের ১০ তারিখে চাকরিতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের। ঢাকা গিয়ে ফোন দিছে যে ঢাকায় পৌঁছাইছে। তো আমি বললাম ঢাকা কেন। তার চাকরি চট্রগ্রাম ট্রেইনিং সেন্টারে। সে বললো ঢাকায় সাভারে তার বন্ধু আছে শোয়েব। ওখানে তার সাথে দেখা করবে। পরদিন ১১ এপ্রিলও জানাইলো ওখানে আছে। তারপর ফোন দেই আর ফোন ঢুকেনা। মোবাইল বন্ধ। এখন সে কোথায় আছে কী করে আমরা আর কিছুই জানিনা।”
শোয়েবের মা শাহানা ইয়াসমিনের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মুস্তাফিজের ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহানা ইয়াসমিন স্বীকার করেন যে মুস্তাফিজ তার ছেলে শোয়েবের কাছে এসেছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “বন্ধু বান্ধব, কলিগ তো বাসায় আসতেই পারে।”
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করা একটি বিশেষ সংস্থার প্রতিবেদনে মুস্তাফিজ পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক বলে উল্লখ করা হয়েছে। শোয়েবের সাথে কথোপকথনের বরাতে দ্য ডিসেন্টের কাছে একই দাবি করেছেন বরখাস্ত হওয়া সৈনিক ছাব্বির।
কর্পোরাল জাবেরের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়নি দ্য ডিসেন্ট। তার আইডি কার্ডে থাকা দু’টি মুঠোফোন নাম্বারে কল দিলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে জাবের স্ত্রীসহ ইমিগ্রেশন পার হচ্ছেন এমন একটি ছবি হাতে এসেছে দ্য ডিসেন্ট এর। গত ১৯ মার্চ তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বেসরকারি পাসপোর্টে ও ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নাম্বার বিজি ৩৪১ এ সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে করাচির উদ্দেশ্যে গমন করেন। এ সংক্রান্ত নথি দ্য ডিসেন্ট সংগ্রহ করেছে।

নিরাপত্তা চান ছাব্বির
২৬ সেপ্টেম্বর হত্যার হুমকি দিয়ে পাঠানো মেসেজের পর গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইংরেজিতে আরও একটি মেসেজ পাঠানো হয় তাকে। সেখানে লেখা ছিল, “The previous message was just a warning for you. Patriotism in front of public? The matter was not taken well. This is the last chance to you to get away from yourself and stop it here. You are talented, don’t make the same mistake again. Remember…… Hasbunallah Owa Nemal Owakil (in Arabic)”
বাংলায় অর্থ দাঁড়ায়, “আগের মেসেজটা জাস্ট একটা সতর্কবার্তা ছিল। মানুষের সামনে দেশপ্রেমের প্রদর্শনী? বিষয়টা ভালো ভাবে নেওয়া হয়নি। এটা দূরে থাকার জন্য এবং এখানেই থেমে যাওয়ার জন্য এটা তোমার জন্য শেষ সুযোগ। তুমি বুদ্ধিমান, একই ভুল আবারও করো না। মনে রেখ… হাসবুনাল্লাহ ওয়া নে’মাল ওয়াকিল।”
হত্যার হুমকি পেয়ে জীবননাশের আতংকে আছেন বলে দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন ছাব্বির। তিনি বলেন, “আমি চাকরি থেকে আসার পরে এপ্রিল মাসের থেকে এখনো পর্যন্ত আমি রাষ্ট্রকে বিভিন্নভাবে যারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাথে জড়িত বা বিভিন্ন জঙ্গি বা উগ্রবাদের সাথে জড়িত এই সংক্রান্ত অনেক তথ্য দিয়ে আমি রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছি। জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আছে এবং এরা মূলত জিহাদের নামে মানুষের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার করার বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার একটা মানে গোপন চক্র বা পায়তারা এভাবে তারা করে চলছে। তো আমি রাষ্ট্রের জন্য যা করেছি, দেশের জন্য যা করেছি, আমি তার জন্য গর্বিত। এবং আমি রাষ্ট্রের জন্য করেছি অবশ্যই রাষ্ট্র বেনিফিটেড হয়েছে, আমার দেশ বেনিফিটেড হয়েছে এবং আমি যে সমস্ত তথ্যগুলা দিয়েছি তার জন্য আমি অবশ্যই আমি নিরাপত্তা প্রার্থী।”
ছাব্বির আরও বলেন, “আমি বাহিনীকে সম্পূর্ণ রকমভাবে বিস্তারিত সব তথ্য প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছি কিন্তু আমি তাদের থেকে কোনো প্রকারের কোনো হেল্প পাইনি। এখন এই জায়গা থেকে এই সংগঠন বা এই চক্র যারাই আছে দেশের জন্য কাজ করার জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার জন্য তারা আমাকে এভাবে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং মেসেজ আমাকে পাঠাচ্ছে। তো আমি আমার জীবন নিয়ে খুবই শঙ্কিত এবং আমি এটা রাষ্ট্রের কাছে, দেশের কাছে আমার নিরাপত্তা চাচ্ছি। আমি আমার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, লাইফের রিস্ক নিয়ে আমি রাষ্ট্রের জন্য করেছি, এখন দেশের প্রতি এবং দেশের যত অথরিটি আছে, গোয়েন্দা সংস্থা, সিভিল ফোর্স, ডিফেন্স ফোর্স, সকলের কাছে আমি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আর কিছু না, আমার পরিবার আছে, আমার ফ্যামিলি আছে, বাবা আছে, মা আছে, বোনরা আছে, তো সবদিক মিলায়া আমি চাচ্ছি।”
দুই দফায় হুমকির বিষয়ে উল্লেখ করে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাজারীবগ থানায় ও গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় মোট দু’টি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ছাব্বির।
যা বলছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করা একটি গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছে, "পাকিস্তানে আটক হওয়া মুস্তাফিজ যে বেসরকারি পাসপোর্টে দেশ ছেড়েছেন সেই পাসপোর্টে দেওয়া মোবাইল নাম্বারটি ছিল ছাব্বিরের। সেই সূত্রে আমরা তাকে খুঁজে বের করি। আমরা মনে করি ছাব্বির নিজেও মোটিভেটেড ছিল এবং দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা তার ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজ আটক হওয়ায় সম্ভবত সে ভয় পেয়ে যায়। ইতিমধ্যে আমাদের লোক তাকে খোঁজার জন্য তার বাড়িতে যায়। পরে সে তার ফিল্ড ইউনিটে বিষয়টা রিপোর্ট করে বলে আমরা জানতে পেরেছি।"

হাজারিবাগ থানায় ছাব্বিরের করা সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সারাফত জামান দ্য ডিসেন্টকে বলেন, "আমরা বিষয়টা নানা এঙ্গেল থেকে দেখার চেষ্টা করছি। এখনো বলার মত কিছু পাইনি। তাকে পাঠানো মেসেজ ফরেনসিকের জন্য সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে।"
আন্ত:বাহিনী সংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এয়ারফোর্স ডেস্কে দায়িত্বরত কর্মকর্তার নামের পাশে থাকা নাম্বারে কল দিলে নৌবাহিনী ডেস্কে কর্মরত সাইয়েদা তাপসী রাবেয়া লোপা নামের একজন কর্মকর্তা কল রিসিভ করেন। তিনি এয়ারফোর্স ডেস্কে কথা বলতে বলেন। কিন্তু আইএসপিআর এর ওয়েবসাইটে এয়ারফোর্স ডেস্কের জন্য আর কোন নাম্বার দেওয়া নেই। ওয়েবসাইটে এয়ারফোর্স ও নৌবাহিনীর জন্য একই নাম্বার দেওয়া রয়েছে। ফলে এ ব্যাপারে বাহিনীটির বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।