Two Gazipur Imams Accused of Staying at Hotel With Other Men’s Wives
গত শনিবার (২৫ জুলাই) গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় রাজমনি নামক আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার’ অভিযোগে ৭ জনকে আটক করে বাসন থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও দু’জন নারী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তাদেরকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৮, ১১, ১২ এবং ১৩ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে চালান করা হয়েছে।
আটক পুরুষদের মধ্যে দু’জন পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত ছিলেন। এই খবর ছবি ও ভিডিওসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
কিছু ফেসবুক পেইজ ও প্রোফাইল থেকে দাবি করা হয় যে, পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত দুই ব্যক্তিদের তাদের স্ত্রীদের নিয়ে ওই হোটেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু মিডিয়াতে বিকৃতভাবে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
‘রাবতা’ নামক একটি ফেসবুক পেইজে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, “হুজুর স্ত্রীকে নিয়ে সফর শেষে আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করছিলেন। হলুদ মিডিয়া শিরোনাম করলো ‘হুজুরসহ ১৫ জন আটক”।
আব্দুস সামী নামে একজন এই ঘটনার খবর শেয়ার করে লিখেছেন, “আবাসিক হোটেলে হুজুর আটকের মিথ্যা নিউজ। দাঁড়ি টুপির প্রতি ঘৃণা ন্যারেটিভের চেষ্টা মিডিয়া সন্ত্রাসের। বর্তমানে সময়ে ইসলাম এবং আলেম ওলামাদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সুতরাং সকলকে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের একটি শক্তিশালী মিডিয়া গড়ে তুলতে হবে। জাতির কাছে আমাদের সত্যটা তুলে ধরতে হবে।”

তবে এই ঘটনায় দ্য ডিসেন্ট অভিযুক্ত দুই ইমামের একাধিক আত্মীয় এবং যে দুই নারীকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছেন তাদের একজনের স্বামীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে, আটক দুই ইমাম নিজেদের স্ত্রী নয়, বরং অন্য দুই ব্যক্তির স্ত্রীকে নিয়ে ওই হোটেলে গিয়েছিলেন।
আটক এক ইমামের নাম মাওলানা মোহাম্মদ উসমান গনি। তিনি কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ইউনিয়নের মাজুখান দক্ষিণপাড়ার আস-সুফফাহ জামে মসজিদের ইমাম। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে।
অন্যজনের নাম মুফতি মোহাম্মদ আবু শোয়াইব। তিনি গাজীপুরের একটি মাদরাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামতি করতেন বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়।
অনুসন্ধানের জানা যায়, উসমান গনি ও আবু শোয়াইব তারা উভয়েও বিবাহিত। তারা যে দু’জন নারীকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছেন সে দুই নারীও বিবাহিত এবং তাদের স্বামী রয়েছে। দ্য ডিসেন্ট দুই নারীর নাম এবং অভিযুক্ত দুই ইমামের স্বজনদের নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছে।
উসমান নিয়ে গেছেন পরিচিতজনের স্ত্রীকে নিয়ে, শোয়াইবের সাথে আত্মী য়ের স্ত্রী
মাজুখান দক্ষিণপাড়া স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, উসমান গনি স্থানীয় মসজিদে ৫/৬ বছর থেকে ইমামতি করেন। সে সুবাদে ওই এলাকায় মসজিদের পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সস্ত্রীক থাকেন। ঘটনার আগের দিন শুক্রবার নিজের স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন উসমান। এরপর স্থানীয় এক বাসিন্দার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি হোটেলে যান। ওই নারীর দুই সন্তান রয়েছে।
ওই স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িতে উসমানের নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং প্রায় সময়ই খাওয়া দাওয়াও করতেন। তবে স্ত্রীর সাথে উসমানের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে পরিবারের কেউ জানতো না।
ওই নারীর স্বামী দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, ‘‘শনিবার সকালে আমার বউ তার বাপের বাড়ি যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। আমি ওর বের হওয়ার আগেই অফিসে চলে গিয়েছিলাম। পরে ফেসবুকে দেখি এই কাহিনী। ওই ইমামকে এতো সম্মান করতাম আমরা। উনি এমন কাণ্ড ঘটাবে কল্পনাতীত!”
‘‘উনাকে আমি কত সহযোগিতা করতাম। উনার জমি কেনার সময় আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছি আমি। অথচ উনি কিনা আমার সাথেই এমন করলো”, বলেন তিনি।
ওই নারীর শ্বশুর ওই ইমামের বিষয়ে বলেন, “আমি তাকে আমার ছেলের চেয়ে বেশি মহব্বত করতাম। কিন্তু সে কিনা আমার খেয়ে আমারই সর্বনাশ করেছে। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
অন্যদিকে আরেক ইমাম আবু শোয়াইব ওই দিন হোটেলে যান তার এক আত্মীয়ের স্ত্রীকে নিয়ে। তার একাধিক স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দিন নিজের স্ত্রীকে শোয়াইব জানান তিনি, ফাউন্ডেশনের মিটিংয়ে যাচ্ছেন।
তবে তিনি আসলে গিয়েছিলেন তার আত্মীয়ের স্ত্রীকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে।
শোয়াইবের বড় ভাই দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘ঘটনা যেটা ঘটেছে তা তো আমরা ভিডিওতে দেখেছি। তবে ভেতরে কী হয়েছে না হয়েছে আমরা দেখিনি।”
যে নারীর সাথে শোয়াইব আটক হয়েছেন তিনি তাদের এক নিকটাত্মীয়ের স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছেন বড় ভাই।
এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, ‘’সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে আটক করি। পরে কোর্টে চালান করা হয়েছে।’’