Coordinated Campaign Uses AI-Generated Content to Falsely Claim a Mohila League Leader Was Tortured

Azaharul Islam
By
Azaharul Islam
7 November 2026

মহিলা লীগের কথিত এক নেত্রীকে বিএনপি নেতার নির্যাতন বলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও ভারতীয় বিভিন্ন সেশ্যাল একাউন্টে একটি ভুয়া ছবি প্রচার করা হচ্ছে।

পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, রাজধানীর মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের নেত্রী শ্রীময়ী রীতা রানীকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী, আওয়ামীগ করা ও সুন্দর হওয়ার কারণে নির্যাতন করা হয়েছে। এই অপরাধে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের লেলিয়ে দেওয়া মব সন্ত্রাসী ফিরোজ জোর করে তার বাসায় ঢুকে নির্মম পাশবিক, বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়! পিটিয়ে তার সারা শরীর রক্তাক্ত করেছে!

সংশ্লিষ্ট থানার অভিযোগ করতে গেলে ওসি বোরকা পরার তাগিদ দিয়েছেন বলেও কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে। 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অফিশিয়াল পেইজ, সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট উইকলি ব্লিটজ এর সম্পাদক সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী, প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা শওকত হোসনে খান, আওয়ামীলীগের পরিচালিত অফিশিয়াল সাপোর্টার্স গ্রুপ সহ অনেকেই পোস্ট করেছেন।

আরও দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।

একই গুজব ভারত থেকে  Basu Bappaditya, হিন্দু ভয়েস সহ বিভিন্ন একাউন্টে প্রায় একই দাবি ছড়িয়েছে। দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। নির্যাতনের দাবিতে ছড়োনো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত

আওয়ামীপন্থী ও ভারতীয় একাউন্টগুলোতে ছড়ানো ছবিটিতে ‘শুভ বার্তা’ নামে একটি লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। শুভ বার্তার লোগোর সূত্র ধরে পেইজটি খুঁজেতে গেলে দেখা যায়, পেইজটির নাম ‘শুভ ইসলাম’। আগের নাম ছিল ‘শুভ বার্তা’।

গত ২৫ অক্টোবর পেইজে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। তবে পোস্টের ক্যাপশনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ নেই। ক্যাপশনে লেখা ছিল, “একজন নারীর পিঠজুড়ে আ/ঘাতের অসংখ্য চিহ্ন—এই দৃশ্য সত্যিই হৃ'দয়বিদারক।একজন নারীর নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

ছবিটির সূত্র জানতে পেইজটির এডমিন নিক্সন আহমেদ শুভ’র সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট।

তিনি জানান, “ছবিটি আমি টিকটক থেকে নিয়েছি। টিকটকের ছবিটা আমার কাছে সেইভ করা আছে। সেটা আমি একটু স্পষ্ট করতে এবং লোগো বসাতে এআই দিয়ে এডিট করেছি।”

এসময় তার কাছে পোস্ট করার আগের সেইভ করা ছবিটি চাইলে দ্য ডিসেন্টের এই প্রতিবেদকের কাছে স্ক্রিনশটসহ ছবিটি পাঠান শুভ।

শুভর পাঠানো ছবিটি যাচাই এআই শনাক্তকারী বিভিন্ন টুলে যাচাই করে দেখা গেছে, ছবিট অপেন এআই ব্যবহার করে সম্পাদনা বা তৈরি করা হয়েছে।

ছবিটি খুঁজতে গিয়ে গত অক্টোবরে বিভিন্ন টিকটক ও ফেসবুক একাউন্টে ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। এসব ছবি এআই শনাক্তকারী টুলসের ফলাফলে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত বলে ফলাফল এসেছে।

ছবি সম্বলিত কয়েকটি পোস্ট দেখুুন এখানে, এখানে ও এখানে।

এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল ভারতে

ছবিটির ফ্রেম হুবহু না মিললেও কাছাকাছি ধরণের একটি ঘটনার খবর পাওয়া যায় ভারতের। গত অক্টোবরে ছবিটি ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছিল, যুবলীগ কর্মীর স্ত্রীকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তখন দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে ঘটনাটি ভারতের বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের শিরোনাম ছিল, “কেরালার কোল্লামে যৌতুকের দাবিতে নববধূকে নির্যাতন, প্রেসার কুকার ও বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর”

এদিকে স্বাধীন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার বলছে, “ভারতের ঘটনার ছবিটি ছবিটি এআই টুলকে পাঠিয়ে বর্তমানে প্রচারিত ছবিগুলো তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়৷”

‘আ.লীগের’ কাল্পনিক নেত্রী রিতা রানীকে খুঁজছে পুলিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা যুব মহিলা লীগের নেত্রী শ্রীময়ী রীতা রানীর পরিচয় নিশ্চিত হতে পুলিশ অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করতে পারেনি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক বিবৃতিতে ডিএমপি জানায়, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জনৈক ফিরোজ কর্তৃক শ্রীময়ী রীতা রানী নামে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ সংবলিত একটি ছবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস.এম. জাকির তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করে দাবি করেছেন যে, এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ কোনো মামলা গ্রহণ করেনি।”

“‎এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিরপুর বিভাগের আওতাধীন সাতটি থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, শ্রীময়ী রীতা রানী নামে কোনো নারী এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে মিরপুর বিভাগের কোনো থানায় উপস্থিত হয়েছেন– এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।”

‎একইসঙ্গে শ্রীময়ী রীতা রানীকে কেউ চিনে থাকলে অথবা তার পরিচয়, অবস্থান কিংবা ঘটনা সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা থাকলে অফিসার ইনচার্জ, মিরপুর মডেল থানা অথবা উপ-পুলিশ কমিশনার, মিরপুর বিভাগ, ডিএমপি-কে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয় বিবৃতিতে।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমাদের থানা এলাকায় এমন ঘটনার বিষয়ে শুনিনি। আমাদের কাছে এই ধরণের কোনো অভিযোগ আসেনি। আমরাও সেই নারীকে খুঁজছি। এখনো সন্ধান পাইনি।”

মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদের প্রথম আলোকে বলেন, “এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন– এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।”

ফিরোজ আহমেদ বলেন, “একেক জায়গায় আমার পরিচয় একেকভাবে দেওয়া হয়েছে। একেবারেই উড়ো একটি খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। আমি বর্বর জগতে বসবাস করি না যে আমার দ্বারা এমন ঘটনা ঘটবে। আমিও চাই প্রকৃত ঘটনার উদ্‌ঘাটন হোক।”