Pro-BNP ‘Disinformation Experts’ Falsely Deny Chief Whip Called for Reining In YouTube and Facebook
ইউটিউব-ফেসবুকের ‘লাগাম টেনে ধরতে’ সরকার সচেষ্ট আছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, ‘‘ইউটিউব ফেসবুক আমাদের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনারা বিশ্বাস করেন কিনা জানি না। তবে এটাই অন্যতম একটা বড় কারণ। আমরা চেষ্টা করব এটার রাশ টেনে ধরতে, লাগাম টেনে ধরতে। এ ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট আছে।"
অথচ তিনি এমন মন্তব্য করেননি দাবি করে সংবাদমাধ্যমের খবরকে মিথ্যা বলেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘বয়ান ও বাস্তবতা’ অনুষ্ঠানের ‘গুজব ও প্রপাগান্ডা বিশেষজ্ঞ’ ইমতিয়াজ মির্জা ও বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের ফোরাম Bangladesh Centrist Activists Network-এর ফ্যাক্ট-চেক অ্যান্ড প্রোপাগান্ডা ট্র্যাকিং ডিরেক্টর এম রাশেদ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর দেওয়া পৃথক ফেসবুক পোস্টে তারা এসব দাবি করেন।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে পাওয়া বক্তব্যের ভিডিওতে নুরুল ইসলাম মনিকে স্পষ্টভাবে ইউটিউব ও ফেসবুকের ‘রাশ টেনে ধরতে, লাগাম টেনে ধরতে’ বলেছেন।
ইমতিয়াজ মির্জা ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন, ‘‘আবরো ফেইক নিউজ ছড়িয়ে ৭ মিনিটের মাথায় ধরা খেলেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। গুজবের দেশ পত্রিকা আর অন্যান্য কিছু চ্যানেলের নিউজে চীফ হুইপের নামে মিথ্যা তথ্য, গুজব আর প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে।’’
তিনি লিখেছেন, ‘‘গুজব ও প্রপাগান্ডা বিশেষজ্ঞের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, চীফ হুইপ কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত বিতর্ক বিষয়ক এফডিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, "সরকারের দলের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা কইরেন না, আপনাদের অনুরোধ করবো, আপনারা অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন সরকার, আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই অশ্লীল ভাষা আমরা বেশীদিন চলতে দিবো না …’’
একই পোস্টে আমার দেশ ও চ্যানেল ২৪-এর বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, সংবাদমাধ্যম দুটি “একটা কথা সম্পূর্ন টুইস্ট করে ফেসবুক আর ইউটুব বন্ধ করা পর্যন্ত নিয়ে গেলো”। এ নিয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি লিখেন, ‘‘কিভাবে এই কথা বলতে পারে "ফেসবুক - ইউটুব বন্ধ করে দিবো", এটা তো লীগ করতে চেয়েছিলো বহুবার। এটা ফ্যাসিস্টের কার্যক্রম। জুলাই আন্দোলন হয়েছেই স্যোসাল মিডিয়া, ইউটুব, ফেসবুক দিয়ে। আজকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাবে বিএনপি সরকার ফেসবুক আর ইউটুব বন্ধ করতে চায়। বলেন এইসব চতুর সাংবাদিক, উদ্ধারকারী জাহাজ, ৭৪ আইকিউর বিরোধী দল, দায়িত্বজ্ঞানহীন দায়িত্বপ্রাপ্তদের লইয়া আমরা কোথায় যাইবো।’’
এদিকে বিএনপিপন্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এম রাশেদ ফেসবুকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোকে মিথ্যা চিহ্নিত করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘উনি কি বলেছে আর মিডিয়া কি লিখেছে তার মধ্যে হাজার হাজার মাইলের পার্থক্য! সেইটা নিয়ে আবার আন্ডারগ্রাউন্ডটানেলপার্টি'র লোকজন ঝাপায় পড়েছে। একদম সাজানো খেলা।’’
ইউটিউব-ফেসবুকের লাগাম টানার কথা বলেছেন চিফ হুইপ
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ইউটিউব ও ফেসবুকের লাগাম টানার কথা বলেছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের মূল সূত্র খুঁজতে গিয়ে ইউটিউবে যমুনা টিভির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নুরুল ইসলাম মনিকে এ কথা বলতে শোনা গেছে।
৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মাথায় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ইউটিউব ফেসবুক আমাদের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনারা বিশ্বাস করেন কিনা জানি না। তবে এটাই অন্যতম একটা বড় কারণ। আমরা চেষ্টা করব এটার রাশ টেনে ধরতে, লাগাম টেনে ধরতে। এ ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট আছে। হোপফুলি আমরা খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবো। এই কিশোররা যাতে এরকম পরিবেশ পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয় এবং তার থেকে যেন খারাপ কিছু শিখতে না পারে।’’
ভুল তথ্য ছড়েয়েছে বিএনপি মিডিয়া সেলও
বিএনপি মিডিয়া সেলের একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ‘‘চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “অশ্লীল ভাষা আর বরদাশত করা হবে না। ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা অপপ্রচার করছে, তাদের লাগাম টেনে ধরা হবে।”
‘‘চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির এই বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। পরবর্তীতে সেই বক্তব্যকে আরও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে গুজব সৃষ্টিকারীরা।’’
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, অশ্লীল ভাষায় কথা বলার বিষয়টি দুইবার উল্লেখ করেছেন চিফ হুইপ। তবে ইউটিউব-ফেসবুকের লাগাম টানার বক্তব্যের অংশের সঙ্গে এই বক্তব্যের সামঞ্জস্য নেই।
মূলত, ইউটিউব ও ফেসবুকের বিষয়টি কিশোর গ্যাংয়ের প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে বলছেন তিনি।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ডিবেট অনুষ্ঠানে চিফ হুইপের বক্তব্যের লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেছে যমুনা টিভি।
ভিডিটির ৪ মিনিট ৬ সেকেন্ডে অশ্লীলতা সম্পর্কে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি সকলের কাছে অনুরোধ করবো, যারা আছেন এবং দেশবাসীর কাছে যে, আপনারা যৌক্তিক সময় দিয়েই কেবল আপনারা কেবল সমালোচনা করবেন । এবং যারা সমালোচনা তারা যেন সেই কাজটি না করে সেদিকে যেন দৃষ্টি রাখে এবং এ ব্যাপারে সরকার একটা কঠোর মেসেজ দিতে চায়। সরকার ভেরি সিরিয়াস। সরকার ভেরি সিরিয়াস। আজকে অশ্লীল ভাষা আমরা দেখি। অশ্লীল কথা শুনি। এই জুলাই আন্দোলনের পরে অশ্লীলতার একটা প্রসার ঘটিয়ে ঘটেছে। আমরা এটা দেখেছি। আমরা চেষ্টা করছি অশ্লীলতা কমাবার জন্য। যারা এতদিন করেছেন, তারা আর করবেন না অনুরোধ করতে চাই। যারা করবেন তারা কিন্তু স্ট্যান্ড মানে পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন ভবিষ্যতে ভবিষ্যতে আর করবেন না। সেট প্রতাশা।’’
একই ভিডিওতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড অশ্লীল ভাষায় কথা বলা নিয়ে চিফ হুইপকে বলতে শোনা যায়, ‘‘... বিএনপির দোষ ছাড়া কিছুই তারা দেখে না…. এটা একটা ষড়যন্ত্র। কাজেই এই সরকারের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা কইরেন না। আপনাদের অনুরোধ করবো, আপনারা অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। বিনয়ের সাথে আপনাদের কাছে বলতে চাই, অশ্লীল ভাষাকে বেশিদিন আমরা চলতে দিব না। আমরা চলতে দিব না এবং সে ব্যাপারে আপনার সাবধান হবেন। অশ্লীল ভাষাকে চলতে দিব না। একই সাথে দায় চাপানোর রাজনীতি আমরা করি না…..।’’
যমুনা টিভিতে ১৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের পুরো আলোচনাটি দেখুন এখানে।