Awami League Misrepresents Woman’s Alleged Killing by Thief as Political Murder
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, “ছেলে ছাত্রলীগ করায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে ঘরে ঢুকে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
একই দাবি ছড়িয়েছে আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট বিডি ডাইজেস্ট, ইনফো বাংলাসহ একাধিক ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দেখুন এখানে এবং এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। মূলত ঘরে চুরি করতে আসা চোরের ছুরিকাঘাতে শিল্পী রানী সুশীল (৪৫) নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে জানতে শিল্পী রানীর স্বামী রবীন্দ্র লাল সুশীলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে জানান, “ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে হত্যাকান্ডের দাবি সত্য নয়। আশা করি প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিচার করবেন।”
এছাড়া সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে উক্ত ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। “‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করতেই ছুরিকাঘাত, গৃহবধূর মৃত্যু” শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কক্সবাজারের মহেশখালীতে ছুরিকাঘাতে শিল্পী রানী সুশীল (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরে চুরি করতে আসা এক চোর ওই গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করেছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিল্পী রানী সুশীল ওই এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্র লাল সুশীলের স্ত্রী।”
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পী রানী ঘরে রান্না করছিলেন। এ সময় অচেনা এক ব্যক্তি চুরি করতে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁকে দেখে শিল্পী রানী ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করেন। তখন ওই ব্যক্তি শিল্পীর মুখ চেপে ধরেন। এরপর তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শিল্পী রানীকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।”
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সুলতান প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরির উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ওই গৃহবধূর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে দেখে গৃহবধূ চোর, চোর বলে চিৎকার করেন। তখন ওই ব্যক্তি গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
নিহত শিল্পীর ভাইপো নিকাশ শর্মা দৈনিক আমার দেশকে জানান, "তার কাকার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ চোর চক্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।"
এছাড়াও স্থানীয় হিন্দু নেতা শান্তি নন্দী আমার দেশকে বলেন, "রবি সওদাগরের পরিবার এলাকায় শান্ত ও সামাজিক পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাদের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। রবি ও শিল্পী দম্পতির সন্তানরা পড়াশোনার কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন। নিজ বাড়িতে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।"
৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, “রাতে রবীন্দ্রনাথ শীলের বাড়িতে চুরির উদ্দেশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি প্রবেশ করেন। বাড়িতে থাকা শিল্পী রানী চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি শিল্পী রানী শীলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে তার স্বামী রবীন্দ্রনাথ শীলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
এছাড়াও ৮ সেপ্টেম্বর চ্যানেল ২৪-এ “মহেশখালীতে চোর দেখে চিৎকার করায় বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ হত্যা” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ছাবেকুন্নাহার মেরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “ওই মহিলার তিন ছেলে-মেয়ে—দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তারা লেখাপড়ার জন্য কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে থাকে। ওই মহিলার স্বামীর কালাগাজী পাড়ার বাজারের মাঝখানের রাস্তার পাশে একটি মুদির দোকান রয়েছে। দোকানের পাশেই তাদের বাড়ি। গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ একজন মানুষ নাকি তাদের বাড়িতে ঢোকে। আমার জানামতে, হয়তো কিছু চুরি করার উদ্দেশ্যেই সে ঢুকেছিল। ওই মহিলা বিষয়টি জানতে পেরে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন এবং তাকে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানা গেছে।”
তিনি বলেন, “ছুরিকাঘাতের পর মহিলা চিৎকার করলে ওই লোকটি বা লোকগুলো তাকে মেরে পালিয়ে যায়। পরে পাশের লোকজন এসে দেখেন, মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর তার স্বামীকে খবর দেওয়া হয়। তাকে দ্রুত চকরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তিনি মারা গেছেন বলে জানা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরো বলেন, “ঘটনার সঙ্গে একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তা নিশ্চিত হতে পারিনি। একজন হতে পারে, আবার দুজনও হতে পারে। তবে আমার মনে হয় একজনই হবে, কারণ সে চুরি করার উদ্দেশ্যে ঢুকেছিল। হয়তো ওই মহিলাটি তাকে চিনতে পেরেছিলেন, এজন্যই তাকে এভাবে মারা হয়েছে।”
নিহত নারীর ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে তাকে মারা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ছাবেকুন্নাহার বলেন, “এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। ওই পরিবারটি খুবই শান্তিপ্রিয়। তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জড়িত নয়। তাই ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।”