No Scientific Evidence That Wi-Fi Causes Infertility or 5G Kills Birds

The Dissent Desk
By
The Dissent Desk
8 September 2026

বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা মাওলানা জয়নাল আবেদীন আল কাদেরীর বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে একই বক্তব্যের একটি ভিডিও টিকটকেও পাওয়া যায়।

ওই আলোচনায় ওয়াই-ফাই ও মোবাইল নেটওয়ার্কের রেডিয়েশন নিয়ে তিনি মূলত তিনটি দাবি করেন।

প্রথমত, ওয়াই-ফাই রাউটারের কাছে গাছের বৃদ্ধি পুরোপুরি থেমে যায়। দ্বিতীয়ত, ওয়াই-ফাইয়ের রেডিয়েশনের কারণে নারীরা বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারেন কিংবা গর্ভপাত হতে পারে। তৃতীয়ত, ফোরজি ও ফাইভজি নেটওয়ার্ক থেকে অতিবেগুনি রশ্মি বা ক্ষতিকর রশ্মি জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রভাবে কাক, ময়না ও বাবুই পাখি মারা গিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রথম দাবিঃ ওয়াই-ফাই রাউটার থাকলে গাছের বৃদ্ধি একদম থমকে যায়

এই দাবির উৎস হিসেবে ২০১৩ সালে ডেনমার্কের একটি স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থীর করা বিজ্ঞান প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই পরীক্ষার ভিত্তিতে তারা দাবি করেছিল, ওয়াই-ফাই রাউটারের কাছে রাখা বীজ থেকে স্বাভাবিকভাবে চারা গজায়নি।

পরীক্ষাটির ফল পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওয়াই-ফাইয়ের কাছে গাছ বাড়ে না’ এমন বক্তব্যের পক্ষে ব্যবহার করা হয়।

তবে পরীক্ষাটি নিয়ন্ত্রিত বৈজ্ঞানিক পরিবেশে করা হয়নি। সেখানে রাউটারের তাপমাত্রাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ওই পরীক্ষার ফল থেকে ‘ওয়াই-ফাই তরঙ্গ গাছের বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়’ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

গাছের বৃদ্ধি প্রধানত আলো, পানি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও পুষ্টির মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ওয়াই-ফাই রেডিও তরঙ্গের কারণে গাছের বৃদ্ধি পুরোপুরি থেমে যায়—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান স্নোপসও দাবিটিকে ‘অপ্রমাণিত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দ্বিতীয় দাবিঃ ওয়াই-ফাই রেডিয়েশনের কারণে নারীদের বন্ধ্যাত্ব বা পেটের সন্তান নষ্ট হয়

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ওয়াই-ফাই ও মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত রেডিও তরঙ্গ হচ্ছে ‘নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন’।

অন্যদিকে, অতিবেগুনি বা আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বর্ণালির ভিন্ন অংশ। ফলে ওয়াই-ফাই রাউটার থেকে অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত হওয়ার দাবিটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে বলা হয়েছে, নিম্নমাত্রার তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের সংস্পর্শে আসার কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে বন্ধ্যত্ব বা গর্ভপাতের সম্পর্কও প্রতিষ্ঠিত নয়।

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশন বা আইসিএনআইআরপির তথ্য অনুযায়ী, বাসাবাড়ি ও জনসমাগমস্থলে ব্যবহৃত ওয়াই-ফাই যন্ত্র থেকে মানুষের শরীরে পৌঁছানো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার তুলনায় অনেক কম।

অতএব, ওয়াই-ফাইয়ের কারণে নারীদের বন্ধ্যত্ব বা পেটের সন্তান নষ্ট; এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তৃতীয় দাবিঃ ৫জি ইন্টারনেটের প্রভাবে কাক, ময়না ও বাবুই পাখি মরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে

ফাইভজি নেটওয়ার্কের রেডিও তরঙ্গের কারণে পাখি মারা যাচ্ছে—এমন দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ ও পাখি সংরক্ষণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইভজি রেডিও তরঙ্গ পাখি মেরে ফেলছে; এমন দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

অর্থাৎ, ওয়াই-ফাই কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের রেডিও তরঙ্গের তীব্রতার কারণে কাক, ময়না ও বাবুই পাখি মারা গিয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

অডুবন সোসাইটির আরেকটি গবেষণায় পাখিদের অস্তিত্বের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আবাসস্থল ধ্বংস ও পরিবেশদূষণও পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।