Indian Media Laments as Tarique Rahman’s Visit Fails to Materialise

27 August 2026

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। সীমান্তে হত্যা এবং শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এ উত্তেজনা আরও বাড়ায়।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। নরেন্দ্র মোদি তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং ভিসা কার্যক্রম ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়তে থাকে।

আগস্টে কয়েক সপ্তাহ ধরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ১০ই আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরদিন দিল্লিতে গিয়ে তিনি নরেন্দ্র মোদিকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। সফরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২১শে আগস্টের কথাও আলোচনায় ছিল। ১৬ই আগস্ট ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরআরও দ্রুত হওয়া উচিত

কিন্তু এর মধ্যে পাঁচই আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন পলাতক শেখ হাসিনা। ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্ষোভ জানায় ঢাকা।

এরপর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ঘিরে সম্পর্কে আবারও টানাপোড়েন দেখা দেয়। বাংলাদেশ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে একটিঅনুকূল পরিবেশতৈরি হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও সামনে আনা হয়।

ফলে তারেক রহমানের সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি সরাসরি যুক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সফরটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

ভারত সফর অনিশ্চিত হওয়ায় ভারতের সংবাধ্যমগুলো এবং রাজনৈতিক একটিভিস্টরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্ন সামনে আসার পর ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সাবেক কূটনীতিক ও ইউটিউবভিত্তিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

কেউ বাংলাদেশের অবস্থানকে “petulance, not diplomacy” বাখামখেয়ালিপনা, কূটনীতি নয়বলে বর্ণনা করেছেন। কেউ বলেছেন, তারেক রহমান নিজের জন্য এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।

আবার কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ঢাকার অবস্থানকে “very rude and very arrogant” বাঅত্যন্ত অভদ্র ও অহংকারীবলে সমালোচনা করেছেন।

এর বাইরে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে “runt”, “crook” “smuggler/arms smuggler”-এর মতো অবমাননাকর শব্দ এবং বাংলাদেশকে “banana republic” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কয়েকটি বিশ্লেষণে আবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে যুক্ত করাকে “political ransom” বা রাজনৈতিক মুক্তিপণ এবংছদ্ম দেশপ্রেমবা জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও তুলে ধরা হয়।

১০ই আগস্ট আজতক বাংলা চ্যানেলের “Hasina কে Bangladesh এর হাতে তুলে দেবেন Modi?” শিরোনামের ভিডিওতে উপস্থাপক ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে করা সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ঢাকার প্রতিবাদের ভাষাকেচরম আক্রমণাত্মকবলে মন্তব্য করেন।

তার দাবি ছিল, ঢাকার বিবৃতিতে ব্যবহৃত শব্দ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জনমতকে সন্তুষ্ট করতেই এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

এরপর ১৬ই আগস্ট আজতক বাংলারতারেকের ভারত সফর নিয়ে 'রাজনীতি' বাংলাদেশের, হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির কাছে বড় দাবি ঢাকারশিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে বাংলাদেশ সরকারদরকষাকষিরাজনীতিকরছে।

প্রতিবেদনটিতে ধারণা দেওয়া হয়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি সামনে এনে বাংলাদেশ ভারতের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে এবং এমন বার্তাও দিতে পারে যে, হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হলেই তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন।

ঋণ, জ্বালানি ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কটাক্ষ

১৬ই আগস্ট World Affairs by Unacademy চ্যানেলের “Bangladesh Ultimatum To India! PM Tarique Rahman Won’t Visit Until Sheikh Hasina Extradite” শিরোনামের ভিডিওতে উপস্থাপক কিঞ্জ বাংলাদেশের ভারতের কাছ থেকে ঋণ ও জ্বালানি সহায়তা নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন।

তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, ভারত সফরে গেলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ডিজেল, ঋণ কিংবা গঙ্গার পানি নিয়েই কথা বলতেন।

বাংলাদেশের অবস্থানকে ভারতের প্রতিচোখ রাঙানিহিসেবে বর্ণনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় দেওয়ার মতো বাংলাদেশের কাছে কী আছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “तभी शी जिनपिंग के सामने सजदा करने गए थे आप।অর্থাৎ, “সেজন্যই বুঝি আপনারা শি জিনপিংয়ের সামনে সিজদা করতে গিয়েছিলেন”—যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে চীনের প্রতি নতজানু হিসেবে উপস্থাপন করেন।

নিজের জন্য গর্ত খুঁড়েছেন

১৭ই আগস্ট বিজনেস টুডের “'Tarique Rahman has dug a hole': Ex-foreign secretary after Bangladesh links PM's visit to Hasina extradition” শিরোনামের প্রতিবেদনে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল তারেক রহমানের অবস্থানকেঅপেশাদার, একগুঁয়ে ও অবাস্তববলে সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “He has dug a hole from which he will not be able to extricate himself”—অর্থাৎ তারেক রহমান নিজেকে এমন একটি অবস্থায় নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে সফরকে যুক্ত করাকে তিনিহার্ডবলকূটনীতি হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, “This is petulance, not diplomacy. Should have left a door open.”—অর্থাৎ এটি কূটনীতি নয়, বরং খামখেয়ালিপনা; আলোচনার একটি পথ খোলা রাখা উচিত ছিল।

১৭ই আগস্ট দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় “Bangladesh sets tough riders for PM Tarique Rahman's visit to India” শিরোনামের প্রতিবেদনে আহসান তাসনিম লেখেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত দেওয়ার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর মতো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির চাপ রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে সফরের আগেকঠিন শর্তদেওয়ার বিরোধীদের দাবির কাছে তারেক রহমানের সরকারনতিস্বীকারকরেছে—কূটনৈতিক মহলের অনেকে ঘটনাটিকে এভাবেই দেখছেন।

১৭ই আগস্ট দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের “Send Sheikh Hasina back: Bangladesh’s ‘red line’ for PM Rahman’s visit” শিরোনামের শুভজিৎ রায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান ও বিএনপি শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে দেওয়া সংবাদ সম্মেলনকে ভারতের সম্মতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান হিসেবে দেখেছে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধারণাই সম্ভাব্য সফরটিকে জটিল করে তুলেছে।

সেখানে বলা হয়, দিল্লি ২১শে আগস্টকে সম্ভাব্য সফরের তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

১৭ই আগস্ট ডিএনএ ইন্ডিয়ায় “Why is Bangladesh reaching out to India despite Sheikh Hasina row? Here's what Tarique Rahman's visit means” শিরোনামের প্রমোদ মল্লিকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হিসেবে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটির যুক্তি ছিল, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ থাকলেও ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি দূরত্ব বজায় রাখা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।

১৭ই আগস্ট দ্য ওয়ালেদিল্লির মতিগতি নিয়ে সংশয়, হাসিনাকে বাজি রেখে তারেককে জামাই আদর করা হবে ভারতের নিজের কবর নিজে খোঁড়াশিরোনামের অমল সরকারের প্রতিবেদন এবংজনরোষ থেকে রক্ষা পেতে ভারত বিরোধিতাশিরোনামের ইউটিউব ভিডিওতে তারেক রহমানের সফর না করার অবস্থানকেছদ্ম দেশপ্রেমবলে বর্ণনা করা হয়।

অমল সরকারের দাবি, ভারতের সঙ্গে আপস করছেন না—এমন একটি বার্তা দেশের মানুষের কাছে দেওয়ার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই তারেক রহমান এই অবস্থান নিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনঅসন্তোষ সরাতেও ভারতবিরোধিতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন এবং পুরো বিষয়টিকেকূটনৈতিক তামাশাহিসেবে বর্ণনা করেন।

১৭ই আগস্ট THE CHANAKYA DIALOGUES HINDI চ্যানেলের “Bangladesh put conditions before PM Rahman's India visit” শিরোনামের ভিডিওতে মেজর গৌরব আর্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন।

তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে একটিটুপি নাটকহিসেবে উল্লেখ করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের ভূমিকা টেনে তিনি দাবি করেন, তখনই বাংলাদেশ ভারতকে যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা দেখায়নি এবং এখন সস্তা বিদ্যুতের জন্যও বাংলাদেশের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করা উচিত নয়।

তারেক রহমান সফরে না গেলে ভারতের কোনো ক্ষতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, “এতে ক্ষতি বাংলাদেশেরই, ভারতের কোনো ক্ষতি নেই।

ব্ল্যাকমেইলরাজনৈতিক মুক্তিপণ

১৭ই আগস্ট ‘VAIDS IAS’ চ্যানেলের “Has India Lost Bangladesh? Tariq Rahman will not come to India Unless Hasina extradited” শিরোনামের ভিডিওতে তারেক রহমানের সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে যুক্ত করাকে সরাসরিব্ল্যাকমেইলবাজিম্মি করার কূটনৈতিক খেলাহিসেবে বর্ণনা করা হয়।

১৭ ও ২১শে আগস্ট India Today Global চ্যানেলের “Tarique Rahman’s Hasina Demand: Is Bangladesh Testing India’s Patience?” এবং “Is Bangladesh Playing A Diplomatic Game With India Over Hasina?” শিরোনামের প্রথম দ্বিতীয় ভিডিওতে সাংবাদিক গীতা মোহন বাংলাদেশের অবস্থানকে “political ransom” বারাজনৈতিক মুক্তিপণ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঢাকা কি একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দরকষাকষির হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে, নাকি ভারতের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করা যায় সেটিই পরীক্ষা করছে।

১৮ই আগস্ট ডিটি নেক্সটের “Editorial: Tricky ties for South Block” শিরোনামের সম্পাদকীয়তে বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কতদূর চাপ দেওয়া যায়, তা পরীক্ষা করছে বলে মন্তব্য করা হয়।

সেখানে বলা হয়, “It appears that the Bangladesh Nationalist Party (BNP) government now wants to try its luck in pushing the envelope

১৮ই আগস্ট ফার্স্টপোস্টে “Bangladesh awaits India’s response on Tarique Rahman’s possible Delhi visit” শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসকে “trust deficit” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়েও সেখানে সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “Tarique Rahman is riding the Jamaat tiger; getting off won’t be easy”—অর্থাৎ তারেক রহমানজামায়াতের বাঘের পিঠেউঠেছেন এবং সেখান থেকে নামা সহজ হবে না।

ঢাকার বক্তব্যঅভদ্র ও অহংকারী

১৮ই আগস্ট এএনআই নিউজের “"Rude, arrogant": Former diplomat Veena Sikri slams Dhaka for linking PM Tarique Rahman's India visit to Sheikh Hasina's extradition” শিরোনামের প্রতিবেদনে ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির ভাষার তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “the press note or the Facebook post that the Ministry of Foreign Affairs of Bangladesh put out was very rude and very arrogant”—অর্থাৎ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস নোট বা ফেসবুক পোস্টটি তার ভাষায়অত্যন্ত অভদ্র ও অহংকারীছিল।

তার মতে, ভারতের আমন্ত্রণের বিপরীতে এমন প্রকাশ্য বার্তা দেওয়া সফরটির গুরুত্ব নিয়ে বাংলাদেশেরগুরুত্বহীন মনোভাবপ্রকাশ করে।

সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণের প্রশ্ন যুক্ত করাকে তিনি অপ্রয়োজনীয় ও ‘non-diplomatic’ বলেও মন্তব্য করেন।

মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার পাশাপাশি কয়েকটি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলের বক্তব্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বাংলাদেশকে হেয় করে মন্তব্য করার ঘটনাও দেখা যায়।

১৮ই আগস্ট ‘PGurus’ চ্যানেলের “Bangladesh Tries to Blackmail India - Time for a Major Jolt?” শিরোনামের ভিডিওতে একজন উপস্থাপক তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে “runt”, “crook” এবং “smuggler/arms smuggler”-এর মতো অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশকে তিনি “banana republic” বলেও উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানকে ‘anti-India’ বা ভারতবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে “teach them a lesson” বাশিক্ষা দেওয়ারএবং “another jolt, a huge jolt” দেওয়ার সময় এসেছে।

১৮ই আগস্ট VIRAT IAS INSIGHTS চ্যানেলের “Bangladesh Blackmails India? The Shocking Reason Behind Tarique Rahman's Cancelled Visit” শিরোনামের ভিডিওতেও বাংলাদেশকেছোটএবং ভারতের ওপরসম্পূর্ণ নির্ভরশীলপ্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

ভিডিওটিতে এমন একটি দেশের পক্ষ থেকে ভারতেরচোখে চোখ রেখে হুমকি দেওয়াকে বিস্ময়কর হিসেবে তুলে ধরা হয়।

১৯শে আগস্ট Maj Gen Yash Mor চ্যানেলের “Why Is India So Keen on Tarique Rahman’s Visit? | India - Bangladesh Relation” শিরোনামের ভিডিওতে মেজর জেনারেল যশ মোর বাংলাদেশ ও তারেক রহমানকে ভারত ও শেখ হাসিনার ইস্যু নিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, “I think they should not overplay this India card and should not overplay the Sheikh Hasina card

ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দ্য প্রিন্টের সমালোচনা

২১শে আগস্ট ThePrint-এর “PM Tarique’s India trip hinges on ‘propitious environment, expedition of Hasina extradition’—Dhaka” শিরোনামের প্রতিবেদন এবং “Strain in India-Bangladesh ties over Hasina extradition & how it has divided Tarique establishment” শিরোনামের ভিডিওতে বাংলাদেশের ভারতনীতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়।

সেখানে বলা হয়, সরকারের ভেতরে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজনের কারণে বাংলাদেশের ভারতনীতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

ThePrint-এর বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেটি ব্যবহার করে রাজনীতিকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।