Drama Surrounds Asif Adnan’s Participation in Police Convention Hall Seminar
আগামী ২২ আগস্ট পুলিশ স্টাফ কলেজের কনভেনশন হলে একটি সেমিনারের আয়োজন করে সিয়ান পাবলিকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে সেখানে আসিফ আদনানসহ বিতর্কিত দুই ব্যক্তির অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়। প্রথমে পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই দুই বক্তা অংশ নিলে সেমিনারের বুকিং বাতিল করা হবে বলে আয়োজকদের জানায়। পরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কর্তৃপক্ষ দ্য ডিসেন্টকে জানায় পুরো সেমিনারের বুকিংই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
এক ঘন্টা পর বিকেল সাড় ৪টার দিকে সিদ্ধান্তটি উল্টে যায়। পুলিশ স্টাফ কলেজের অন্য আরেক সূত্র দ্য ডিসেন্টকে অবহিত করে পুলিশের বিশেষ সংস্থা থেকে সেমিনারের অনুমোদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পূর্বে বিশেষ শাখার পরামর্শেই সেমিনারের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করীম দ্য ডিসেন্টকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “প্রোগ্রামটি হবে, এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।”
নতুন সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমোদন বহাল রাখার ক্ষেত্রে আসিফ আদনান বা অন্য কারো অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে কোন শর্ত রয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে রাজি হননি জনাব কাজী ফজলুল করীম।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকে সিয়ান পাবলিকেশনের পেইজ থেকে জানানো হয়, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে জানানো হয়েছে যে, আসিফ আদনান বক্তা হিসেবে থাকলে সেমিনারের বুকিং বাতিল করা হবে।
সিয়ান পাবলিকেশন তাদের ফেসবুক পোস্টে আরও দাবি করেছে তোয়াহা বিন জলিল নামের একজন পাকিস্তানী বক্তাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পুলিশ স্টাফ কলেজের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থা থেকে দুই জন বক্তার ব্যাপারে অবজারভেশন ছিল। আসিফ আদনান ও একজন বিদেশি বক্তা। আসিফ আদনানকে আমরা বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দিতে পারবো না বলে আয়োজকদের জানিয়েছিলাম।”
সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সিয়ানের মালিক আহমদ রফিক দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষ আজকে আমাদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে তারা বুকিং বাতিল করতে চায়। তবে আমরা তাদেরকে বলেছি যেহেতু অনুমতি লিখিতভাবে দেয়া হয়েছে ফলে বাতিলের নোটিশও লিখিতভাবে দেয়া হোক। তারা সেটা দিতে রাজি না।”
এর আগে গত ১৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে একটি সেমিনারে যোগ দেন আসিফ আদনান। ওই আয়োজনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসিফ আদনানকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। ওই সেমিনারটির আয়োজক ছিলেন অমর একুশে হলের সাহিত্য সম্পাদক ফাহিম শাহরিয়ার। ফাহিম ইসলামী ছাত্র শিবিরের সমর্থন পেয়ে হল সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন তিনি। তবে তিনি শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত নন বলেও দাবি করেছেন।
এদিকে শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে ওই আয়োজনের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা ছিলো না। এছাড়া ফাহিম শাহরিয়ারকে নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন শিবিরের ঢাবি শাখার নেতারা।
আসিফ আদনান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিসে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৪ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আল-কায়দা মতাদর্শী বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তবে তিনি বিভিন্ন সময় তার বক্তব্যে কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।