Four Hindus Killed in Rangpur; Awami League Calls It a ‘Communal Attack’

23 August 2026

রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য হত্যার শিকার হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০) এবং দুই ছেলে-মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। 

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহপ পুলিশ ইতোমধ্যে দুই হিন্দু যুবককে আটক করেছে। আটকরা হলেন- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। পুলিশ জানিয়েছে, আটকরা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

এদিকে হিন্দু পরিবারের একসাথে ৪ সদস্য খুন হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে চলছে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার। 

পুলিশের ভাষ্যমতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এই ঘটনা ঘটলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুকে পেইজের এক পোস্টে এই ঘটনাকে ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার গভীর রাজনৈতিক চক্রান্তেরই বহির্প্রকাশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

২৩ আগস্ট ভোররাতে আওয়ামী লীগের পেইজে দেওয়া এক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘‘রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের গণ নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়—এটি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার গভীর রাজনৈতিক চক্রান্তেরই বহির্প্রকাশ। ইতিহাস সাক্ষী, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের ভয়াল শাসনামলে বিএনপি-জামায়াত জোট যেভাবে সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হত্যা, ঘরবাড়ি দখল এবং নির্যাতন চালিয়েছিল, আজকের চিত্র তার থেকে বিন্দুমাত্র আলাদা নয়।’’

আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেইজ ছাড়াও বিভিন্ন হিন্দু ব্যক্তিদের আইডি থেকে ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

এই ঘটনায় একটি সংবাদের ফটোকার্ড পোস্ট করে বিজন সরকার নামের একটি আইডিতে লেখা হয়েছে, ‘‘বিএনপিকে হিন্দুরা ভোট দিয়েছিল নিরাপত্তার জন্য। তারেক রহমানের "আই হ্যাভ এ প্লান" বাক্যে হিন্দুরাও আশান্বিত হয়েছিল। কিন্তু সরকার ইসলামিক জংগিদের কর্মকান্ডের ইকোসিস্টেমকে সমর্থন দিয়ে রাখছে ক্ষমতায় কারনে। আর ইসলামিক জংগিরা হিব্দু গনহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’’

নিশিত সরকার মিঠু নামক একটি আইডি থেকে লেখা হয়, ‘‘ডাকাতি করার পর রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। কিছুদিন আগেই কিন্ত জঙ্গিরা স্বীকার করেছিল তারা তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বাসাবাড়ি, দোকানপাটে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ডাকাতি করে। অথচ, বাংলাদেশ সরকার বারবার দাবি করছে দেশে নাকি জ/ঙ্গি  নাই।’’

প্রবীর চন্দ্র পাল নামক একজন লিখেছেন, ‘‘Dear Bangladeshi Hindus! এই জেনারেশন কোনোভাবে পার করে নেন নাহলে Immediate দেশ ছাড়ুন! তবে নেক্সট জেনারেশনকে অবশ্যই ছোটবেলা থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য গড়ে তুলবেন। আপনি আমি ভুল করেছি এই দেশে জন্মে, নেক্সট প্রজন্ম যেনো ভুক্তভোগী না হয়! নাহলে শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণে হুদাই পরিবারসহ হত্যার শিকার হবেন, হটাৎ কোথাও মব করে পিটিয়ে মেরে ফেলবে!  ৩জেনারেশন পার হলেও বিচার পাবেন না।’’

এদিকে আটক দু’জন হিন্দু হওয়ায় এ ঘটনাকে ‘নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে পোস্টও করছেন কেউ কেউ। রাহিম খন্দকার নামক এক আওয়ামীপন্থী আইডি থেকে আটক দু’জনের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘‘প্রকৃত হত্যাকারীদের রক্ষা করতে হিন্দুবিদ্বেষী বিএনপি সরকার আরো ২ জন নিরপরাধ হিন্দু তরুণের ভবিষ্যত নষ্ট করলো।…’’

প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট উইকলি ব্লিটজ -এর সম্পাদক সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী এই ঘটনার পর এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে ইঙ্গিত করেন। তিনি ইংরেজিতে লিখেন, ‘‘বাংলাদেশে হিন্দু স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিহত! পুলিশ রংপুরের একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। …উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে কথিত ‘জিহাদি অভ্যুত্থানের’ পর থেকে বিভিন্ন জিহাদি সংগঠন এবং ‘তৌহিদি জনতা’ নামধারী গোষ্ঠীর মাধ্যমে হিন্দুদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।’’

প্রসঙ্গত, রংপুরে আলোচিত এই ঘটনায় রবিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তারা এক এক করে ওই বাড়ির চারজনকে হত্যা করে। 

তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দু’জনের ভাষ্যমতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তারা প্রায়ই এই কাজ করতেন। ওইদিন এ দৃশ্য দেখে ফেলায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তারা। পরে শব্দ শুনে স্ত্রী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে বেরিয়ে এলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

সবশেষ ছেলে প্রিয়ম তাদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন দু’জন। এরপর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করে পালিয়ে যান সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।’’