Mahila Parishad’s Miscalculation Inflates Missing Children Figure to 30,960
শিশু নিখোঁজ ও উদ্ধারের সংখ্যা নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বার্তা সম্পাদকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ তথ্য দেয়।
বিবৃতিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি শিশু নিখোঁজ ও গুম হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মহিলা পরিষদ। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট থানার সদর দপ্তরের পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে’ বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১ হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অর্থাৎ, মহিলা পরিষদের বিবৃতির দাবি অনুযায়ী, সর্বমোট ৩০ হাজার ৯৬০টি বা প্রায় ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়নি এখনো ৪ হাজার ৮ জন শিশু।
যাচাইয়ে যা পাওয়া গেল
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, সাত মাসে প্রায় ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজ এবং তাদের মধ্যে চার হাজারের বেশি শিশু উদ্ধার না হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, আলোচ্য সময়ে নিখোঁজ শিশুর মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৭। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, “চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজ নিয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।”
এরপর বলা হয়, “একই সময়ে ১০-১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১ হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ৪৭৪টি। এসব ঘটনায় ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।
দুই বয়সসীমার হিসাব মিলিয়ে আলোচ্য সাত মাসে নিখোঁজ শিশুর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৭১৭। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন এবং উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন—যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।
অর্থাৎ, শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ শিশুর মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৭-কে মহিলা পরিষদ ভুল করে শুধু শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরপর এর সঙ্গে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর সংখ্যা আবার যোগ করা হয়েছে।
একইভাবে, উদ্ধার না হওয়া শিশুর মোট সংখ্যা ২ হাজার ৩৮-কে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সীদের হিসাব ধরে এর সঙ্গে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী উদ্ধার না হওয়া ১ হাজার ৯৭০ শিশুর সংখ্যা যুক্ত করা হয়েছে।
একই সংখ্যা এভাবে দুবার গণনা করায় মহিলা পরিষদের বিবৃতিতে নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩১ হাজার এবং উদ্ধার না হওয়া শিশুর সংখ্যা চার হাজারের বেশি হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জনা গোস্বামী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “দুইটা পত্রিকা থেকে হিসাব করতে গিয়ে আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি। বিবৃতি সংশোধন করে মিডিয়ায় আবার পাঠানো হবে।”
ভুল বিবৃতির তথ্য সংবাদমাধ্যমে
মহিলা পরিষদের ভুল তথ্যের বরাতে দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। সমকাল শিরোনাম করেছে, ‘‘সাত মাসে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজ, উদ্বেগ মহিলা পরিষদের’’। ভিউজ বাংলাদেশ ও ঢাকা জার্নাল একই শিরোনোমে খবর প্রকাশ করেছে। ঢাকা মেইল শিরেনামে না লিখলেও খবরের ভেতরে মহিলা পরিষদের বিবৃতির তথ্যই লিখেছে।
এই নিয়ে কিছুনা ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে ঢাকা পোস্ট, কালের কণ্ঠ ও ইত্তেফাক।
এসব সংবাদমাধ্যম লিখেছে, ‘‘মহিলা পরিষদের বিবৃতিতে উল্লেখিত সাত মাসে শূন্য থেকে নয় বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে সংবাদমাধ্যগুলো লিখেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট থানার সদর দপ্তরের পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে।’’
‘‘একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো এক হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।’’