Media Turned a ‘Clash’ Into a ‘Corpse’ and Changed DB Harun’s Clothes
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত দুটি ফোনালাপ নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে দেশের কয়েকটি মূলধারার সংবাদমাধ্যম অডিওতে উচ্চারিত শব্দ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। অডিওতে বক্তার বলা ‘ক্ল্যাশ’ শব্দটি কোন কোন মিডিয়ার রিপোর্টে হয়ে গেছে ‘লাশ’ বা ‘মরদেহ’। আবার আরেক বক্তার বলা ‘ডেস্ক পরিবর্তন’ শব্দ দুটিকে ‘ড্রেস পরিবর্তন’ লিখেছে কোন কোন মিডিয়া। এতে বদলে গেছে ফোনালাপে বলা বক্তব্যের অর্থ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সঙ্গে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপে সংঘাতের খবর প্রচার না করার বিষয়ে কথা হয়।
ফোনালাপে কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর যেন না দেয়।’
এর জবাবে আরাফাত বলেন, ‘আজকে যদি কোনো ক্ল্যাশের (সংঘাত) বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায় (টেলিভিশন চ্যানেলগুলো), ওদেরকে “এনিমি অব দ্য স্টেট” (রাষ্ট্রের শত্রু) হিসেবে ডিক্লেয়ার (ঘোষণা) করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
তবে এই ফোনালাপ নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম আরাফাতের বলা ‘ক্ল্যাশ’ শব্দটিকে ‘লাশ’ বা ‘মরদেহ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
‘ক্ল্যাশ’ হয়ে গেল ‘লাশ’
ফোনালাপে আরাফাতকে টেলিভিশনে ‘ক্ল্যাশের বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি’ দেখালে চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলতে শোনা গেলেও জাগোনিউজ২৪, সংবাদ ও সমকাল ‘লাশের ছবি’, আর খবরের কাগজ ‘মরদেহের ছবি’ হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে। সারাবাংলাও তাদের ফেসবুক ক্যাপশনে ‘লাশের ছবি’ শব্দ ব্যবহার করেছে।
জাগোনিউজ২৪-এর শিরোনাম, ‘কাদের-আরাফাত ফোনালাপ: টিভি চ্যানেলে লাশের ছবি দেখালে জীবনের জন্য বন্ধ করে দেবো’।
প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়েছে, কোনো টেলিভিশন ‘সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা লাশের ছবি’ দেখালে সেটিকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করে সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফোনালাপের উদ্ধৃতিতেও ‘লাশের ছবি’ শব্দটি রাখা হয়েছে।
সমকালের শিরোনামেও ‘লাশ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, “‘টিভিতে লাশের ছবি দেখালে সম্প্রচার স্থায়ীভাবে বন্ধ’”।
প্রতিবেদনের শুরুতেই সমকাল লিখেছে, “তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতকে বলতে শোনা যায়, টিভিতে লাশের ছবি দেখালে সম্প্রচার স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
খবরের কাগজ ‘লাশ’-এর পরিবর্তে ‘মরদেহ’ শব্দ ব্যবহার করেছে। তাদের শিরোনাম, ‘কাদের-আরাফাত ফোনালাপ ‘টিভিতে মরদেহের ছবি দেখালে জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব’।
প্রতিবেদনের ভেতরে লিখেছে, ‘কোনো সংঘর্ষের-মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা লাশের ছবি’ দেখালে টেলিভিশনকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সারাবাংলা তাদের ফেসবুক পেজে অডিও রেকর্ডিং প্রচার করে ক্যাপশনে লিখেছে, “লা/শের ছবি দেখালেই বন্ধ করে দেয়া হবে টিভি চ্যানেল, জুলাইতে ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতের ফোনালাপ|”
‘লাশ’ শব্দটি ব্যবহার করেছে সংবাদও। তাদের শিরোনাম, ‘‘লাশের ভিডিও-ছবি দেখালেই গণমাধ্যম বন্ধ’ : ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপ ফাঁস’।
‘ডেস্ক পরিবর্তন’ হয়েছে ‘ড্রেস পরিবর্তন’
শুধু ‘ক্ল্যাশ’ ও ‘লাশ’ নয়, ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আরেকটি ফোনালাপের একটি শব্দ নিয়েও একই ধরনের বিভ্রান্তি দেখা গেছে।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাইয়ের ওই ফোনালাপে তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদকে দায়িত্ব থেকে সরানো হবে কি না, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা হয়।
কাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘হারুনকে কি সরায়ে দিচ্ছেন?’
জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) তো খুব অ্যাডামেন্ট (অনমনীয়)। আমরা সরাই নাই। উনি বলছিলেন অন্য খানে দিতে। আমি ডিএমপিতেই রেখে দিছি। মানে ডেস্কটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি।’
অডিওতে ‘ডেস্কটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি’ শোনা গেলেও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সেটিকে ‘ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
এখন টিভির ফেসবুক পেজে ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ডিবি হারুনের শুধু ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি’; খান কামালের ফোনালাপ।
জাগো নিউজের ইউটিউব ভিডিওর শিরোনাম, ‘হারুনের ড্রেস বদলে দিচ্ছি, ওবায়দুল DB Harun | Jago News’।
প্রথম আলোর ‘আমি নাই স্যার’, কাদেরকে বলেছিলেন ডিবির সাবেক প্রধান হারুন” শিরোনামের প্রতিবেদনের বর্ণনায়ও কামালের বক্তব্য হিসেবে ‘ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি’ লেখা হয়েছে।
যুগান্তরের প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘যে কারণে হারুনের ওপর বিরক্ত ছিলেন হাসিনা’। প্রতিবেদনের ভেতরে কামালের বক্তব্য হিসেবে ‘ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি’ লেখা হয়েছে।”
যুগান্তরের ‘আমি নাই স্যার’, কাদেরকে বলেছিলেন ডিবির সেই হারুন” প্রতিবেদনের বর্ণনাতেও “ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি” উল্লেখ করা হয়েছে।