Mamunul Haque Did Not Say All Sculptures at the July Memorial Museum Should Have Their Faces Removed
৯ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত ভাস্কর্যের মুখাবয়ব বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার এ বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের কয়েকটির শিরোনামে মামুনুল হকের বক্তব্য বিকৃত করে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সব ভাস্কর্যগুলোর মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম, “Mamunul calls for removing faces from all sculptures at July Museum”।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের ইন্ট্রোতে লেখা হয়েছে, “Bangladesh Khelafat Majlis Ameer Mamunul Haque has called for removing the facial features from all sculptures at the July Uprising Museum, saying their memories and the events should instead be depicted without the faces.”
স্টার নিউজের প্রতিবেদনের শিরোনাম, “জুলাই জাদুঘর থেকে ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান মামুনুল হকের”।
প্রতিবেদনের ইন্ট্রোতেও লেখা হয়েছে, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে থাকা মানুষের ভাস্কর্যগুলোর মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক।”
ভোরের কাগজের প্রতিবেদনের শিরোনামেও বলা হয়েছে, “জুলাই জাদুঘর থেকে ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান মামুনুল হকের”।
এ ছাড়া দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের শিরোনাম, “জুলাই জাদুঘরের ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান মামুনুলের”।
প্রতিবেদনের শুরুতেই লেখা হয়েছে, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে থাকা মানুষের ভাস্কর্যগুলোর মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।”
এসব শিরোনাম থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, মামুনুল হক জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে থাকা সব ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে তার প্রকাশিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নির্দিষ্টভাবে শাপলা চত্বরের শহীদদের মুখাবয়ব বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইউটিউবে “জুলাই জাদুঘরের ভাস্কর্য নিয়ে যা বললেন মামুনুল হক” ক্যাপশনের ভিডিওতে মামুনুল হককে বলতে শোনা যায়,” শাপলার যে শহীদ আমরা তাদের মুখাবয়ব মুখাবয়বকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট যে দৃশ্যগুলো সেগুলোকে চিত্রিত করার জন্য পরামর্শ দিব। সেখানে খুব বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।"
তবে তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন, "আমরা সেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন এবং সংগ্রামের মধ্যে ছিলাম, সেটা হলো ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল যে রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোতে কোনোভাবেই একটি মুসলিম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এইভাবে মানুষের ভাস্কর্য মূর্তি তৈরি করাটা ইসলাম ধর্মের এবং মুসলিম জাতির যে ঐতিহ্য তাদের যে সংস্কৃতি সেটার সাথে মানানসই না।...ইসলামে প্রাণীর যে মুখাবয়ব সেটাকেই মূলত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাজেই সেই জায়গাটুকু যদি একটু ই করে দেওয়া হয়, মুখাবয়বটাকে মুছে ফেলা হয় তাহলে বাকি দৃশ্য সব অথবা বাকি রেপ্লিকা বাকি ভাস্কর্য সেগুলো নিষিদ্ধ হবে না। ভাস্কর্য সেটা প্রাণীর মুখাবয়বটুকু শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে এটার ওপর আপত্তির জায়গা রয়েছে।"
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘all sculptures’ বলা হলেও, একই প্রতিবেদনে মামুনুল হকের বক্তব্য হিসেবে যে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানেও নির্দিষ্টভাবে শাপলা চত্বরের শহীদদের কথা বলা হয়েছে।
সেখানে লেখা হয়েছে, “From that perspective, I suggest removing the facial features of the Shapla Chattar martyrs while portraying their memories and the events,”
ওই প্রতিবেদনের সরাসরি উদ্ধৃতিতেও ‘all sculptures’ বা ‘সব ভাস্কর্য’ কথাটি নেই।
অর্থাৎ, বক্তব্যের বিষয়বস্তু ছিল শাপলা চত্বরের শহীদদের নিয়ে নির্মিত ভাস্কর্য। তিনি জাদুঘরের প্রতিটি ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।