Arakan Army-Aligned Outlet Amplifies Misleading Claims by Awami League
গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-এর ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
সংবাদ সম্মলেনটিতে উপস্থাপনা করতে দেখা যায় আবু ওবাইদাহ অরিন নামে একজনকে। তিনি তার উপস্থাপনার এক পর্যায়ে বলেন, “আমি আরও একটি উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরতে চাই। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ও যথাযথ নথিভুক্তকরণ ছাড়াই সব রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, “আপনি বুঝতেই পারছেন, আরসা এবং আরএসও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সীমান্তের ভেতরে ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। খুব শিগগিরই তারা সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিতে পারে। আপনি দেখতে পারেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী পাঠানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”
অরিনের এই বক্তব্যকে ভিত্তি করে গত ৮ আগস্ট আরাকান আর্মি পন্থী ওয়েবসাইট গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক (জিএএন) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
“বাংলাদেশে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সহায়তায় আরসা ও আরএসও-কে ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে” শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে আরাকান-বাংলাদেশ সীমান্তসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। উপস্থাপনায় সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ অরিন বলেন: ‘আপনারা বুঝতে পারছেন, আরসা, আরএসএ এবং আরএসও—তারা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সীমান্তের ভেতরে ব্যাপক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। খুব শিগগিরই তারা সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেবে। আপনি দেখতে পারেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী পাঠানো হয়েছে। এটি উদ্বেগের বিষয়।’”
প্রতিবেদনে বলা হয়, “এই মন্তব্যগুলো আরাকান ও মিয়ানমারের মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরসা ও আরএসও-এর মতো ইসলামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হামলায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন চালানো মিয়ানমারের নৃশংস জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে মংডু পতনের পর এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চৌকির কাছাকাছি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “সম্প্রতি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে—এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে যোগসাজশ নিয়ে আরাকান আর্মির আগে করা অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করেছে। এ ছাড়া ওই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই বা যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ ছাড়াই সব মুসলিম (রোহিঙ্গা) ব্যক্তিকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সত্যিই যদি এমন নীতি গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের পদক্ষেপ সীমান্তবর্তী চলমান শরণার্থী সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।”
উক্ত প্রতিবেদনে মূলত ৪টি দাবি উঠে এসেছে—
১. আবু ওবাইদাহ অরিন একজন সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক।
২. বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ও যথাযথ নথিভুক্তকরণ ছাড়াই সব রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৩. আরসা ও আরএসও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
৪. বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনেরও বেশি সন্ত্রাসীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
GAN এর প্রতিবেদনের ৪টি দাবির ফ্যাক্ট চেক
প্রথম দাবিটি যাচাই করে দেখা যায়, আবু ওবাইদাহ অরিন নামের ওই ব্যক্তি কোনো সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক নন। সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে তার লিংকডইন আইডি খুঁজে পাওয়া যায়। তার লিংকডইন প্রোফাইলের Education অংশে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে দুটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।
তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (IIT) মাদ্রাজে Data Science & Applications বিষয়ে Bachelor of Science (BS) ডিগ্রিতে অধ্যয়ন করছেন।
এর পাশাপাশি, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে Information Technology & Mathematical Innovations বিষয়ে Bachelor of Technology (BTech) ডিগ্রিতে পড়াশোনা করছেন।
এছাড়াও তার ফেসবুক আইডির বায়োতে লেখা রয়েছে, ““বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন বিশ্বস্ত ধারক এবং আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। শেখ হাসিনার সৈনিক।”
এসব ছাড়া তার সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশ্লেষক হওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয়ত দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ও যথাযথ নথিভুক্তকরণ ছাড়াই সব রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সব রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। মূলত বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যেসব রোহিঙ্গা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, তাঁদের পাসপোর্ট নবায়নে চাপ দেয় রিয়াদ। দেশের অন্যান্য স্বার্থের কারণে ওই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বরাতে বলা হয়, “বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যেসব রোহিঙ্গা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, তাঁদের পাসপোর্ট নবায়নে চাপ দিয়েছে রিয়াদ। দেশের অন্যান্য স্বার্থের কারণে ওই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পাসপোর্ট দেওয়া মানেই এই না যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদেরই ত্রুটির কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বহু বছর আগে প্রচুর রোহিঙ্গা সেখানে গেছে। তখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল। এ নিয়ে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগও আছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে যাঁরা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের চাপ দিচ্ছে। একটি সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হয় কোনো দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তখন আরও অনেক স্বার্থ জড়িত থাকে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম, যেন এটা করতে না হয়। কিন্তু আমাদের অন্যান্য স্বার্থের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—এই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেব। পাসপোর্ট দেওয়া মানেই এই না যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক।”
অর্থাত সব রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার দাবিটি সত্য নয়।
তৃতীয়ত, দাবি করা হয়েছে, আরসা ও আরএসও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কিন্তু যাচাই করে উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিবৃতি খুঁজে পাওয়া যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আরাকান আর্মির (এএ) রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ) সম্প্রতি অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-কে সমর্থন করে। এসব অভিযোগ বিভ্রান্তিকর। বিজিবি-এর সঙ্গে আরসা/আরএসও-এর কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। বরং বাংলাদেশে তাদের কথিত কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে বিজিবি ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনিও রয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে বিজিবি আরসা/আরএসও-কে মিত্র নয়, বরং স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো অননুমোদিত সশস্ত্র সদস্যের উপস্থিতি বন্ধ করা এবং তাদের অস্তিত্ব নির্মূল করতেও বিজিবি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “বিজিবি ধারাবাহিকভাবে আরসা/আরএসও-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাদের চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে এবং নাফ নদী দিয়ে মাদক পাচার প্রতিরোধ করেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র সদস্যরা বাংলাদেশি ভূখণ্ড থেকে নয়, বরং মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এ ছাড়া সীমান্তে এএ-এর পুঁতে রাখা স্থলমাইন থাকায় আরসা বাংলাদেশ থেকে অবাধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে—এমনটি বিশ্বাস করাও কঠিন। বিজিবি সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং মানবিক সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান ও সীমান্তের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিজিবি আরসা/আরএসও-এর সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের যোগাযোগ বা যোগসাজশ রয়েছে—ইউএলএ-এর এমন প্রচারণা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। বিজিবি-এর দাবি, এসব অভিযোগ উত্তর রাখাইনে এএ-এর নিজেদের নিপীড়ন, বৈষম্য ও প্রভাবের বিষয়গুলো আড়াল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।”
চতুর্থত, দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। বাংলাদেশ থেকে কোনো সন্ত্রাসীকে মালেশিয়ায় পাঠানো হয়নি। মূলত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছিলো মালেশিয়ার পুলিশ।
২০২৫ সালের ২৭ জুন দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে সে দেশের পুলিশ। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন ইসমাইলের বরাত দিয়ে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “মালয়েশিয়ার পুলিশ গত কয়েক দিন ধরে তিন ধাপে অভিযান চালিয়ে ৩৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে। গত ২৪ এপ্রিল সেলাঙ্গর ও জোহর রাজ্যে এ অভিযান শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন এক বিবৃতিতে জানান, 'আটকদের মধ্যে ৫ জনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে শাহ আলম ও জোহর বারু সেশন আদালত অভিযুক্ত করেছে।' '১৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান,' যোগ করা হয় বিবৃতিতে।
মন্ত্রীর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, 'মালয়েশিয়ার পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতরা আইএসের মতাদর্শ প্রচার করছিল এবং নিজেদের কমিউনিটির মধ্যে কর্মী নিয়োগের জন্য সেল গঠন করেছিল।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বলেন, 'এই সেলগুলোর মাধ্যমে উগ্রপন্থি মতাদর্শ প্রচার, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশের বৈধ সরকারকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।'