Awami League Spreads False Claim of Jailed Chhatra League Activist Scoring GPA-5 Using AI Image
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) থেকে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে, ‘‘জেলে থেকে পরীক্ষা দিয়ে GPA-5 পেলেন ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ।’’
এছাড়াও, আওয়ামীলীগ বিভিন্ন পোর্টাল ও ফেসবুক একাউন্ট থেকেও দাবি করা হয়েছে, ‘‘নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ কারাগার থেকেই সদ্য অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।’’
তবে পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখানো জোনায়েদের নাম ছাড়া কোনো পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
দেখুন উক্ত ছবি সংবলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন InfoBangla, Omi Rahman Pial, Freedom Bangla News, Kazi Mamun, Faceless Democracy – মুখহীন গণতন্ত্র, Daktar Aijuddin, Aronno Abir, Golam Rabbani।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, এই দাবিটি সঠিক নয়। নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে জোনায়েদ নামে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেননি।
আওয়ামীপন্থী একাউন্টগুলোতে ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ বলে প্রচারিত ছবিটিকেও এআই শনাক্তকারী টুল ওপেনএআই, হাইভ মোডারেশন সহ একাধিক টুল এআই জেনারেটেড বলে শনাক্ত করেছে।
চলতি বছর নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে দুইজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মাহবুব এলাহী রাজিন সম্পূর্ণ পরীক্ষা কারাগারে থেকেই দিয়েছেন। এছাড়া আসির ইনতিসার আলভি নামে একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র কৃষি (ব্যবহারিক) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
মাহবুব এলাহী রাজিন নোয়ান্নই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একটি হত্যা মামলায় ওই শিক্ষার্থীকে গাজীপুরের টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে পরীক্ষার জন্য তাকে নোয়াখালী কারাগারে আনা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারাগারের একটি কক্ষে তার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য (ফেইল) হয়েছেন।
এদিকে কারাগার থেকে শুধুমাত্র কৃষি (ব্যবহারিক) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আলভি জিপিএ ৩.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি আল ফারুক একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
আলভি ব্যবহারিক পরীক্ষার আগে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল বলে দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার নজরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার ও নোয়াখালী জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট।
আবুল কাশেম দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আদালতের অনুমোদনক্রমে কিশোর অপরাধে কারাগারে থাকা এক ছাত্র আমাদের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। চূড়ান্ত ফলাফলে সে পাস করে নাই। সে ফেল করছে। যে তথ্য বা নিউজ আসছিল সে এ প্লাস পাইছে বা সে ছাত্রলীগ কর্মী এটা ভুল। তবে নোয়াখালী গার্লস স্কুল থেকে একজন কারাগারে থেকে পরীক্ষা দিয়েছে বলে জেনেছি।’’
নোয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডিসেন্টকে তিনি বলেন, ‘‘আল ফারুক একাডেমি থেকে এক শিক্ষার্থী জেলে থাকা অবস্থায় পরীক্ষা দিয়েছিলেন।’’
আল ফারুক একাডেমির সিনিয়র শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার নজরুল ইসলাম দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের আসির ইনতিসার আলভি নামে একটা ছেলে জেলা কারাগার থাকা অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৮৩ পেয়ে পাশ করেছে।’’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আলভির পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুধু কৃষি প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষাটা বাকি ছিল। এই সময় ছাত্রলীগের একটা মিছিলে সে উপস্থিল ছিল, এই সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছিল। পরে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষাটা জেল থেকে দিয়েছে।’’ আওয়ামীলীগের প্রচারিত ছবিটি পাঠালে সেটি আলভি নয় বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
নোয়াখালী জেলা কারাগারের কারারক্ষী (যোগাযোগ) সিমান্ত দাশ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আমাদের কারাগার থেকে দুইজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।’’