100 YouTube Videos Spread False News About Farooqui and Tisha, Drawing 15 Million Views

11 October 2026

এটিএন নিউজের মতো হুবহু থাম্বনেইল। লোগোটাও একই রকম। থাম্বনেইলে ৩টি ছবি। দু’টি ছবিতে  ফারুকী-তিশা দম্পতি বেশ হাস্যোজ্বল, একটিতে কাঁদছেন তিশা। ক্যাপশনে লেখা, ‘ডিভোর্সের পর অভিনেত্রী তিশা লাইভে এসে কেঁদে কেঁদে কি বলছে দেখুন!’। আর থাম্বেনেইলে লেখা হয়েছে, ‘প্রতি রাতেই ফারুকী আমাকে বিদেশে বাড়ির জন্য বাচ্চার সামনে পিটায়’। ভিডিওটি এ পর্যন্ত দেখেছেন প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ। কমেন্ট করেছেন ৩৪৬ জন।

প্রথম দেখায় মনে হবে ভিডিওক্লিপটি এটিএন নিউজের। কিন্তু তা নয়, ক্লিপটি ইউটিউবে আপলোড দেওয়া হয়েছে ‘এটিআর নিউজ’ নামক একটি চ্যানেল থেকে।

চ্যানেলটি ক্রিয়েট করা হয়েছে চলতি মাসের ৫ তারিখ। এ পর্যন্ত চ্যানেলটিতে ৭টি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি ভিডিওই ফারুকী-তিশা দম্পতিকে নিয়ে।

ভিডিওগুলোর থাম্বেনেইল এবং ক্যাপশনে ব্যবহার হয়েছে চটকদার ছবি ও মনগড়া তথ্য। উপরে বর্ণিত ভিডিওটি ওই চ্যানেলে আপলোড হওয়া প্রথম ভিডিও। দ্বিতীয় ভিডিওটি আপলোড হয় গত ৮ অক্টোবর। যার ক্যাপশন, ‘ডিবোর্সের পর লাইভে মেয়ে ইলহামে জন্য কাঁদছেন তিশা! ফারুকী আমার মেয়েকে আটকে রাখছে!’ 

তৃতীয় এবং চতুর্থ ভিডিওর ক্যাপশন যথাক্রমে, ‘আমার ২০০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে তিশা! লাইভে এসে সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস করলেন ফারুকী!’ এবং ‘জনগণের ২০০ কোটি টাকা প্রচার করছে ফারুকী! সব গোপন গোপন তথ্য ফাঁস করলেন তিশা!’

শুধু ‘এটিআর নিউজ’ নয়, এমন অন্তত ২৫টি ইউটিউব চ্যানেল খুঁজে পেয়েছে দ্য ডিসেন্ট যেগুলো থেকে শেষ ৫ দিনে শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা দম্পতি নিয়ে মনগড়া ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ১০০ এর বেশি কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কন্টেন্ট ৪৫ লাখ বার ভিউ হয়েছে। কয়েকটি দেখা হয়েছে ১০ লাখ বার করে। দ্য ডিসেন্টের হিসাব মতে, এই ১০০টি কন্টেন্ট মোট দেড় কোটি বারের বেশি দেখা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফারুকী-তিশা দম্পতিরর সংসার ভাঙন, বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য কলহ, মারধর, এমনকি ফারুকীর মৃত্যু বা গ্রেপ্তারের মতো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবিই ছিল এসব কন্টেন্টের উপজীব্য বিষয়। যা মূলত শুরু করেছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা পেইজ ইনফোবাংলা। 

চ্যানেলগুলো সেনসেশনাল বা চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে মূল ধারার বিভিন্ন চ্যানেলের লোগো ও থাম্বনেইল, ডিপ ফেইক এআই অডিও-ভিডিও, কাটপিস ভিডিও, বিভিন্ন সময়ের টকশো ও প্রেস কনফারেন্সের ক্লিপ দিয়ে বানানো হয়েছে এসব ভিডিও। 

অপপ্রচারের শুরুটা যেভাবে

গত ৫ অক্টোবর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রোপাগাণ্ডা সাইট ইনফোবাংলা বানোয়াট তথ্য সম্বলিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যার শিরোনাম ছিল, ‘​অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্ব ; ভাঙল ফারুকী-তিশার সংসার’। 

প্রতিবেদনে দাবি হয়, ‘‘শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে তৈরি হওয়া পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ফারুকীকে ডিভোর্স দিয়ে দেশে ফিরেছেন তিশা। বর্তমানে তিনি তার মায়ের বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ​ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে নতুন একটি বাড়ি কেনেন মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। এর পরপরই অস্ট্রেলিয়ায় তিশার নামে থাকা বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তবে নিজের নামে থাকা সেই বাড়িটি বিক্রি করতে সম্মত ছিলেন না তিশা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ও তীব্র বাদানুবাদ চলে আসছিল।”

নির্ভরযোগ্য কোনো সুত্র বা প্রমাণ উল্লেখ না করে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাইটটি। 

এরপর সেই প্রতিবেদনের সুত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করেন কার্যক্রম আওয়ামীপন্থি এক্টিভিস্টরা। এমনকি কোনো কোনো সাংবাদিকও যোগ দেন এই ক্যাম্পেইনে। 

 যদিও যাচাই করে এমন তথ্যের সত্যতা পায়নি দ্য ডিসেন্ট। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, ‘‘এমন খবরটি একদম মিথ্যা।”

তিনি কৌতুক করে বলেন, “এই যে অস্ট্রেলিয়ায় যে বাড়িগুলো, এগুলো তাড়াতাড়ি আমাকে দেওয়া হোক। কামাই করে তো আর সেখানে বাড়ি কিনতে পারব না, যদি এভাবে ফাও পাওয়া যায়। এই গুজববাজেরা যেন দ্রুতই বাড়িগুলো আমাকে দিয়ে দেয়।”

চটকদার শিরোনামে ২৫ চ্যানেলে ১০০ ভিডিও, দেড় কোটি ভিউ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রোপাগাণ্ডা সাইট থেকে ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা নিয়ে ক্যাম্পেইন করেন আওয়ামীপন্থীরা। এরপর গত ৫ দিনে একই মনগড়া ও বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করে চটকদার শিরোনাম আর বাহারি থাম্বনেইলে ২৫টি ইউটিউব চ্যানেল থেকে অন্তত ১০০টি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওগুলোর ভিউ সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় দেড় কোটিবার এসব কনটেন্ট দেখা হয়েছে। 

কয়েকটি ভিডিওর ক্যাপশন দেওয়া হলো– “ডিভোর্সের পর অভিনেত্রী তিশা লাইভে এসে কেঁদে কেঁদে কি বলছে দেখুন!”

“শরীরে ক্ষতের দাগ নিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদের কারন জানালেন তিশা।”

“এবার ভাঙ্গলো তিশা ফারুকীর সংসার, লাইভে তিশার ডিভোর্স নিয়ে কি উপদেশ দিলো ওমরসানি দেখুন।”

“ফারুকির সংসার আর করবেন না তিশা, তিশার অভিযোগ, ম/দ খেয়ে মা/তা/ল হয়ে ফারুকী "আমাকে মা/র/ধ/র করে।”

“ফারুকী আমাকে ক্ষমা করে দাও! লাইভে এসে নিজের দোষ শিকার একি বললেন তিশা, সংসার ভাঙ্গার পর লাইভে এসে অভিনেত্রী তিশা কেঁ'দে কেঁ'দে কি বলছে ভিডিও দেখুন!!”

“সন্তানের সামনেই মারধরের অভিযোগ ফারুকীর বিরুদ্ধে! মুখ খুললেন তিশা”।

“বিচ্ছেদের পর গ্রেফতার ফারুকী, তিশাকে ডিভোর্স দেওয়ার কারনে ফারুকীর গোপন ভিডিও ফাঁস করলো তিশা।”

“তিশা ফারুকিকে ডিভোর্স দেওয়ায় হার্ট এটাকে মারা গেল ফারুকি।”

আছে ফারুকীর আটক ও মৃত্যুর খবরও

যমুনা টিভির লোগো হুবহু কপি করে Jamuna Showbiz নামে একটি চ্যানেল খোলা হয়েছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর। সেই চ্যানেলে ফারুকী-তিশা দম্পতি নিয়ে চটকদার শিরোনামে দুটি কনটেন্ট আপলোড দিয়েছে। একটিতে লেখা হয়েছে, ‘নারী ক্যাসিনো তে আসক্ত ফারুকী তিশার উপর শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন করতো’, আরেকটি শিরোনাম ছিল, ‘ডিভোর্সের পর লাইভে এসে মেয়ে ইলহামের জন্য কাঁদলেন তিশা | ফারুকী আমার মেয়েকে আটকে রেখেছে’। দুইটি ছবির থাম্বনেইলে ফারুকিকে আটকের এআই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। 

ফারহান টিভি নামক একটি চ্যানেলে এমন দুটি কনটেন্ট আপলোড দেওয়া হয়েছে। একটিতে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘তিশা ফারুকিকে ডিভোর্স দেওয়ায় হার্ট এটাকে মারা গেল ফারুকি’। থাম্বনেইলে এআই দিয়ে ফারুকীর মৃত অবস্থার একটি যুক্ত করা হয়েছে। 

আরেকটি কন্টেন্টের থাম্বনেইলে লেখা হয়েছে, ‘তিশাকে ডিভোর্স দেওয়ায় গ্রেফতার ফারুকী’। 

কাটপিস ভিডিওই এসব কন্টেন্টের সম্বল

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফারুকী-তিশা দম্পতিরর সংসার ভাঙন, বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য কলহ, মারধর, এমনকি একজনের মৃত্যু বা গ্রেপ্তারের মতো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবিই ছিল এসব কন্টেন্টের উপজীব্য বিষয়। 

সাথে ভিজুয়ালাইজেশনের ক্ষেত্রে ফারুকী তিশার বিভিন্ন টকশো, ফেসবুক লাইভ কিংবা প্রেস কনফারেন্সের কাটপিস ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে। 

অভিনেত্রী তিশার কান্নার একটি ভিডিও ব্যবহার হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যেটি ছিল মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘রাঙা সকাল’ শো -এর। ২০২৪ সালের ১৯ জুন এই ক্লিপের পূর্ণাঙ্গ ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে মূলত তিশা তার বাবার মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদদেছিলে। সেই অংশটি কাটপিস করে ওইসব কন্টটেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যমের লোগো-থাম্বনেইলের ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও

ফারুকী-তিশা দম্পতিকে নিয়ে বানানো এসব কনটেন্ট মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করতে কন্টেন্টের থাম্বনেইলে যুক্ত করা হয়েছে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের লোগো ও থাম্বনেইল। এমনকি একটি চ্যানেল দেশের জনপ্রিয় নিউজ প্রেজেন্টারদের ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে ব্যবহার করেছে এসব কন্টেন্টে।

ফারহান টিভি নামক চ্যানেলটি তাদের দুইটি কন্টেন্টে যমুনা টিভির নিউজ প্রেজেন্টার আহমেদ রেজা এবং মাসুম রাব্বির ডিপফেক ডিডিও বানিয়ে যুক্ত করেছে তাদের কন্টেন্টে।

বিশ্বাসযোগ্য করতে অন্যান্য তারকাদের নামের অপব্যবহার

শুধু সংবাদমাধ্যমের লোগো কিংবা নিউজ প্রেজেন্টারদের ডিপফেক ভিডিওই নয় ফারুকী-তিশা দম্পতিকে নিয়ে বানানো এসব কনটেন্ট মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করতে যুক্ত করা হয়েছে অন্য তারকাদের নামও।

স্টার বাংলা নামক একটি চ্যানেলের একটি কন্টেন্টে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘লাইভে তিশার ডিভোর্স নিয়ে কি উপদেশ দিলো ওমরসানি দেখুন’

বাংলা টাইমস নামক আরেকটি চ্যানেলে একটি কন্টেন্টের শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘ফারুকী ও তিশার বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন ওমর সানি, ভিডিও কলে কী বললেন?’ 

অথচ ভিডিওতে দেখা গেলো ওমর সানি ফারুকী-তিশা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি ভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

এছাড়াও কিছু কন্টেন্টে অভিনেত্রী পূজা চেরি ও অরুণা বিশ্বাসের নামও যুক্ত করা হয়েছে। 

বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ দর্শক

এসব কন্টেন্টে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ দর্শকরা। দ্য ডিসেন্ট অন্তত তিন হাজার কমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ৯০ শতাংশ দর্শক তা সত্য ধরে কমেন্ট করেছেন। 

Celebrity News BD নামক একটি চ্যানেলের ‘শরীরে ক্ষতের দাগ নিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদের কারন জানালেন তিশা’ শিরোনামে একটি কন্টেন্টে ভিউ হয়েছে সাড়ে চার মিলিয়ন। সেখানে কমেন্ট করেছেন ১৫০০ এর বেশি মানুষ।

সাহালি আহমেদ নামক একজন লিখেছেন, ‘‘সারা জীবন দেখলাম কি আর এখন দেখছি কি তিশা সব পুরুষের বুকের কাপন ধরিয়ে দিতো তার অভিনয় দেখিয়ে, তারা মানুষ কে ভালোবাসা শিখায় এখন তাদের নিজের ঘরে ভালোবাসা নেই এদের হিসেবে আমরা হাজার গুন সুখী মানুষ আলহামদুলিল্লাহ’’

মো. আলমগীর নামক একজন লিখেছেন, ‘‘এই জগতে যারা থাকে তাদের একজন কখনো সব সময় ভালো লাগেনা। নানান জনের সাথে মিশে তো তাই জীবনে স্থায়ী সুখ আসে না’’

ইউসুফ নামক এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘‘নারী নির্যাতনের মামলা হোক আমি নিশার পক্ষে আছি।’’


যা বলছেন ফারুকী

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন এবং জুলাই-পরবর্তী সরকারের মধ্যে যারা জুলাইকে আপহোল্ড করতে চেয়েছেন, তাদেরকে নিয়ে যেভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে ইতিহাস রচনা করছে – যেমন বললেন যে আমাকে প্রায় মেরেই ফেলেছেন – এই ধরনের ইতিহাস তৈরির একটি বিরক্তিকর দিক তো আছেই। তবে আমার ধারণা, সাধারণ মানুষ এগুলো বোঝে।”

তিনি বলেন, “এর একটা ভালো দিক হলো, যে নতুন প্রজন্মকে আমরা ‘জেন জি’ বলছি, তারা এখন বুঝে যাবে যে আওয়ামী লীগের লোকজন আসলে কী ধরনের মিথ্যাচার করতে পারে এবং কী ধরনের গল্প বানাতে পারে। এটা বুঝে যাওয়ার ফলে নতুন প্রজন্ম এখন সন্দেহ করবে যে, এখনকার আওয়ামী লীগের পূর্বপুরুষেরা মুক্তিযুদ্ধের নামে যে ইতিহাস বলে এসেছিল, সেটা মূলত আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এখানে উল্লেখ করতে হবে যে, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে, যা আমরা সবসময় বলে আসছি।”

“এখন জুলাইয়ের পর তারা আমাদের সবাইকে নিয়ে যে নতুন করে ইতিহাস বানাচ্ছে এবং গল্পের আসরে যে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ জমাচ্ছে, তা দেখে এই নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারবে যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নামে কী পরিমাণ ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ প্রসব করেছে। এর ফলে একটা লাভ হবে—পরবর্তী প্রজন্ম আওয়ামী ইতিহাসকে ফিল্টার করে বা ছেঁকে, তারপর সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেখবে”, বলেন ফারুকী।