Dubious Website Publishes Statement Backing Pro-Awami League DU Teachers
গতকাল রোববার (২ আগস্ট) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস “ঢাবির তিন শিক্ষক বরখাস্তে যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পলিসিগভ ইউকে’-এর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।”
প্রতিবেদনে পলিসিগভ ইউকে-এর বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ অবশ্যই আইনি, স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে।”
একইদিন আমেরিকা বাংলা নামক একটি ওয়েবসাইটে এই বিবৃতির খবর প্রকাশ করা হয়েছে “ঢাবির শিক্ষক বরখাস্তে নতুন মোড়! স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাজ্যের” শিরোনামে।
অনলাইনে সার্চ করে পলিসিগভ ইউকে ওয়েবসাইটে “PolicyGov UK Calls for Fair and Transparent Procedures Following Suspension of Dhaka University Professors” শিরোনামে প্রকাশিত একটি বিবৃতি পাওয়া যায়।
বিবৃতির শেষাংশে পলিসি গভ ইউকে’র একটি ঠিকানা এবং দুজনের নাম উল্লেখ আছে। একজনের নাম, সঞ্জয় কুমার রয় এবং আরেকজনের নাম, তানভীর আহমেদ।

এই দুজনের নাম পলিসিগভ ওয়েবসাইটের “Our Co-Founders” সেকশনেও পাওয়া যায়। সেখানে তাদের উভয়কেই প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পলিসি গভ ইউকে’র ওয়েবসাইটে “Our People” নামক একটি ট্যাব রয়েছে যেখানে ক্লিক করলে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম ও ছবি দেখা যায়। এসব নামের মধ্যে বাংলাদেশের বিশেষভাবে সুপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নাম রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের নাম সেখানে রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের আরেক সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ, যিনি বর্তমানে ডেইলি ওয়াদাতে কর্মরত, তার নামও দেখা যায়। একই তালিকায় লুবনা ফেরদৌসি নামে একজন বাংলাদেশি একাডেমিক ব্যক্তিত্বের নামও পাওয়া যায়।
এই সেকশনে আরও দেখা যায় আমিনুল হক পলাশের নাম। তিনি পলাতক পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (NSI)-এর হয়ে ভারতের বাংলাদেশি দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক এবং বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সেখানে বসে আওয়ামী লীগের পক্ষে পক্ষে ডিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন চালানোর অভিযোগ আছে আমিনুলের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে হাসিনার আমলে বুয়েটে পড়ার সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর নীপড়নের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এ নিয়ে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ও ভুক্তভোগীরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে এই তালিকায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের নাম দেখে দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদক বিষয়টি যাচাই করতে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ডেভিড বার্গম্যান এবং মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
মাহফুজ আনাম জানান, তিনি জীবনে এই প্রতিষ্ঠানের নাম শোনেননি এবং এর সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নন।
ডেভিড বার্গম্যান দ্য ডিসেন্ট-কে জানান, তার নাম এই ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
তবে তিনি আরও জানান, সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে একটি ওয়েবিনারে অংশগ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।
একইভাবে, ডেইলি ওয়াদার সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহও জানান, তিনি জানেন না কীভাবে তার নাম এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
নাম রয়েছে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী আব্বাস ফয়েজসহ মোট ১৭ জনের। এর মধ্যে ওয়েবসাইটটির উদ্যোক্তাদের একজন বাংলাদেশি ব্রিটিশ সাংবাদিক তানভীর আহমেদের নামও রয়েছে।
ওয়েবসাইটে এদের প্রত্যেকের নামের প্রোফাইলে ক্লিক করলে অন্তত একটি করে লেখা পাওয়া যায়। যেমন, মাহফুজ আনামের নামের প্রোফাইলে ক্লিক করলে “Politicians must be open to accepting electoral defeats" শিরোনামে একটি লেখা পাওয়া যায়। লেখাটি ৭ ফেব্রুয়ারি সেখানে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে মূলত আওয়ামী লীগের নির্বাচন অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পলিসি গভ ইউকে’র ওয়েবসাইটে মাহফুজ আনামের লেখাটি এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যেন এটি তিনি এই ওয়েবসাইটের জন্য বিশেষভাবে লিখেছেন।
তবে লেখাটির শিরোনামে গুগলে সার্চ করে দেখা গেছে এই লেখা ৬ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারে মাহফুজ আনামের নামেই প্রকাশিত হয়েছিল; যা পলিসি গভ ইউকে'তে উল্লেখ নেই।
একই ব্যাপার দেখা গেছে ডেভিড বার্গম্যানসহ অন্যান্যদের বেলায়েও। তাদের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত লেখা পূর্বের প্রকাশনার কথা উল্লেখ করা ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা তানভীর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট জানতে চায়, মাহফুজ আনাম, ডেভিড বার্গম্যান বা মাসুম বিল্লাহর নাম ও ছবি তাদের ওয়েবসাইটে ‘Our People’ সেকশনে তাদের অনুমতিতে উল্লেখ করা হয়েছে কিনা? বা প্রতিষ্ঠানটির সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা? এছাড়াও তাদের সূত্রহীন লেখা ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়েও জানতে চাইলে তানভীর দ্য ডিসেন্টের অফিসিয়াল ইমেইল ঠিকানা চান এবং জানান যে, তিনি ইমেইলের মাধ্যমে জবাব দেবেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর মাহফুজ আনাম এবং ডেভিড বার্গম্যানে নাম ও ছবি কোন ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াই ওয়েবসাইটটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পলিসি গভ ইউকে’ নামক প্রতিষ্ঠানটি ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে লন্ডনের স্ট্যাটফোর্ড শহরের একটি ঠিকানায় রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।