টিকটক প্রতিষ্ঠাতার নামে সূত্রহীন ভুয়া উক্তি প্রচার করলেন জামায়াতপন্থী টকশো আলোচক

The Dissent Desk
লেখক
দ্য ডিসেন্ট ডেস্ক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টিকটক তৈরি করা হয়েছিল ‘মানসিকভাবে অস্থির ও বেকার মানুষদের জন্য’— টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইয়ামিং এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে গত ২৯শে আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতপন্থী টকশো আলোচক আল মামুন রাসেল।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ঝাং ইয়ামিং বলেছিলেন, “TikTok was created only for unstable and jobless people.”

এরপর ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আল মামুন রাসেল বলেন, “আমি টিকটক তৈরি করছি কাজকাম নাই বাদাইম্মা তাদের জন্য। আর আমাদের বাংলাদেশের বেশিরভাগ টিকটক সেলিব্রিটি, ওয়াও।”

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে ঝাং ইয়ামিং এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছেন—এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অন্তত ২০১৯ সাল থেকে অনলাইনে ছড়িয়ে আসা এই দাবিকে এর আগেও একাধিক ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে।

রিউমর স্ক্যানার ২০২৩ সালের ১৮ই জুন প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে জানায়, ঝাং ইয়ামিং এমন মন্তব্য করেছেন বলে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বক্তব্যটি তার নামে প্রচার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এবং ভারতে টিকটক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরূপ মনোভাবের প্রেক্ষাপটে দাবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত সরকার ২০২০ সালে টিকটকসহ বেশ কয়েকটি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে।

এই প্রেক্ষাপটেই ঝাং ইয়ামিংকে উদ্ধৃত করে টিকটক তৈরির উদ্দেশ্য এবং ভারতীয় ব্যবহারকারীদের নিয়ে ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Republic World-ও ২০২০ সালে এ বিষয়ে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের যাচাইয়েও ঝাং ইয়ামিংয়ের নামে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভারতের আরেকটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান Newschecker-ও একই দাবিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অর্থাৎ, ঝাং ইয়ামিং টিকটককে ‘মানসিকভাবে অস্থির ও বেকার মানুষদের জন্য’ তৈরি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আল মামুন রাসেল বলেন, “ভাই, এটাতে অনেক জায়গায় এটার ইয়ে আছে। এটা অনেক জায়গা থেকে পাওয়া। পরবর্তীতে এটা নাকি ইয়ে হয়েছে যে, এটা তার ভাষ্য না। বাট এটা অনেক দিন ধরে ভারতে এবং বিভিন্ন দেশে এটার প্রচলন ছিল যে, সে এটা বলেছে। সেই আলোকেই বলা আরকি। আপনি দেখেন, অনলাইনে পাবেন।”